আনোয়ারায় বোরো চাষে অনিশ্চয়তা

স্বনির্ভর খালে সওজের বাঁধ!

এম.নুরুল ইসলাম, আনোয়ারা

বৃহস্পতিবার , ১৬ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ

আনোয়ারায় ইছামতি স্বনির্ভর খালে সওজের গাইড ওয়াল নির্মাণকালে পুরো খাল মাটি দিয়ে দুই পাশে ভরাট করে বাঁধ দেয়ায় বোরো চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। যার কারণে ২ হাজার কৃষকের ভাগ্যে নেমে এসেছে চরম হতাশা। এ ব্যাপার এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার যে কোন মূল্যে বোরো চাষ হবে বলে জানিয়েছেন। তবে সওজ কর্তৃপক্ষ কখন বাঁধ উঠিয়ে নেবে সেই বিষয়ে সঠিক কোন বক্তব্য দেননি। সওজ সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা বরকল সড়কের সিংহরা ষোলকাটা এলাকায় সড়কের ভাঙন ঠেকাতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ স্বনির্ভর খালের বোয়ালগাঁও অংশে বাঁধ দিয়ে খাল ভরাট করে গাইড ওয়ালের নির্মাণ কাজ করছেন গত এক মাসেরও অধিক সময় ধারে। কিন্তু কাজের এত ধীর গতি কখন কাজ শেষ হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। যার ফলে ষোলকাটা, বোয়াল গাঁও, হাজি গাঁও ও খিলপাড়া সহ এ অঞ্চলে চাষাবাদকারী ২ হাজার কৃষক চরম হতাশায় পড়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অভিযোগ দেয়া হলেও কোন প্রশাসনিক উদ্যোগ না নেওয়ায় কৃষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে খিলপাড়া, বারখাইন ষোলকাটা ও হাজীগাঁওয়ে প্রায় দুই হাজার চাষীদের ৩ শত হেক্টর জমির মধ্যে বোরো চাষে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ষোলকাটার বাসিন্দা মো. মহি উদ্দিন জানায়, প্রতি বছর মৌসুমের শুরুতেই আমি ৪ একরের অধিক জমিতে বোরো চাষ করি। কিন্তু খালে বাঁধ দিয়ে রাখায় এখনো বীজ তলাও তৈরি করতে পারিনি। যার ফলে এলাকার ২ হাজর কৃষক পরিবারের কপাল পুড়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম জানায়, সওজ এলাকাবাসীর সাথে কথা না বলে ইচ্ছা মত খাল বন্ধ করার ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা প্রশাসনকে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
খালের চাষি এয়াকুব আলী জানান,স্বনির্ভর খালটি আনোয়ারা হয়ে ষোলকাটা,খিলপাড়া বিলে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এখানে রয়েছে হাজার হাজার বোরো চাষি। শুধু মাত্র ষোলকাটা বিলে রয়েছে দেড় হাজারের উপরে বোরো মৌসুমের ধান চাষি। এব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, খালের বাঁধের ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্তৃপক্ষের কাছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। বোরো চাষ শুরুরের আগে যেন বাঁধ তুলে খালের পানি সচল করে দেওয়া হয়। যদি বাঁধটি তুলে নেয়া না হয় তাহলে প্রায় ৩ শত হেক্টর জমির ২ হাজার চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী বলরাম চাকমার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,গত এক মাস ধরে সড়কের গাইড ওয়ালের উন্নয়ন কাজের জন্য খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ধীর গতির কারণে সময় মত কাজ শেষ করা যাচ্ছেনা। তবে কখন কাজ শেষ হবে সে ব্যাপারে তিনি কোন কিছু বলতে পারেনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমদ জানান, কোন অবস্থাতেই বোরো চাষ বন্ধ করা যাবেনা। সওজ কাজ শেষ করতে না পারলে বাঁধ কেটে বোরো শুরু করা হবে।

x