আমাদের মিলন দা

জিললুর রহমান

শুক্রবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
18

লেখাটা নিতান্তই স্মতিচারণা এবং ব্যক্তিক অনুভূতির। তাই এর মধ্যে সাহিত্য মূল্য খুঁজতে গিয়ে আমাকে বিপাকে ফেলারও কোন কারণ নেই। শুরুটা তবে শুরু থেকেই হোক। আমি তখন বিশ বছরের তরুণ, সবে কবিতা লেখার অপচেষ্টাকে ছাপার অক্ষরে সন্নিবেশ করছি, যে কোন ভাবেই হোক জমে যাই বোস ব্রাদার্স এর সাপ্তাহিক আড্ডায়। আমরা তরুণ কিছু সুনাম সন্ধানী-কবিতা, গল্প ইত্যাদির চর্চাকারী এবং বেশ কিছু নাট্যকর্মী। বলতে হয় আলী শাহ্‌-র কথা। যার বন্ধুবাৎসল্য ছাড়িয়ে গিয়েছিলো তার গল্প,-উপন্যাস, লিখিত নাটক ইত্যাদি পড়ার অভ্যেস করেছি। কিন্তু পারিবারিক পরিবেশ না থাকায় কিংবা বলা যায় সুযোগ না পাওয়ায় কবিতা লিখেছি কেবল ঘরে বসে-কিন্তু কখনো নাটক থিয়েটারে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই নিতান্ত পুঁথিগত বিদ্যার আলী শাহ্‌ আামাকে সুযোগ করে দেয় নিয়মিত নাটক দেখার। প্রতি বছর নাট্যোৎসবের শুরুতে একতোড়া ‘সিজন টিকেট’ এনে আমার হাতে দিতো। আর দেখা শেষে আমার পিছনে রীতিমতো উঠে পড়ে লাগতো একটা লেখার জন্য-উৎসবের নাটকগুলোর ওপর একটা আলোচনা। আমি তো রীতিমতো ঘাবড়ে যেতাম-কিভাবে আমি নাটকের উপর লিখবো ? কি আমি জানি ? তখন এই আলী শাহ্‌ আমাকে নানা ব্যাপারে রসদ যোগাতো-তথ্য তত্ত্ব ইত্যাদির। আমিও বন্ধুকে খুশী করার জন্যে নেমে পড়ি নাটকের আলোচনা লিখতে। আর এই লেখা তৈরি করতে গিয়ে আমি পড়তে বাধ্য হই নাটকের ইতিহাস, যাত্রা, গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলন, থার্ড থিয়েটার, গ্রাম থিয়েটার সহ নানা রকমের পাঁচমেশালী বিষয়। এই ভাবেই আমি জানতে পারি পথ নাটকের লেখক মিলন চৌধুরী-যিনি কিনা চট্টগ্রামেরই লোক এবং এখনও জীবিত। এটা এ জন্যেই বলছি-ছোট কাল থেকেই আমার একটা ধারণা ভেতরে ভেতরে গড়ে উঠেছিলো যে, বিখ্যাত ব্যক্তিরা সব অতীত কালেরই হন। যাই হোক, এই বিখ্যাত লোকটিকে আমি আলী শাহ্‌ কল্যাণে দূর থেকে দেখে নিই, কিন্তু এই অর্বাচীন তার সাথে কথা বলার সাহস অর্জন করিনি। পরে তাকে আমি আর ভয়ও পাই-যখন তার আপাত উচ্ছৃঙ্খল জীবনেরও কিছুটা আভাস আমার কানে আসে নানা জনের মুখ হয়ে। তবে আমার মধ্যে প্রবল বাসনা জাগে সেই প্রথম পথ নাটক ‘যায় দিন ফাগুনে দিন’ দেখার। আমি আলী শাহ্‌েক বলি। তারপর কোন এক নাট্য উৎসবে তা প্রদর্শিত হয়। আমি সেই নাটক দেখেছি মুগ্ধ বিস্ময়ে-ভেবেছি স্বাধীনতার পর পর রচিত একটা নাটক এখনো এতটা ব্যঞ্জনা ও প্রাণ ধরে রাখে কি ভাবে!
এর মধ্যে আমি টুকটাক কবিতা ছাপিয়ে চট্টগ্রামের লেখক মহলে কিছুটা পরিচিতি অর্জন করেছি। মাঝে মধ্যে অনুষ্ঠান-নাটক ইত্যাদির আলোচনাও লিখছি। এমন সময় একদিন দৈনিক সংবাদে গাছপাথরের কলামে নাটক বিষয়ে একটি উপসম্পাদকীয় ছাপা হয়, যার সাথে আমি বেশ কিছু প্রসঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। আজ হলে হয়তো ওটা আমাকে অতোটা ব্যতিব্যস্ত করতো না, কিন্তু তখনকার কম বয়েসী মননে তা সামলাতে পারিনি। আমি এক দীর্ঘ চিঠি লিখে পাঠিয়ে দিই। বস্তুতঃ আমি তখন কাব্য চিন্তা সহ সামগ্রিক সাহিত্য শিল্প সংস্কৃতিতে আমাদের শেকড়ের সন্ধানে ব্যস্ত। আমি তখন যাত্রা এবং তার অবক্ষয়ী অধঃপতন ইত্যাদি নিয়ে গাছপাথরের সাথে দ্বিমত পোষণ করতে গিয়ে প্রসঙ্গক্রমে টেনে আমি ‘যায় দিন ফাগুনে দিন’ ও মিলন চৌধুরীর কথা। যেখানে আমাদের দেশজ অনুষঙ্গে সমসাময়িক বাস্তবতাকে রূপকের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়-ইত্যাদি ইত্যাদি; সব কিছু এখন মনেও নেই। কি কারণে জানি না, লেখাটা ‘সংবাদ’ দুবার ছাপে-আর গাছপাথরও তার কোন জবাব দেননি-হয়তো প্রয়োজনই মনে করেননি বালকের অর্বাচীনতা ভেবে। যাই হোক, পরে জেনেছিলাম আলী শহর কাছে যে-মিলন চৌধুরী আমার চিঠিটা পড়েছেন এবং আমার নাট্যচিন্তার যে রূপটা সেই চিঠিতে প্রকাশ পেয়েছে তার প্রশংসা করেছেন। তিনি আলী শাহ্‌েক নাকি প্রশ্ন করেন-‘ছেলেটা কে?’ তারপরও বেশ কিছু কাল কেটে যায়। আমি তখন চট্টগ্রাম মেডিকেলের শেষ বর্ষের ছাত্র নাকি ইন্টার্নী-এমন সময় আমর সংগঠন তরঙ্গ এক অনুষ্ঠানে ‘জুতা আবিষ্কার’ নাটক করার জন্য অঙ্গন থিয়েটার ইউনিটকে আমন্ত্রণ করে যার পরিচালক মিলন চৌধুরী। একই অনুষ্ঠানে গান গাইতে আসেন প্রবাল চৌধুরী। আর তার ফলেই আমরা পড়ে যাই বিপাকে। দুই চৌধুরীর তর্ক আর থামে না-শিল্পীর অনিশ্চয়তা দেখছি আর ভাবছি কি করা যায়-প্রবাল চৌধুরী বলেন নাটকের পরে আমার গান কেউ শুনবে না, মিলন চৌধুরী বলেন প্রবালের গানের পর আমার নাটক কেউ দেখবে না। এই দ্বন্দ্বের যেন শেষ নেই। অবশেষে উদ্ধার করলেন এসে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টারের তখনকার ডিরেক্টর এম এ করিম-তাঁরা সবাই মিলে চলে যান করিম সাহেবের বাসায়, আর আমরা ভাবছি এখন কি করা যায়। তারপর যখন ফিরলেন তাঁরা, রফা হয়ে গেছে-প্রবাল চৌধুরী গান শুরু করলেন টানা দশটা গান গেয়ে যখন স্টেজ থেকে ভিতরে আসলেন-দেখি পাঞ্জাবীর এ পকেট আরও পকেটে রুমাল খুঁজছেন-আর তখন মিলন চৌধুরী কোথা থেকে লাফিয়ে এসে তার সামনে তুলে ধরলেন ‘এই নাও তোমার রুমাল’। প্রবাল বললেন আমিতো ফেলে এসেছিলাম-মিলন বললেন আমি দেখেই নিয়ে এসেছি-তখন দিই নি, এখন দেবো বলে…। ভেবেছিলাম এই অনুষ্ঠানের ফাঁকে মিলন চৌধুরীর সাথে আলাপ হবে। কিন্তু এই হট্টগোল আর হলো কই! কিন্তু আমিই কি জানি এর মধ্যে মিলন চৌধুরীও আমাকে খুঁজছেন! পরে একদিন আলী শাহ্‌ আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন এই ইতিহাসের অংশ এক উজ্জ্বল নাট্যকারের সাথে। নিতান্ত ফর্মাল পরিচিতি। অনুলেখ্য এই আলাপ-তবুও আমি উদ্দীপিত হলাম। তারপর আমি ধীরে ধীরে জড়িত হয়ে পড়ি এর সাথে। কর্ম ব্যস্ততার মধ্যে বের হয় লিরিক আখতারুজ্জমান ইলিয়াস সংখ্যা এবং লিরিক উত্তর আধুনিক কবিতা সংখ্যা-১। তখন আমি পেশায় ডাক্তার। চন্দনপুরায় একটা ছোট চেম্বার করে দু’একটা রোগীর অপেক্ষায় থাকি। প্রায়শঃই চেম্বার ভরে থাকতো বন্ধুদের আড্ডায়। রোগী একটা পেলেই চা নাস্তা কোক ইত্যাদি খেয়ে ফতুর হয়ে যেতাম। আর দু’তিনটে হলে তো কথাই নেই, ভিডিও ক্যাসেট ভাড়া করে দিনরাত সিনেমা দেখার পালা-দেখতে শুরু করছি সত্যজিতের এক একটা ছবি ঋত্বিকের ছবি আরও কত কি ? ভাল এবং হাবিজাবি সব। এই ভাবে কেটে যাচ্ছে দিন। একদিন সন্ধ্যায় আমার চেম্বারে এসে হাজির হলেন মিলন চৌধুরী-আমাকে তার ছেলের চিকিৎসা করতে হবে। এ আমার জন্য পরম বিস্ময়ের মতো ছিলো-আমি ওনার সাথে তার বাসায় গেলাম-বাকলিয়া আতুরার দোকানের ওদিকে ভাড়া বাসায়। আমি বাচ্চাকে ঔষধপথ্যের সাথে তুলসীপাতার রস, বাসক পাতার রস ইত্যাদিও সেবনের পরামর্শ দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমি খুব ঠোঁট কাটা লোক। কিন্তু আমাকে বিস্মিত করে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন-‘তুমি কি তুলসী বা বাসক পাতার রস খাওয়াটাকে বিশ্বাস করে দিয়েছো, নাকি আমাকে ইমপ্রেস করার জন্য দিয়েছো? ব্যাস আমার খুব ভালো লেগে যায় তাকে।’ আমার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এখন থাক-তবে তারপর থেকে তিনি নিয়মিত আমার চেম্বারে আসতেন, আর আমার সাথে আলাপ হতো নানা বিষয়ে। আমি খুব প্রাণিত হতাম-যখন চারদিকে উত্তর আধুনিক কাব্য চিন্তার জন্য আমরা সমালোচিত হচ্ছি-তখন তিনি আমাকে সাহস যোগাতেন-টেনে আনতেন নানা উদাহরণ, দেখতে দেখতে কোন ফাঁকে আমি তার পরিবারের আর তিনি আমার পরিবারের সদস্য হয়ে যান আমি এখন ঠিক হিসেব করে বলতে পারবো না। তাঁর ছেলে শুধু এখন আমাকে চিনবে না, কিন্তু তখন অবলীলায় আমার কোলে চলে আসতো। বৌদির বহু রান্না খেয়েছি। আমি যদি সকালে তার বাসায় গিয়েছি তো বিকালে তিনি আমার বাসায়, হয়তোবা ‘উমরাও জান’ দেখছি অথবা ‘বৈজু বাওরা’ অথবা ‘সুর-সংগম’। এইভাবে চলচ্চিত্রের বিশাল একটা জগৎ যার ক্লাসিক কোঠাগুলো তার সাহচর্যে আমার সামনে একে একে খুলে যেতে থাকে। আমি কেবল ছবিই দেখেনি, তার সাথে সাথে জানতে পেরেছি ছবির পেছনের নানা ঘটনা-নানা কাহিনী যা কখনোই বই পড়ে আমি এত ব্যাপকভাবে জানতে পারতাম না। আর কবে যে এই মিল চৌধুরী কেবল মিলনদা হয়ে গেলেন বুঝতেই পারিনি। মনে হচ্ছিল তিনি তো শুরু থেকেই আছেন আমার জীবনে। দুপুরে প্রায়ই মিলনদা সবুজ হোটেলে আমাদের আড্ডায় আসতে থাকেন-তার সঙ্গে জমে উঠতে থাকে প্রতিদিনের আড্ডা। আড্ডায় নিয়মিত আসতে শুরু করেন ঢালী আল মামুন, ডাঃ মোহাম্মদ আলী বাবু প্রমুখ। সবাইতো কথা বলেন, কিন্তু মিলনদা হয়ে ওঠেন সবার মধ্যমণি। তুলকালাম আড্ডার এই হইচই এর মধ্যে সবার ঐকান্তিক চেষ্টায় জন্ম নেয় লিরিক উত্তর আধুনিক কবিতা সংখ্যা-২। যেন সম্পাদক এজাজ ইউসুফীর চাইতেও বেশী ব্যস্ততা ঢালী ভাই ও মিলন দার। সেই মহা উৎসাহের সম্মিলিত জোয়ারে লিরিকের উজ্জ্বল প্রকাশের প্রসব বেদনা হয়ে ওঠে আনন্দ মুখর-আর তারই সূত্রে গেঁথে বের হয় এক সাথে চারটি কাব্য গ্রন্থ-আমার, এজাজ ইউসুফী, আহমেদ রায়হান ও হাবিব আহসানের। তাও যেন আমার স্নেহ! আমার তো বড় ভাই নেই-বোধ হয় সেই অভাব পূরণের জন্যই তিনি আমার নিয়তির দান। আমার কাব্যগ্রন্থ নিয়ে তিনি বহু চায়ের টেবিলে ঝড় তুলেছেন আমি খবর পেয়েছি। অথচ সমালোচনাগুলো একান্ত আমার কাছে এসে বলে গেছেন। এইভাবে আমি নাট্যকার মিলনদাকে ভুলে গিয়ে ব্যক্তি মিলনদাকে বেশি আপন করে নিয়েছি। আমি যখন ঢাকায় পিঁজিতে পড়তে যাই তখন খুব অভাব বোধ করতাম সবুজ হোটেলের আড্ডার, বাসায় সিনেমা দেখার আড্ডার আর মিলনদার। পরে ঢাকায় আমি তাঁর সাথে তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করি, আলাপ হয তার দাদা শিল্পী স্বপন চৌধুরীর সাথে এবং ছোট ভাই তপন চৌধুরীর সাথে। একদিন শুনলাম মিলন দা ঢাকায় একটা নাটক মঞ্চস্থ করেছেন। ছুটে যাই মহিলা সমিতিতে-নাটকটা মনে নেই মনে আছে কেবল মিলনদাকে; তাঁর নাকটতো!
আমার সংসারী হওয়াটা বোধ হয় ঠিক হয় নি। কারণ এ সংসার আমাকে সব কিছু থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। এখন আমি রিপোর্ট ছাড়া এক কলম কবিতাও লিখিনা। বন্ধু মোশতাককে চিঠি লিখি না। লিরিকের জন্য প্রবন্ধ লিখি না-এমন কি সবুজের আড্ডায় পর্যন্ত যাই না। আমার দুটো কন্যা আর আমার প্রিয় স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সাহিত্য-কর্মে পাঁচটা নিষ্ফলা বছর কেটে গেল। এখন আর এজাজ ভাই লিখতে বলে না, কেউ তাগাদা দেয় না লেখার, কেউ কী লিখছি জানতে চাইলে বলি-‘রিপোর্ট’। বহুদিন মিলনদাও আমার খবর নেন নি। বোধ হয় ভুল বুঝে অথবা নিজস্ব ব্যস্ততায়। যা-ই হোক একদিন দেখি হঠাৎ মিলন দা। আমার ল্যাবরেটরিতে হাজির। এর মধ্যে ওনার উপন্যাস বের হয়েছে একাত্তরের অভিজ্ঞতার উপরে লেখা। আমাকে পড়তে দিলেন। আগের অভ্যাস নেই না হলে হয়তো একটা সমালোচনা চট্‌ করে লিখে ফেলতাম-কিন্তু এবার লিখা হলো না। মিলন দা কি আশা করেছিলেন আমার একটা সামলোচনা ? ইদানিং মাঝে মধ্যে যোগাযোগ হয়, সেদিন দেখলাম ‘নিবারণের স্বপ্ন স্বদেশ’ মিলনদার লেখা ও পরিচালনায় নাটক। ভেবেছিলাম কিছু একটা লিখবো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না। তবে হ্যাঁ-নাটক দেখতে দেখতে আমার মনে হয়েছিলো নাট্যকারের সার্থক নাটক, পরিচালকের দক্ষতা সত্ত্বেও কিছু অদক্ষ নাট্যকর্মীর অভিনয়ের কারণে চরম সার্থকতা পায় না-গ্রুপ থিয়েটারের এই সমস্যার কবে সমাধান হবে ?
আগের মতো চট জলদি লিখতে পারি না, তবে মিলম দার প্রতি আমার অনুভূতি এখনো আগের মতো-তাই এখনো তাকে দেখলেই দিনটা কেমন এলোমেলো হয়ে যায়। দু’তিনবার তিনি আমার ল্যাব-এ এসেছিলেন; যে দু’ঘন্টা ছিলেন-কোন ফাঁক দিয়ে সময় চলে গেছে আমি জানি না। তিনিও বোধ হয় বোঝেন-ইদানিং আসেন না, শারদের মোবাইল থেকে কথা বলেন। মিলনদার মতো লোকের সাথে ফোনে কথা বলে কি মন ভরে? তিনি আসলেই যে ভাল লাগে তা কি তিনি বোঝেন না ? কি জানি-তবে আমার এখনো সেই বিশ্বাস আছে যে মিলন দা আমাকে খুব পছন্দ করেন-এবং তা একটুও কমেনি। জানি না বন্ধু বিশ্বজিৎ চক্রবর্ত্তী যখন এই যখন এই লেখার জন্য আমাকে বলেছেন-তিনি কোন সমালোচনা মূলক লেখা আশা করেছিলেন কিনা। অথচ আমি তো স্মৃতির জগতে অন্য পরিমন্ডলে চলে এলাম। তার নাটক নিয়ে লিখার মতে বিজ্ঞ লোক এদেশে অনেক রয়েছেন। আমি কেবল সুযোগ পেয়ে তার প্রতি আমার ভালোবাসাটুকু জানিয়ে দিলাম।