আমদানি ব্যয় কমার পরও বাণিজ্য ঘাটতি ৬৬৮ কোটি ডলার

রবিবার , ১২ জানুয়ারি, ২০২০ at ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

বিগত যেকোনও সময়ের চেয়ে দেশে এখন আমদানি ব্যয় কমেছে। তারপরও ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বরে) বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬৮ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে আমদানি ব্যয় বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়তো। কিন্তু এবার আমদানি ব্যয় কমার পরও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা এই পরিস্থিতির জন্য রফতানি আয় কমে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের মতে, দেশের অর্থনীতির ওপর কিছুটা চাপ বেড়েছে। এছাড়া একসঙ্গে আমদানি ও রফতানি কমছে। এটা উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। বাণিজ্য ঘাটতি তারই একটি উপসর্গ। অব্যাহতভাবে রফতানি আয় কমে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে। আমদানি ব্যয় কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য ভালো। তবে ক্যাপিটাল মেশিনারি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়। আমাদের এখন সেটিই হয়েছে।’
তিনি বলেন, ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি কমে যাওয়া মানে হচ্ছে দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না। আর বিনিয়োগ না হওয়া মানে অর্থনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানি কমেছে ১০ শতাংশের মতো। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে ২০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দিন যত যাচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ততই বাড়ছে। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলার নতুন করে ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৯৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগস্ট শেষে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়ায় ৫৬২ কোটি ডলার। আর পাঁচ মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬৮ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পুরো সময়ে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাই-নভেম্বর সময়ে আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রফতানি আয়ের পরিস্থিতি বেশি খারাপ। তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে পণ্য রফতানি থেকে আয় কমেছে ৭.৫১ শতাংশ। আর আমদানি ব্যয় কমেছে ৫.২৬ শতাংশ। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গেছে। বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও এটা নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত। তিনি বলেন, ‘রফতানি কিছুটা কমছে, তবে রেমিটেন্স বাড়ছে। আবার আমদানি ব্যয়ও কমে এসেছে। ফলে এটা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। তবে টাকার সঙ্গে ডলারের বিনিময় মূল্য যদি একটু কমানো হয়, তাহলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের পাঁচ মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে মোট ২ হাজার ২২০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে বাংলাদেশ। আর পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৫৫২ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছিল এক হাজার ৬৭৮ কোটি ডলার। আমদানি খাতে ব্যয় হয়েছিল দুই হাজার ৩৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলার।

x