আপনি কি একজন অমায়িক মানুষ?

সুরাইয়া জাবীন

রবিবার , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
122

বিনয়ী, ভদ্র ও মার্জিত- যাই বলা হোক না কেন, আচরণগত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে একজন অমায়িক ব্যক্তিকে আলাদা করা সম্ভব হয় খুব সহজেই।
জন্মগতভাবে তাদের মাঝে শিষ্ঠাচার থাকে অন্যান্যদের চাইতে তুলনামূলক বেশি। স্বাভাবিকভাবেই তাদের চরিত্রের মাঝে কিছু ‘ডিফল্ট’ গুণ থাকে, যা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এমন কয়েকটি বিশেষ গুণ আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো। পয়েন্টগুলো মিলিয়ে দেখতে পারেন, আপনার সঙ্গে মিলে যায় কি না!
হাস্যোজ্জ্বল মুখ
কিছু মানুষের মুখে সবসময়ই একটি মিষ্টি হাসি ঝুলে থাকে। মুখের এই হাসিটা তাদের কষ্ট করে প্রদর্শন করতে হয় না। স্বভাবগতভাবেই তারা এমন প্রাণোচ্ছল ও হাস্যোজ্জ্বল মানুষ। কুশলাদির সময় কিংবা কোন কাজের কথাতেও, তাদের চেহারায় বিরক্তির ছাপ পড়ে না। আরও মজার বিষয় হলো, অমায়িক মানুষদের হাসি খুব সংক্রামক। তাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ হাসি উপেক্ষা করা বেশ কঠিন কাজ।
অন্যের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা
এমন অনেক মানুষের সাথেই পরিচিত হবেন, যারা আপনার কথা শোনার প্রতি মোটেও আগ্রহী নন। খুব আগ্রহ নিয়ে কোন কথা বলতে গেলেও, কথার মাঝখানেই চুপ করিয়ে দেওয়া হয় আপনাকে। এদিক দিয়ে বিনয়ী কিংবা অমায়িক মানুষেরা সবসময় অন্যের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনার চেষ্টা করেন। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দিতে সচেষ্ট থাকেন।
ভেবে কথা বলা
‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’ প্রবাদ বাক্যের মতোই বলতে হয়, ভাবিয়া বলিও কথা, বলিয়া ভাবিও না! কোন একটা কথা বলা হয়ে গেলে সেটা কোনভাবেই ফেরানো সম্ভব নয়। এই সহজ সত্যটা সবার জানা থাকলেও, মেনে চলতে পারে খুব কম মানুষই। আর এই কম সংখ্যক মানুষের ভেতর রয়েছে অমায়িক মানুষ। তারা সবসময় নিজের ভেতর এই ধারণাটাকে ধারণ করে ও পালন করে- কাউকে যে কোন কথা বলার আগে ভেবেচিন্তে বলতে হবে। তার কোন কথা দ্বারা কেউ যেন কষ্ট না পায়, বা তার কথার জন্য যেন কোন অনিষ্ট না হয়।
অকারণ অভিযোগ না করা
সবকিছু নিয়েই খুঁতখুঁত করা, অভিযোগ করা ও বিরক্তিভাব প্রকাশ করা নিশ্চিতভাবেই খুব ভালো আচরণ প্রকাশ করে না। কোন একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে তার আয়োজন নিয়ে অকারণ অভিযোগ করার ফলে উপস্থিত মানুষের ভেতর বিরক্তির উদ্রেক সৃষ্টি করে। এর ঠিক বিপরীত আচরণটাই পাওয়া যায় একজন অমায়িক মানুষের কাছ থেকে। যেকোন পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারা, ছোটখাটো কোন সমস্যাতে অভিযোগ না করার মতো গুণাবলীগুলো তার মাঝে সবসময় প্রকাশ্য।
ভালো কিংবা মন্দ- যাই হোক না কেন, মন্তব্য করার ক্ষেত্রে খুব একটা বিবেচনা করতে পছন্দ করেন না অনেকেই। কিন্তু একজন বিনয়ী ব্যক্তি যে কারোর, যে কোন বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার পরিচয় রাখবে। এছাড়া প্রশংসা করতে তারা সবসময়ই আপোষহীন।
অন্যকে বিচার না করা
ইংলিশে এর খুব সুন্দর একটি শব্দ আছে, ‘ঘড়হ-লঁফমসবহঃধষ’. একজন বিনয়ী মানুষ কখনোই নিজ অবস্থান থেকে অন্যকে, অন্যের পরিস্থিতি ও অবস্থাকে বিচার করবেন না। বরং বুঝতে চেষ্টা করবেন, সমস্যাযুক্ত কিংবা রাগান্বিত মানুষটি কেন এমন মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন।

x