আমার শিশু ফুলের মতো হেসে ফুটুক

অভি ওসমান

মঙ্গলবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:২০ পূর্বাহ্ণ

আজকাল বাচ্চাদের পড়ালেখা নিয়ে বাবা-মায়েদের বাড়াবাড়ি দেখে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বুঝতে পারছি না আমি আমার বাচ্চাদের নিয়ে কি করব! চারপাশে দেখছি সচেতন অভিভাবকগণ তাদের কচিকাঁচা সোনামণিদের লেখাপড়া নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। প্লে গ্রুপে পড়ুক আর যে গ্রুপেই পড়ুক গোল্ডেন এ প্লাস দরকার।তোতাপাখির মতো মুখস্থ করে লিখুক, দেখে দেখে লিখুক কিংবা প্রশ্নপত্র আউট করে নকল করেই লিখুক গোল্ডেন এ প্লাস চাই-ই চাই। চারদিকে আজ গোল্ডেন এ প্লাস পাবার হাহাকার। প্রয়োজন নেই মানুষ হবার! আমি একজন শিক্ষক, অভিভাবকও। খুব কাছ থেকে দেখছি শিশুদের দারুণ সকরুণ মুখ।তাদের মাঝে আজ বাল্যকালের স্বাভাবিক গতি নেই। নেই প্রাণচাঞ্চল্যতা। তারা আজ ফুল-পাখিদের ডাকে সাড়া দিতে জানে না। পুকুরে সাঁতার কাটতে জানে না। প্রাণখুলে হাসতেও জানে না। তাদের চোখে-মুখে আজ গোল্ডেন এ প্লাস এর বিবর্ণ ছাপ। অভিভাবকগণের আর একটি কঠিন স্বপ্ন তাদের পোষ্যকে নামি-দামি কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো। এ আরেক নিঠুর খেলা! স্বাভাবিক পড়ালেখা বাদ দিয়ে কিছু মানিমেকার অবিবেচক রোবটিক কোচিং শিক্ষকদের দুয়ারে ধর্ণা দেন তারা দিনের পর দিন। হাঁটতে শেখা শিশুকে ঠেলে দেন জীবনের কঠিনতম যুদ্ধে। ভর্তি হতে পারলে সে কি রাজ্যজয়ের আনন্দ! আর না পারলে রাজ্য হারানোর চরম বিষাদ! জিতুক বা হারুক সে তার স্বাভাবিক ধারা হারিয়ে ফেলে। এমনও দেখেছি কোন কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারী সন্তানকে তার প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অধিকতর নামি-দামি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে পারলে নিজেদেরকে খুব বেশি ধন্য মনে করেন! কোমলমতি শিশুদেরকে নিষ্পেষিত করার আরেকটি প্রক্রিয়া তথাকথিত মেধাবৃত্তি। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠেছে এসব মেধাবৃত্তি প্রকল্পগুলো।বাহারি নামে আর ছটকদার সব বিজ্ঞাপনে ঢাকঢোল পিঠিয়ে চলছে মেধাবৃত্তি প্রদান নামক অভিনব ব্যবসা। এক শ্রেণির অতি উৎসাহি অভিভাবক এসব টোপ গিলছেন আর তার প্রিয় সন্তানটিকে ঠেলে দিচ্ছেন চরম ভুল পথে।মনে রাখতে হবে চারদিকে নিজের শিশুটিকে জাহির করতে যাওয়া মানে শিশুটিকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেয়া।কিন্তু কে শুনে এসব নীরস কথা! হায়রে আধুনিক শিক্ষা তুমি আজ বড়ই পু্‌ঁজিবাদী। অভিভাবকগণ আজ তোমার কেনা গোলাম। শিশুরা তোমার চাপে নির্যাতিত, নিপীড়িত!

x