আন্দোলনেই বেগম জিয়ার মুক্তি

অনশন কর্মসূচিতে বিএনপি নেতৃবৃন্দ

আজাদী ডেস্ক

মঙ্গলবার , ১০ জুলাই, ২০১৮ at ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ
98

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, নিঃর্শত মুক্তি এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচি পালনকালে বিএনপি নেতারা বলেছেন, রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণ বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবে । খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তাকে মুক্তি দেওয়ার পরই নির্বাচনের কথা ভাববে বিএনপি।

মহানগর বিএনপি : বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে এই সরকর। তার যে আইনী অধিকার তা থেকে বঞ্চিত করতে সরকার অপকৌশল গ্রহণ করেছে। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আপিল বিভাগ থেকে আদেশ দিয়ে দেশ নেত্রীকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে কারাগারে আটক রাখার চেষ্টা করছে তারা। জামিন বিলম্বিত করার জন্য ৬টি মামলায় অন্য আসামিরা জামিনে থাকার পরও তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার আদায়ে সারাজীবন আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছেন। দেশের জনগণ বেগম খালেদা জিয়াকে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করে আনবে। গতকাল সোমবার কাজীর দেউরী নাসিমনভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্র ঘোষিত অনশন কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন শাহাদাত।

তিনি আরো বলেন, সরকারের উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের উদ্ভট বেহেয়াপনায় বাংলাদেশের মানুষ হতবাক ও স্তম্ভিত। জনবিচ্ছিন্ন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে বিদেশিদের কাছে নতজানু হয়ে কৃপা আদায়ের এমন ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে যা বাংলাদেশে বিরল। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোন বিদেশি শক্তি যদি অবৈধ হস্তক্ষেপ করতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন ও সার্বভৌমত্ব অতি দুর্বল।

ডা. শাহাদাত বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের ধারাবাহিক হামলায় সারাদেশের মানুষ ক্ষোভে উত্তাল। দফায় দফায় হামলা চালিয়ে এবং ছাত্রীদের যেভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে তা নারীদের উপর একাত্তরের হানাদার বহিনীর নির্মমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিকে পাস কাটিয়ে মেধাশূন্য জাতি উপহার দিতে চক্রান্ত করছে সরকার।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, কারাগারে বন্দি বেগম খালেদা জিয়ার উপর অবিচার করছে সরকার। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের নেত্রীর জামিন নিয়েও নিষ্ঠুর আচরণ করছে এই অবৈধ সরকার। বর্তমান সরকার মানবতা ও মানবিকতা বিবর্জিত। ন্যায়বিচার থেকে দেশের সকল মানুষ বঞ্চিত। প্রতিনিয়ত বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন চালাচ্ছে। এই স্বৈরাচার সরকার অতীতের সকল স্বৈরাচারী সরকারকে হার মানিয়েছে। তিনি বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নেই। রাতের আধারে বিএনপি নেতা কর্মীরা অদৃশ্য হয়ে যায়। সারাদেশে চলছে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও সন্ত্রাস। এই দুর্নীতি ও দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের শপথ নিতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে গণবিরোধী ফ্যাসিষ্ট সরকারের কারাগার থেকে এদেশের জনগণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবে।

সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, বর্তমান সরকার সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত গায়েবী মামলা দায়ের করেছে। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ৫ জানুয়ারী মার্কা আর একটি নির্বাচন করার নীল নকশা প্রণয়নের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গণতন্ত্র প্রিয় জনগণ তাদের সেই খায়েশ পূরণ হতে দেবে না।

অনশন কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানকে ফলের জুস খাওয়ায়ে অনশন ভঙ্গ করান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী। অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মো: মিয়া ভোলা, জয়নাল আবেদীন জিয়া, সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কী, সৈয়দ আহামদ, ইকবাল চৌধুরী, এস এম আবুল ফয়েজ, উপদেষ্টা জাহিদুল করিম কচি, হাজী নবাব খান, এডভোকেট মকবুল কাদের, এডভোকেট জহুর আলম, অধ্যাপক শাহ আলম, এডভোকেট আবদুল মালেক, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, মো: শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মো: সিরাজ উল্লাহ, মনজুর আলম চৌধুরী মনজ প্রমুখ।

দক্ষিণ জেলা বিএনপি

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে দোস্ত বিল্ডিংস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় সভাপতির বক্তব্যে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া একতরফা নির্বাচনের চিন্তা বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। বাংলাদেশের জনগণ এ সরকারের অন্যায় অত্যাচার, জুলুমকে ঘৃণাভারে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে কোন নির্বাচন হবে না। সরকারের ঈশারায় বেগম খালেদা জিয়ার মামলা চলছে। অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিচার বিভাগের প্রতি জনগনের আস্থা ফিরিয়ে আনুন। বিকাল তিনটায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী অনশনে সংহতি প্রকাশ করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে জুস খাইয়ে অনশন ভাঙান।

অনশন চলাকালে আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ এনামুল হক এনাম, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আবদুল গাফফার চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক নাজমুল মোস্তফা আমিন, বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাস্টার মো: লোকমান, বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র হাজী আবুল কালাম আবু, সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী মো: রফিকুল আলম, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজগর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আলম তালুকদার, জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, এড. আবু তাহের, শওকত ওসমান, এডভোকেট মকবুল কাদের, এড. আবদুল মালেক, এড. জহিরুল আলম, আবুল হোসেন, কে এম আনিসুর রহমান, জাহেদুল হক, আবদুল মান্নান তালুকদার, মোজাম্মেল হক, আবদুর সবুর, শফিউল করিম, সালাউদ্দিন সুমন, ফজলুল কবির ফজলু, মুহাম্মদ শহীদুল আলম শহীদ, মো: মহসিন, হামিদুর রহমান পিয়ারু, আবুল মনসুর সিকদার সোহেল, আবদুল মান্নান, জোনায়েদ সিকদার, নূর মোস্তফা সিকদার, ওহিদুল আলম পিপলু, নঈম উদ্দীন চৌধুরী, আবু তৈয়ব চৌধুরী, ওবাইদুল হক রিকু, সঞ্জয় চক্রবর্তী, তরিকুল ইসলাম টুটুল, কে এম আব্বাস, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

উত্তর জেলা বিএনপি : চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন শওকত আলী নুর, সরওয়ার আলমগীর, আবু জাফর চৌধুরী, মাইনুদ্দিন মাহমুদ, নিজামুল হক তপন, ফিরোজ আহমেদ, কামাল মেম্বার, মো: মাহফুজুর রহমান, শফিউল জামান, সাবের সুলতান কাজল, ইলিয়াছ চৌধুরী, আবু বকর ছিদ্দিকী সোহেল, রেজাউল করিম, নুরুল ইসলাম বাবুল, ইলিয়াছ সিকদার, হাজী সাদেক, মো: রফিকুল হক, মিয়ান রায়হানুল রাহী, এম. শাহজান শাহিল, জানে আলম, মাসুদ, আলমগীর, শাহাদাত মির্জা, আহসান, নিজাম উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন, কামরুল, জসিম উদ্দিন, এম.জি কিবরীয়া, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, বিপুল খান, লিমন চৌধুরী বাপ্পা, মনির, আলমগীর, জাশু, হাসান মুরাদ, রোকন, আকবর, এরশাদ, ইসতিয়াক, আরফাত, মিশাদুর রহমান প্রমুখ।

প্রতিকী অনশনে সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া বলেন, বেগম জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে আওয়ামী লীগ সরকার মূলত বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কারাগারে বন্দী করেছে। বেগম জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্রের মুক্তি একটি আরেকটির সাথে ওতপ্রতোভাবে জড়িত। তাই বেগম জিয়াকে বন্দী রেখে শুধুমাত্র নির্বাচনের মুলা ঝুলিয়ে সরকার আরেকটি ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করতে চায়। যা বাংলাদেশের জনগণ কখনই হতে দেবে না। আদালতের মাধ্যমে বেগম জিয়ার মুক্তি না হলে জনগণ রাজপথে সমাধানের পথ বেঁচে নেবে।

অনশন কর্মসূচীতে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শেখ হাসিনা এখন শুধুমাত্র বিএনপি নয়, সারাদেশের ১৬ কোটি জনতার বিরুদ্ধে গিয়ে বাকশাল কায়েম করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চায়। গণতন্ত্রকামী কোনো বিরোধী মতবাদ এমনকি তরুণ সমাজ ও সাধারণ ছাত্রদেরকেও নির্মম নির্যাতন চালিয়ে তাদের কণ্ঠরোধ করতে চায়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন অগণতান্ত্রিক, ভয়ভীতি, গুম, খুন করে গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। তিনি অতিসত্তর বেগম জিয়া সহ সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

x