আমিরের আগুন ঝরা বোলিংয়ে ফাইনালে খুলনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মঙ্গলবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নাজমুল হোসেন শান্তর তান্ডব চালানো ব্যাটিং আর মোহাম্মদ আমিরের আগুন ঝরানো বোলিং এর উপর ভর করে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মুশফিকুর রহিমের খুলনা টাইগার্স। খুলনার ক্রিকেটারদের ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সামনে দাঁড়াতেই পারল না রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে মোহাম্মদ আমিরের আগুন ঝরানো বোলিং এর সামনে একেবারে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে আবারো রান খরা দেখা দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে ১৪৪ রান করেছিল ঢাকা প্লাটুন। আর দ্বিতীয় ম্যাচে শান্তর ঝড়ের পরও ১৫৮ রানের বেশি করতে পারেনি খুলনা। কিন্তু খুলনার বোলারদের দাপটের কাছে সে রান যেন পাহাড় সমান পরিণত হয়েছিল রাজশাহীর সামনে। সে পাহাড়ে আর চড়া হয়নি রাজশাহীর। একের পর এক উইকেট হারাতে থাকা রাজশাহী পারেনি প্রয়োজনীয় রান রেটের সাথে তাল মিলিয়ে ছুটতে। ফলে খুলনার কাছে হারতে হয়েছে ২৭ রানে। যদিও এই হারেও ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি রাজশাহী রয়্যালসের। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মুখোমুখি হবে রাজশাহী রয়্যালস। সে ম্যাচে জিতলে ফাইনালের টিকিট পেয়ে যাবে রাজশাহী। আর হারলে বিদায় জানাতে এবারের বিপিএলকে। তবে এবারের বিপিএলে দারুণ ছন্দে থাকা খুলনা শেষ পর্যন্ত সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলে। লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার এক নম্বরে থাকা রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে থাকা খুলনা। মুশফিকের দল এখন অপেক্ষা করছে ফাইনালে তাদের সামনে আসে কোন দল। রাজশাহী নাকি চট্টগ্রাম। যার নিস্পত্তি হবে আগামীকাল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে। টসে হেরে ব্যাট করতে নামা খুলনা টাইগার্সের শুরুটা ভাল হয়নি। দলের খাতায় ১৫ রান যোগ হতেই মোহাম্মদ ইরফানের সুইংয়ে বিভ্রান্ত হয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মেহেদী মিরাজ। সে ওভারের পঞ্চম কলেই রানের খাতা খোলার আগে ফিরেন রাইলে রুশো। ১৫ রানে দুই উইকেট নেই খুলনার। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে জুটি বাঁধেন শামসুর রহমান শুভ। দুজন মিলে ৭৮ রানের জুটি গড়েন। ৩১ বলে ৩২ রান করা শামসুর রহমানকে ফেরান রবি বোপারা। এরপর আগের ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করা নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। কিন্তু এবার আর ঝড় তুলতে পারলেন না মুশফিক। ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাকে। তবে ফিরে যাওয়ার আগে ১৬ বলে ২১ রান করেন আগের ম্যাচে দারুণ খেলা মুশফিক। এরপর একপ্রান্ত আগলে রাখা শান্ত দলকে টানতে থাকেন নজিবুল্লাহ জাদরানকে নিয়ে। এ জুটিতে আসে ২৩ রান। শেষ ওভারে আন্দ্রে রাসেলের ওভার থেকে শান্ত এবং জাদরান তুলে নেন ২২ রান। ফলে খুলনা টাইগার্সের স্কোর গিয়ে দাড়ায় ১৫৮। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করা শান্ত গতকাল অপরাজিত ছিলেন ৭৮ রান করে। তার ৫৭ বলের ইনিংসটিতে ৭টি চার এবং ৪টি ছক্কার মার ছিল। রাজশাহীর পক্ষে সফল বোলার ছিলেন ১৩ রানে ২ উইকেট নেওয়া মোহাম্মদ ইরফান।
১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় রাজশাহী রয়্যালস। ইনিংসের তৃতীয় বলেই রাজশাহীর সবচাইতে সফল ব্যাটসম্যান লিটন দাশকে সরাসরি বোল্ড করে ফেরান মোহাম্মদ আমির। চতুর্থ ওভারে বল করতে এসে আবার মোহাম্মদ আমিরের আঘাত। এবার তার শিকার আরেক ওপেনার আফিফ হোসেন। উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন আফিফ। ১০ বলে ১১ রান করেন এই ওপেনার। ২২ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে দারুণ চাপে তখন রাজশাহী রয়্যালস। একই ওভারে আবার আঘাত মোহাম্মদ আমিরের। এবার তার শিকার অলক কাপালি। স্লিপে শামসুর রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন কাপালি। রানের খাতা খোলা হয়নি এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের। পরের ওভারে এবার আঘাত হানলেন রবি ফ্রাইলিংক। রাইলে রুশোর দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত করে এই প্রোটিয়াস বোলার ফেরান ইংলিশ ব্যাটসম্যান এবং রাজশাহীর অন্যতম সেরা ভরসা রবি বোপারাকে। ১ রান করেছেন বোপারা। ২৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে এক রকম খাদের কিনারায় রাজশাহী রয়্যালস। সে অবস্থা থেকে দলকে টানতে পারেননি অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেলও। মোহাম্মদ আমিরের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে রাইলে রুশোর আরো একটি দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে ফিরেন রাসেল। আমির তুলে নিলেন চতুর্থ উইকেট। রানের খাতা খুলতে পারলেন না রাসেল। বল হাতেও ব্যর্থ রাসেল ব্যাট হাতেও হলেন চরম ব্যর্থ। পঞ্চম উইকেট তুলে নিতে পারতেন আমির সে ওভারেই। কিন্তু শোয়েব মালিকের ক্যাচটা ফেলে দেন খুলনার ফিল্ডাররা। ইনিংসের অষ্টম ওভারে বল হাতে নিয়েই আঘাত হানেন শহীদুল ইসলাম। তিনি ফেরান ফরহাদ রেজাকে। ৩৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে হারের ক্ষণ গননা করছিল রাজশাহী রয়্যালস। এরপর লড়াই বলতে যা বুঝায় তা একাই করে গেছেন অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক। ৫০ বলে ৮০ রান করে আউট হন তিনি। তার আগে ১০টি চার এবং ৪টি ছক্কা হাঁকান এই পাকিস্তানী অলরাউন্ডার। ১৭.৫ ওভারের মাথায় আমিরের বলে তিনি ক্যাচ তুলে দেন রহমানুল্লাহ গুরবাজের হাতে। এ সময় দলীয় রান ছিল ১১১। তার আউটের পরেই রাজশাহীর আশা ফিকে হতে থাকে। তার আগে অবশ্য ১৭.২ ওভারে তাইজুলও ফিরে গিয়েছিলেন ১২ রান করে আমিরের বলে। ফ্রাইলিংকের ক্যাচে পরিণত হয়েছিলেন তাইজুল। এ জুটি ৭৪ রান যোগ করে আশা দেখিয়েছিল রাজশাহীকে। মোহাম্মদ আমির ৪ ওভার বল করে ১৭ রান দিয়ে ৬টি উইকেট লাভ করেন। যা বিপিএলের ইতিহাসে এ যাবত সেরা বোলিং ফিগার। আমিরের কোটা শেষ হলে বাকি কাজটুকু সারেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি তুলে নেন আবু জায়েদ এবং মোহাম্মদ ইরফানের উইকেট। কামরুল ইসলাম রাব্বি অপরাজিত থাকেন ১১ রানে। ১৩১ রানে শেষ হয় রাজশাহীর ইনিংস। ম্যাচ সেরা হন মোহাম্মদ আমির।

x