আনজানা ডালিয়া (কবি নই আমি প্রকৃতির বার্তাবাহক)

বৃহস্পতিবার , ৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ
114

: জীবনের বাঁকেবাঁকে দুখকে জড়িয়ে পথচলা। দুখ যখন ঘিরে ধরে চারদিক থেকে তখন ওই পাহাড় আমায় বুকে টেনে নেয়। দেয় মিষ্টি পরশ। আমিও সোহাগে পাগল হয়ে উঠি। এমনি করেই পাহাড়ের সাথে আমার প্রেম। ছুটে যাই চূড়ায়। পা ছড়িয়ে বসে গান শুনি বিচিত্র সব নাম না জানা পাখিদের। শুধু কি শুনি? না তাদের সাথে গাইও। ঝর্ণার জলে পা ডুবিয়ে দেখি বনমোরগের খুঁনসুটি। সাথে তো রয়েছে নুড়ি পাথরের গলাগলি ঢলাঢলি প্রেম। তখন জেগে ওঠে মনে উত্তাল প্রেম। আর হরিণগুলো তো আমায় তাদের প্রেমের সাক্ষী রাখে। বড্ড বেলাজা হরিণ হরিণিগুলো আমার সামনেই তারা প্রেম চালিয়ে যায়। আর আমি বনজুঁই এর বনে ঘুরি পুজোর ফুল খুঁজি। আমার মনদেবতার যে বনজুঁই পছন্দ। ডানা ঝাপটানি দিয়ে বিরহী পাখিটা আমায় বলে পরজন্মে পাখি হইও সখী আমরা এ বনে প্রেমে মেতে থাকবো। বিরহ ধুয়ে নিবো ওই ঝর্ণার জলে। বুকে আগলে রাখবো ভালোবেসে। এমনি করে পাহাড়, ঝর্ণার কাছে গেলে ওরা বলে লিখো সখী আমাদের নিয়ে লিখো। লিখো আমাদের প্রেম কাহিনী। লিখতে শুরু করি প্রকৃতির সাথে প্রেম পর্বেপর্বে। আমার গল্পে অজান্তেই উঠে আসে প্রেম, পাহাড়, ঝর্ণা, ফুল, পাখি। বিভোর হই আমি ওদের প্রেমে প্রকৃতির সাথে চলে আমার পথ চলা। ছোটগল্প দিয়ে শুরু করি লেখালেখির জীবন। পাশাপশি চলছে শব্দের গাঁথুনি কবিতার ছলে। লেখক বা কবি নই আমি আমি সাহিত্যের সেবক মাত্র। প্রকৃতির প্রেমিক আমি। গল্প , কবিতা নিয়ে প্রকৃতির প্রতিটা অলিতেগলিতে ঘুরে বেড়াই আমি। সাগরের হাতছানিতে ছুটে যাই উত্তাল ঢেউয়ের বুকে আমার কবিতারা প্রাণ পায়। নেচে উঠে আমার গল্পরা। আমার লেখক হয়ে ওঠার গল্পটা অতি সাধারণ। চলতে চলতে গাঁথি, দেখতে দেখতে শিখি, হাসতে হাসতে প্রেমে পড়ি কবিতার। কবিতা আমার সত্যিকার প্রেমিক। যে প্রেমিক আমায় কখনও ছেড়ে যাবেনা, দিবে না কখনও বিরহের ব্যথা। কবিতার হাত ধরে এগিয়ে যাবো আমার সেই রাজহংস-রাজহংসীর সাজিয়ে দেয়া শিউলি ফুল বিছানো ছোট্ট ঘরে। কবিতায় হাসি, কবিতায় গাই, কবিতায় বেঁচে থাকবো তোমাদের হৃদয়ে। চিহ্ন রেখে যাবো পথচলায় তোমাদের দুয়ারে। লেখক হয়ে নয় প্রকৃতির বার্তাবাহক হয়ে।

x