আফগান প্রেসিডেন্টের সভায় বোমা হামলা, নিহত ২৪

তালেবানের দায় স্বীকার

বুধবার , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
21

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির নির্বাচনী সমাবেশের কাছে বোমা বিস্ফোরণে ২৪ জন নিহত ও আরও ৩১ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার কাবুলের উত্তরে পারওয়ান প্রদেশের রাজধানী চারিকরের এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ঘানি আঘাত পাননি বলে তার এক সহযোগীর বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলার ঘটনাটি যখন ঘটে তখন ঘানি সমাবেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন। পারওয়ানের প্রাদেশিক হাসপাতালের প্রধান আব্দুল কাসিম সানগিন বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক বলে মনে হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সগুলো ছুটাছুটি করছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
বোমা হামলাটি এক আত্মঘাতী চালিয়েছে বলে স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। পৃথক আরেকটি ঘটনায় কাবুলের কেন্দ্রস্থলে এক বিস্ফোরণে অন্তত ছয় জন নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
দুই বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। এক বিবৃতিতে তালেবান দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু বানাতেই এই হামলা চালিয়েছে তাদের একজন আত্মঘাতী সদস্য। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য এ নির্বাচনেও প্রার্থী হচ্ছেন ঘানি। নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। রয়টার্স জানিয়েছে, ঘানি যখন ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন ঠিক সেই সময় বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। তালেবান আসন্ন নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে। ভোটাররা যেন ভোটকেন্দ্রমুখী না হয় তার জন্য আফগানিস্তানের ও বিদেশি বাহিনীগুলোর সঙ্গে লড়াই তীব্র করে তোলার শপথ নিয়েছেন তালেবান কমান্ডাররা। মঙ্গলবারের হামলা সম্পর্কে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বলেন, দুটি হামলাতেই তালেবান জড়িত ছিল। তিনি বলেন, নির্বাচনি সভায় যারা প্রেসিডেন্ট ঘানির সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তালেবান। একইসঙ্গে অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও হত্যার পরিকল্পনা ছিল।
প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেউ হতাহতের শিকার হয়েছেন কি না তা এখনও জানা যায়নি। পারওয়ান প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র ওয়াহিদা শাহকার জানান, নির্বাচনি সভার প্রবেশ দ্বারের কাছে এই হামলা চালানো হয়।
আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কয়েক মাস ধরে আলোচনার পর সমপ্রতি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর কথা জানায় তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। তবে গত সপ্তাহে ওই আলোচনাকে মৃত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তালেবান সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আফগান সরকার ও বিদেশি বাহিনীর ওপর হামলা তীব্র করে জনগণকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখা হবে। খবর বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার।

x