আফ্রিকার মারাকাশ থেকে ফিরে : ‘লরেন্স অব এরাবিয়া’- ২

হল্যান্ড থেকে

বিকাশ চৌধুরি বড়ুয়া

শনিবার , ৫ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:০৩ পূর্বাহ্ণ
88

মারাকাশ বিমান বন্দরে নেমে চোখ জুড়িয়ে গেল। চমৎকার বিমানবন্দর, এত পরিষ্কার যেন এইমাত্র কেউ ধুয়ে-মুছে গেল। পিন পড়লেও খুঁজে পাওয়া যাবে যেন। মরক্কোর এই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পুরো নাম মারাকাশ মিনারা এয়ারপোর্ট। আমস্টারডাম শিফল এয়ারপোর্ট থেকে যখন প্লেন ধরি তখন সাথে ছিল কেবল আবিল। ড. আবিল মোহাম্মদ হল্যান্ডের একটি ‘থিঙ্ক ট্যাংকের’ প্রধান কর্মকর্তা। সেও চলেছে মারাকাশ সম্মেলনে যোগ দিতে। ক্যাসাব্লাঙ্কা এয়ারপোর্ট পৌঁছে সেখানে আমাদের সাথে যোগ দেন আরো দুজন- বেলজিয়াম থেকে ইউরোপীয় মহিলা মিশেলে এবং জেনেভা থেকে ইগনাসিও। মারাকাশ নেমে দেখা সম্মেলনে যোগ দিতে আসা আরো জনা কয়েক প্রতিনিধির। ইউরোপীয় পাসপোর্ট বিধায় ভিসার প্রয়োজন নেই। অবশ্য মরোক্ক আসতে অনেক দেশেরই আগাম ভিসা লাগে না। তারপরও ইমিগ্রেশনে নানা প্রশ্ন। কোথায় যাবেন, কেন যাবেন, আপনি কী করেন ইত্যাদি। সমস্যা হলো, সারিবদ্ধ অনেকগুলি কাউন্টার থাকলেও ইমিগ্রেশনের এই সমস্ত লোকজন ইংরেজি খুব একটা জানেনা। ফলে ভাব-বিনিময়ে সমস্যা দেখা দিল। কেবল আমার ক্ষেত্রে নয়, পরে শুনলাম আমাদের সাথে যারা ছিল তাদের সবার একই অভিজ্ঞতা। আমার পদবী কী জানতে চাইলো। বললাম চেয়ারম্যান। সে বুঝলো না। বলে, ডাইরেক্টর? কী করে তাকে বুঝাই। বলি, হ্যাঁ। খুব একটা বন্ধুসুলভ আচরণ নয় তার। মনে হয় এদের ‘জিনের’ মধ্যে কোথায়ও একটা সমস্যা আছে। হল্যান্ডে বাস করে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মরক্কীয়। এদের সম্পর্কে সাধারণ জনগণের খুব একটা ভালো ধারণা নেই। তাদের ব্যবহারে রুক্ষতা আপনাতেই ধরা পড়ে, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। পাড়ায় মারপিট, পুলিশের সাথে হাতাহাতি, নতুন বছরে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া, পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া, ছিনতাই ইত্যাদি দুস্কর্মের সাথে মরক্কীয় তরুণ গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা থাকবেই। মারাকাশ বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যার সামনে আমি তার মাঝেও দেখলাম এক ধরণের রুক্ষতা। ইমিগ্রেশন পার হয়ে আবারও আমাদের লাগেজ ঢুকানো হলো স্ক্যানিং ম্যাশিনে। বিরক্তিকর। সব ফর্মালিটি সেরে বাইরে এসে যখন দাড়াই তখন রাত প্রায় সাড়ে এগার। ভাগ্যিস হোটেল খুব একটা দূরে নয়, মিনিট পনের গাড়ী পথে। চমৎকার রাস্তা। কে বলবে আফ্রিকীয় দেশ। যেন ইউরোপ। প্রশস্ত রাস্তা, পরিষ্কার, নিয়ন বাতিগুলি সারিবদ্ধ নীরবে দাঁড়িয়ে রাতের আঁধার দূর করে চলেছে। সহ-যাত্রীদের বলি, সামনের সীটে যদি বসি কারো কোনো আপত্তি আছে? জানি কেউ ‘না’ করবে না। উত্তরের অপেক্ষা না করে গাড়ীর পেছনে লাগেজ দুটো দিয়ে ল্যাপটপের ব্যাগ নিয়ে ড্রাইভারের পাশে বসে পড়ি। কোথায়ও গেলে এই আসনটি আমার প্রিয়। তাতে দেশ দেখা হয়, আশপাশের চলমান, দাঁড়িয়ে থাকা, উদ্দেশ্যহীন কিংবা হেঁটে যাওয়া লোকজনকে দেখা যায়। দেশে গেলেও এই কাজটা করি। কারো কারো তাতে লাগে। বলে সামনে ড্রাইভারের পাশে কেন, পেছনে এসে বস। কেন তারা এমনটি বলে বুঝি, কিছু বলি না। আমল দেই না। ড্রাইভারের সাথে মাঝে মধ্যে আলাপ জুড়িয়ে দেই। মরক্কীয় এই ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করি, ইংরেজি জান? ইংরেজিতে উত্তর দেয়, ‘নো, কেবল ফরাসী আর মরক্কীয় ভাষা’। তার সাথে আর আলাপ এগোয় না। গাড়ি এগিয়ে চলে। আমার চোখ দুটি এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায়।
হোটেল থেকেই এই ‘শাটল’ ব্যবস্থার আয়োজন। সম্মেলনের আয়োজকরা আগেভাগে বলে রেখেছিল হোটেল থেকে গাড়ি যাবে এয়ারপোর্টে। মারাকাশে নতুন গড়ে-উঠা আবাসিক এলাকা ‘আগডালে’ বিশাল এই পাঁচ তারকা হোটেল। এর আশপাশে আরো বেশ কটি বড়, মাঝারী আকারের আবাসিক হোটেল। আরবীয় স্থাপত্য ধাঁচে তৈরি হোটেলগুলো। লক্ষ্যণীয়, এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল তক রাস্তার দুপাশে, কাছে-দূরে যে সমস্ত ভবন, বাড়ি, শপিং কমপ্লেক্স চোখে পড়লো তার সবগুলো যেন লাল মাটির রংয়ে মোড়ানো। মরুভূমি অঞ্চলে পাহাড়ের যে লালচে রং সেই রঙে। এ কেবল মারাকাশ নয়, মাস কয়েক আগে মরক্কোর রাজধানী রাবাত গেলে সেখানেও সবখানে চোখে পড়েছে এই রঙের- বাসভবন থেকে শুরু করে মার্কেট, হোটেল। আমাদের মাঝে কেউ একজন বলে উঠে, এ মরক্কোদের জাতীয় রং বলতে পারো। দেখে মনে নয় যেন মরুভুমি পার করে চলেছি। মরুভূমিই তো। বিশ্বের সব চাইতে দীর্ঘ মরুভূমি সাহারার শুরু মরক্কো থেকে। একদিকে পাহাড় অন্যদিকে মাইলের পর মাইল ধু ধু মরুভূমি। অনেকে তো কেবল এই মরুভূমি এলাকা চষে বেড়ানোর জন্যে মরক্কো আসে। তবে কেবল যে লালচে উঁচু নিচু বালির ঢিবি দেখবেন তা ভাবার কোন কারণ নেই। মরুভূমিকে ঘিরে এখানে-ওখানে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট শহর, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘ওয়েসিস’ (ঙধংরং ঃড়হি)। যেখানে পানির সন্ধান মেলে, যেখানে গড়ে উঠে গাছপালা, বসতিও। এই সমস্ত এলাকায় গড়ে উঠেছে হোটেল, বিশ্রামাগার যেখানে আপনি চাইলে অবসর নিতে পারেন, কাটাতে পারেন রাতও। ভৌগোলিক দিক থেকে মরক্কোর অবস্থান চমৎকার। একদিকে বিখ্যাত এটলাস পাহাড় (সেখানে পরে আমাদের যাওয়া হয়েছিল), অন্যদিকে অতলান্তিক মহাসাগর, পাশাপাশি সাহারা মরুভূমি। কে না শুনেছে সাহারা মরুভূমির কথা। চোখ যতদূর যায় কেবল বালি বালি। এই মরুভূমিতে এসে দাঁড়ালে মনে হবে কত ক্ষুদ্র আপনি এই বিশাল পৃথিবীতে, কত ক্ষুদ্রের ক্ষুদ্র আমরা। বালির ঢিবি বেয়ে বিশালাকারের উট চলে এগিয়ে, পিঠে সওয়ার, কোথাও কেবল উট, পাশে উটের সাথে বাঁধা দড়ি হাতে তার চালক হেঁটে চলেছে – এ দৃশ্য ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি বই, ছায়াছবিতে। মরক্কোর বিভিন্ন এলাকায়ও দেখা মেলে উটের। দেশ-বিদেশ থেকে যারা আসেন বেড়াতে তারা এর পিঠে চড়ে ধারে-কাছে ঘুরে বেড়ান, কেউ এর পিঠে বসে, পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন, তারপর ফেইস বুকে আপলোড করে ধন্য হন। হলিউডের বিখ্যাত ছায়াছবি, ”লরেন্স অব এরাবিয়া” অনেকেই হয়তো দেখে থাকবেন। বাণিজ্য-সফল হলিউডের এই ছায়াছবি দেখেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে। শ্বাসরুদ্ধকর এই ইংরেজি ছায়াছবি নির্মিত হয়েছিল এই সাহারা মরুভূমির পটভূমিকায়। অস্কার পাওয়া স্যার এলেক গিনিক্স এই ছবিতে প্রিন্স ফয়সলের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। আর এক বিখ্যাত অভিনেতা পিটারও টুল অভিনয় করেছিলেন ব্রিটিশ ল্যাফটেনেন্ট টি.এফ. লরেন্সের ভূমিকায়। অভিনয় করেছিলেন মিশরীয় হলিউড অভিনেতা ওমর শরীফ। আদিতে লেবানিজ এই প্রখ্যাত অভিনেতা আর এক সারা-জাগানো ছায়াছবি ‘ডক্টর জিভাগো’ ছায়াছবিতে চমৎকার অভিনয় করেছিলেন। ছবির পরিচালক ছিলেন স্যার ডেভিড লীন। বিশ্বখ্যাত এই ব্রিটিশ চিত্র পরিচালকের ৬ টি ছবি দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। সে ছবিগুলি এখনো স্মৃতিতে উজ্জ্বল। ছবিগুলো ছিল, ‘দি ব্রিজ অন দ্য রিভার কোয়াই’, (নব্বই দশকে থাইল্যান্ড বেড়াতে গেলে ঘুরে এসেছিলাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধবন্দীদের দ্বারা বানানো কোয়াই নদীর উপরে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ব্রিজে), ‘লরেন্স অব এরাবিয়া’, ‘ডক্টর জিভাগো’, ‘এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’, ‘গ্রেট এঙপেক্টশনস’ এবং ‘অলিভার টুইস্ট’। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করে পারছিনে। ডেভিড লীন ‘অলিভার টুইস্ট’ ছবিটি বানিয়েছিলেন ইংরেজ লেখক চার্লস ডিকেন্সের এই নামে লেখা উপন্যাস নিয়ে। আর এই উপন্যাস অবলম্বনে বাংলাদেশে তৈরি হয়েছিল ‘বাবলু’ নামে একটি বাংলা ছায়াছবি, যার মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শাবানা। চার্লস ডিকেন্সের কাছে আমি ঋণী। তার লেখা কালজয়ী উপন্যাস, অলিভার টুইস্টের কারণে আমার ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়া বললে এতটুকু বাড়িয়ে বলা হবে না। অনার্সে ভর্তি হবার জন্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে আবেদন করেছিল মোট ১৯৮ ছাত্র-ছাত্রী। লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় ৪৮ জনকে নির্বাচিত করা হয়। তার মধ্যে ঠাঁই পেল আমার নামও। এরপর এলো ভাইবা বা মৌখিক পরীক্ষা। আমি বসেছি পাঁচ শিক্ষকের মুখোমুখি। গম্ভীর পরিবেশ।
অবিশ্বাস্য শোনালেও আমার ভেতরে এতটুকু ভয় ছিল না, নার্ভাসনেসও না। একের পর এক শিক্ষকরা প্রশ্ন করেও চলেছেন। তখন ইংরেজি বিভাগের প্রধান ছিলেন প্রফেসর মোহাম্মদ আলী. তিনিও বসা। সাথে ছিলেন অধ্যাপক নিলুফার, অধ্যাপক ওবায়দুল কাদের আর জনা দুয়েক। প্রশ্ন এবং উত্তর-পর্ব স্বাভাবিক কারণে চলছে ইংরেজিতে। আমার পড়াশুনা কলেজিয়েট স্কুল আর চট্টগ্রাম কলেজ, কোন ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে নয়। এক পর্যায়ে জিজ্ঞেস করা হলো আমি কোন ইংরেজি উপন্যাস পড়েছি কিনা। এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হবো ভাবিনি। তাহলে প্রস্তুতি নিতাম আগ বাড়িয়ে। তারপরও মুহূর্ত দেরী না করে উত্তর দিলাম, ‘হ্যাঁ, পড়েছি’। কোনটা? ”অলিভার টুইস্ট”, আমার চটপট উত্তর। ”কাহিনীটা সংক্ষেপে বলতে পারবে”? আমি গড় গড় করে ইংরেজিতে কাহিনী বলে যাই। কাহিনী বলার সময় বেশ কয়েকবার ‘পিক পকেট’ শব্দটা উচ্চারণ করেছিলাম। এক শিক্ষক প্রশ্ন করলেন, ‘হোয়াট ইজ দ্য মিনিং অব পিক পকেট’? মনে মনে বলি, এই সেরেছে, এর সমার্থক ইংরেজি শব্দ তো জানা নেই। আঙ্‌গুল দুটো নিয়ে পকেট কাটার মত ভঙ্গি করে বলে উঠি, ‘দিজ ইজ পিক প্যকেট। ইন্টারভিউ বোর্ডে বসা শিক্ষকরা মৃদু হেসে উঠেন। মনে হলো তাদের অপছন্দ হয়নি। এবার প্রশ্ন, ‘উপন্যাসটি তুমি ইংরেজিতেই পড়েছো’? বলি, হ্যাঁ। সত্যি বলতে কী উপন্যাসটি তখনও আমি ইংরেজিতে পড়িনি। কেবল ওই উপন্যাস কেন, কোন ইংরেজি উপন্যাস তখন অবধি আমার পড়া হয়নি। বইটি দেখতে কেমন সে সম্পর্কেও তখন আমার কোন ধারণা ছিল না। জানতে চাইবেন তাহলে কী করে তার কাহিনী বললাম। এর কিছুদিন আগে সিনেমা হলে বাংলা ছায়াছবি ”বাবলু”” দেখেছিলাম। ছবিটি এই অলিভার টুইস্ট উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি। সে গল্পটাই হুবহু বলেছিলাম। উৎরে গেলাম। মৌখিক পরীক্ষায় ১৪ জনকে সিলেক্ট করা হলো, তার মধ্যে আমার স্থান ৮ম। ভর্তি হলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অনার্সে। কোত্থেকে কোথা চলে এলাম। যাই হোক ফিরে আসি মারাকাশে –
পরদিন সকালে শুরু হবে ১১তম আন্তর্জাতিক অভিবাসন সম্মেলন, যা ‘গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট’ বা সংক্ষেপে ‘জি এফ এম ডি’ হিসাবে পরিচিত। ফি বছর এক একটি দেশে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। চার থেকে পাঁচ দিনের এই সম্মেলনের দুটো দিক আছে- সিভিল সোসাইটি ডে’স এবং গভর্নমেন্ট ডে’স। তাতে সব মিলিয়ে প্রায় সাতশ প্রতিনিধি আসেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে। মন্ত্রী, সচিব পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কর্মী এতে যোগ দেন। মাইগ্রেশন একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ইস্যু চলতি শতাব্দীতে। এর ভালোমন্দ, কী করে মাইগ্রেশন বা অভিবাসন সবার উপকার বয়ে আনতে পারে এবং অভিবাসনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যে হারে উঠে পড়ে লেগেছে তা কী করে ঠেকানো যায় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক হয় এই সম্মেলনে। বলা চলে বিশাল যজ্ঞ।
২০১৬ সালে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল ঢাকায়, বাংলাদেশে। তার কিছুদিন আগে ঢাকায় হলি আর্টিজেন বেকারিতে সন্ত্রাসীরা ধর্মের নামে নিষ্ঠুর ও অমানবিকভাবে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল। এক পর্যায়ে নিরাপত্তার অজুহাতে ২০১৬ সালের এই সম্মেলন ঢাকা থেকে সরিয়ে অন্য দেশে আয়োজন করার প্রস্তাব উঠে এসেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার বিশেষ করে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক নিশ্চিত করলেন যে সরকার তাবৎ ব্যবস্থা নেবে প্রতিনিধিদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তার লক্ষ্যে এবং নিয়েও ছিল।
কেননা প্রায় ৭০০ প্রতিনিধির নিরাপত্তা ব্যবস্থা চাট্টিখানা কথা নয়। ঢাকায় আমাদের যে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল সে-কদিন, ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পুলিশ, র‌্যাবসহ, প্রবেশ মুখে ছিল স্ক্যানিং মেশিন। হোটেল লবিতেও ছিল পুলিশী নিরাপত্তা। হোটেল থেকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যাবার পথে ছিল পুলিশী নিরাপত্তা। প্রধানমন্ত্রী যেদিন সম্মেলনে আসেন সবার মোবাইল ফোন জমা দিতে হয়েছিল প্রবেশ মুখে, যা এর আগে ৯টি দেশে আয়োজিত কোন সম্মেলনে ঘটেনি।
তবে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছিল সবাইকে অর্থাৎ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের। এর আগে আয়োজিত নয়টি দেশের আয়োজনকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ ছিল শীর্ষে। এবারের মারাকাশ সম্মেলনের সিভিল সোসাইটি অংশে যোগ দেবার জন্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আবেদন করেছিল প্রায় ৭২০ অংশগ্রহণকারী। তাদের মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় এন জি ও, মাইগ্রেশন ও ডায়াসপোরা সংগঠন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, বিভিন্ন পেশাজীবী, ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি, গবেষক এবং মাইগ্রেশন কর্মী। এর থেকে বাছাই করে ২৪০ জনকে নির্বাচিত করা হয়। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কাজটিও সহজ ছিল না আমাদের জন্যে। দু-দিনের সিভিল সোসাইটি পর্বটি আয়োজন করার জন্যে ৩৩ জনের একটি আন্তর্জাতিক কমিটি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধি রয়েছে এই কমিটিতে। ঢাকা থেকে রয়েছেন একজন- সাইফুল ইসলাম। তিনি ওয়ারবি নামের একটি এন জি ও-র প্রধান নির্বাহী।
ইন্টারন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটি নামে পরিচিত এই কমিটির সদস্য হিসাবে আমি প্রতিনিধিত্ব করছি হল্যান্ডস্থ ডায়াসপোরা সংগঠন, বাসুগকে। আমাদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয় আবেদনকারী প্রতিনিধিদের অন-লাইনে সাবমিট করা রেজিস্ট্রেশন ফরম। তাতে আবেদনকারী ছাড়াও যে সংস্থাকে তিনি প্রতিনিধিত্ব করছেন তার তাবৎ বৃত্তান্ত। কিছু নিয়মাবলী মেনে করতে হয় এই নির্বাচন। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করেন বেশ উল্লেখযোগ্য প্রার্থী। স্বাভাবিকভাবে সবার আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। (চলবে) ৩-১-২০১৯

x