আতুরার ডিপোয় ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আহত ১

নেপথ্যে মাদক ও নারী

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২৭ জুন, ২০১৮ at ৪:০১ পূর্বাহ্ণ
263

মাদকব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও নারীঘটিত কারণে দুইপক্ষের সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে সাইদুল ইসলাম অনিক (২০) নামে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন মো. হারুনুর রশিদ সম্রাট (২২) নামে অপর যুবক। গত রাত ৯টার দিকে পাঁচলাইশ থানার আতুরার ডিপো এলাকার এমআইবি পেট্রোল পাম্পের উল্টোপাশে এ ঘটনা ঘটে। আহত সম্রাট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। নিহত অনিক ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়ার সিরাজউদ্দিন ভূইয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নগরীর উত্তর হামজারবাগ এলাকার তুলা ফ্যাক্টরি এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। আহত সম্রাট হামজারবাগের শাহাবুদ্দিনের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায়। অনিক পেশায় তুলা ব্যবসায়ী এবং সম্রাট একটি ফিশিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে গত রাত পৌনে ১২ টায় এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময় পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি। ঘটনার মূল হোতা হিসেবে তৈয়্যব নামে একজন খুঁজছে বলে জানায় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আতুরার ডিপো এলাকায় স্থানীয় এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তৈয়্যবের। প্রায় সময় তারা মেলামেশা করতো। এলাকার লোকজন বিষয়টিকে দৃষ্টিকটু আখ্যা দিয়ে তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করে আসছিল। অনিক এবং সম্রাটও একাধিকবার তৈয়্যবকে নিষেধ করে। এই নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাকতিণ্ডা হয়। এর জের ধরে গত রাত নয়টার দিকে তৈয়্যব ও তার অনুসারিরা অনিক ও সম্রাটের উপর হামলা করে। এসময় দু’ পক্ষের মধ্যে হাতাহাাতি হয়। একপর্যায়ে অনিক ও সম্রাটকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তৈয়্যব ও সাঙ্গপাঙ্গরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় অনিক ও সম্রাটকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে এলে সাড়ে নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অনিক।

এদিকে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেও দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। হত্যাকাণ্ডের পিছনে এটিও অন্যতম কারণ।

পাঁচলাইশ ওয়ার্ড কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন খান দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘দলীয় কোন কোন্দল ছিল না। মাদক বেচাবিক্রি নিয়ে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। নয়টার দিকে ছুরিকাঘাতে একজন মারা গেছেন।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে বলেন, আতুরার ডিপোতে কথা কাটাকাটির জের ধরে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এতে অনিক ও সম্রাট নামে দুই জন আহত হন। তাদের হাসপপাতালে নিয়ে আসা হয়। সাড়ে নয়টার দিকে অনিক মারা যান।

পাঁচলাইশ থানার ওসি (তদন্ত) ওয়ালি উদ্দিন গত রাত পৌনে ১২টায় দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যেটা জানতে পেরেছি আধিপাত্যকে কেন্দ্র করে ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত তৈয়্যবসহ বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, রাতের মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারব।

গত রাত ১২ টায় নিহত অনিকের ভাই মানিক দৈনিক আজাদীকে বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। নি:ম্বাস ত্যাগ করার আগে আমার ভাই আমাকে তৈয়্যবের নাম বলে গেছে। এ ঘটনায় তৈয়্যাবকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

x