আবহাওয়ার পরিবর্তনে মোস্তাফিজের এমন বদলে যাওয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বুধবার , ১৫ মে, ২০১৯ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
76

বাংলাদেশের আবহাওয়া আর আয়ারল্যান্ডের আবহাওয়া মধ্যে যেন আকাশ-পাতাল ফারাক। কাংলাদেশে যেখানে গরমে ঝলসে যাচ্ছে সবকিছু সেখানে আয়ারল্যান্ডের কনকনে ঠান্ডা জমিয়ে দিচ্ছে সবকিছু। তার উপর আয়ারল্যান্ডে একদিন রোদতো আরেকদিন বৃষ্টি। তবে গত সোমবার যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলছিল বাংলাদেশ তখন ছিল চমৎকার রোদ। আর একটু দাঁড়িয়ে সে রোদ যেন গায়ে মাখিয়েও নিলেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। সন্ধ্যা সাতটায়ও ডাবলিনে রোদের তেজ বেশ। টানা কিছুদিন শীতে জবুথবু হয়ে থাকার পর এই গরম বেশ উপভোগ করছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার। প্রথম আর দ্বিতীয় ম্যাচে তার বোলিংয়ে আকাশ-পাতাল পার্থক্যের অন্যতম কারণ নাকি আবহাওয়ার এই পার্থক্য। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৮৪ রান খরচায় দুটি উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। দলের বাকি সব বোলার সেদিন ছিলেন দুর্দান্ত। কিন্তু কেবল অধিনায়কের অন্যতম সেরা অস্ত্র সেই মোস্তাফিজই ছিলেন কেবল বিবর্ণ। তবে নিজেকে বদলে দিতে বেশি সময় নেননি মোস্তাফিজ। দ্বিতীয় ম্যাচেই সেই মোস্তাফিজ ফিরলেন দুর্দান্ত চেহারায়। সোমবার আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই দলের জয়ের অন্যতম নায়ক তিনি। প্রথম স্পেলে ছিলেন দুর্বোধ্য। দ্বিতীয় স্পেলেও কার্যকর। ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যান অব দা ম্যাচ। দুই ম্যাচের বোলিংয়ে বদলটা কোথায় এনেছেন। মোস্তাফিজের প্রতি প্রশ্নটা ছিল অবধারিতই। জবাবে মোস্তাফিজ বললেন আবহাওয়ার বদলের কথা। কাটার মাস্টার বলেন আমি চেষ্টা করেছি আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে। আমাদের দেশে এখন প্রচন্ড গরম। আর এখানে একেবারেই ঠান্ডা। আর ঠান্ডায় আমার কষ্ট হয় খুব। আমাদের দেশে ৩২-৩৩ ডিগ্রিতে খেলে এসেছি। এখানে ৭-৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা। একটু তো কঠিনই। তবে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাচ্ছে। এখন গরম লাগছে একটু। আয়ারল্যান্ডে আসার পর সপ্তাহখানেক প্রচন্ড ঠান্ডায় ধুঁকেছে বাংলাদেশ দল। তবে গত কয়েকদিনে তা বেশ কমেছে। রোদ উঠছে নিয়মিতই। কনকনে বাতাসও কমেছে আগের চেয়ে। বাংলাদেশ দলও তাই আছে আগের চেয়ে ফুরফুরে। আর তাতেই যেন বদলে গেল মোস্তাফিজের বোরিং। আসন্ন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের আবহাওয়াও কিছুটা উঞ্চ থাকবে। আর সেখানে মোস্তাফিজের বোলিং বেশ কাজে দেবে বলে মনে করছেন টাইগার টিম ম্যানেজম্যান্ট। আবহাওয়ার পরিবর্তনে মোস্তাফজের পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দারুণ বোলিং করেছেন বাংলাদেশের অন্য বোলাররাও। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা টানা দ্বিতীয় ম্যাচে নিয়েছেন ৩ উইকেট। সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসানের স্পিন ছিল দুর্দান্ত। কেবল অভিষিক্ত আবু জায়েদই সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি। অভিষেক ম্যাচটি সেভাবে রাঙ্গাতে পারেনি এই পেসার। মোস্তাফিজের এই বোলিং স্বস্তি দিচ্ছে দলকেও। বিশ্বকাপে যে সেরা ফর্মের মোস্তাফিজকে দলের চাই-ই চাই। কারণ মোস্তাফিজ সেরা ফর্মে থাকা মানে প্রতিপক্ষের উপর বড় একটা চাপ সৃষ্টি করতে পারা। গত সোমবারের বোলিং ছন্দে বাঁহাতি পেসার নিজেও বেশ আত্মবিশ্বাসী। মোস্তাফিজ বলেন ভালো করলে আত্মবিশ্বাস সবসময় ভালো থাকারই কথা। প্রথম ম্যাচটা ভালো হয়নি। এটা ভালো হলো। বিশ্বকাপ আছে সামনে। চেষ্টা করব ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। আর তার কাছে যে দল এ ধরনের ভাল বোলিং আশা করেন সেটাও বেশ ভালই জানেন মোস্তাফিজ। আর সে বোলিংটা এ্‌ট িটুর্নামেন্টের ফাইনালের পাশাপাশি বিশ্বকাপেও করে যেত চান বাংলাদেশের কাটার মাস্টার। আর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের যে আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তাতে মোস্তাফিজের বোলিং ভাল হবে তেমনটি আশা করাই যায়।

x