‘আমাকে এভাবে কেউ কখনও বলেনি’

বুধবার , ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ
158

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুতে স্মৃতিচারণ করে কুমার বিশ্বজিৎ লিখেছেন, “আমার ও তাঁর সম্পর্ক বন্ধুর মতো। আমাকে তিনি ‘তুই’ সম্বোধনও করতেন। ঐ তো সেদিন বুলবুল ভাইয়ের বুকে রিং পরানো হবে, তিনি আমাকে বললেন, ‘তোরে আমি নিয়ে যাব। তোর যেতেই হবে।’
এভাবে কেউ আমাকে বলেনি কখনও। এই যে অধিকার, আস্থা- তা নির্ভেজাল। তবে শুধু ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার বিষয় নয়। তিনি আমাদের দেশের সংগীতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের গান, চলচ্চিত্রের গান, অ্যালবাম দিয়ে যে অবদান রেখেছেন, তা ভোলার নয়। তার লেখনিতে যে কী ধার, যারা এটি গেয়েছেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন। ক্ষুরধার এই লেখনি বা ক্ষণজন্মা মানুষের আর রিপ্লেসমেন্ট হবে না। আমি বলব, একটা মহীরূহের বিদায় এটা।
দেশ স্বাধীনের পর টানা আট বছর তিনি শুধু দেশের গান লিখেছেন। মানুষ কিন্তু ভালোভাবেই জানেন, দেশের গানের স্পন্সর পাওয়া যায় না, বাণিজ্যিকভাবে লোকসান হয়। তারপরও দেশের প্রতি কতটা ভালোবাসা থাকলে এভাবে বছরের পর বছর শুধু দেশের গান করা যায়!
যুদ্ধের সময় গান লেখা ও পরবর্তী সময়ে পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত টাচ করতে পারাটাও বিশাল বিষয়। দেশের গান ছাড়াও তার অন্যগুলোও অনবদ্য। আমার গাওয়া গানগুলো যখন নিজে শুনি আশ্চর্য হই। যদি বলি, ‘আমি তোমার আগে যদি পৃথিবী ছেড়ে যাই, সাদা শাড়ি পড়ো না’ গানটির কথা; কী রোমান্টিক! আবার তিনি কৃষ্ণকে বলছেন, ‘কৃষ্ণ তোর বাঁশিটা দে না আমারে ধার। এ পরাণে রাধা ছিল। আগে অনেক চাইত আমায়; এখন চায় না আর’! কী যে অন্ত্যমিল, অভিব্যক্তি!
তিনি তার জীবনটা গানকেই দিয়েছেন। যারা সত্যিকার অর্থে দেশকে নিজের সবটুকু দিয়েছেন, তারা পরিবারের দিকেও তাকাননি। তারা সৃষ্টি ও দেশের পেছনে অবদান রেখে গেছেন। তিনি হচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম।
আমার বাসার দেয়ালে হাতের ছাপ রাখার একটা ব্যবস্থা আছে। বাসায় লোকজন এলে তারা দেয়ালের প্লেটে ছাপ দিয়ে দেন। কিছুদিন আগে এটি চালু করেছিলাম। মাঝে বন্ধ ছিল। আবার নতুন করে এটি তৈরি করতে মিস্ত্রি ডেকেছিলাম।
আশ্চর্য বিষয়, পুরনো প্লেটগুলো বের করার সময় প্রথমটি বের হয়েছিল বুলবুল ভাইয়ের হাতের ছাপ! অথচ আজ আমি নিজ হাতে তার মরদেহটা ধরলাম! মৃত্যু শাশ্বত, জানি। কিন্তু এমনভাবে, এত তাড়াতাড়ি চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারি না। ভালো থাকুক আমাদের পাওয়ার লাইট, আমাদের আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।”

x