আজ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

.আজাদী ডেস্ক

বৃহস্পতিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ

আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি পাকিস্তান থেকে লন্ডন যান। তারপর দিল্লী হয়ে ঢাকা ফেরেন।
দিবসটি পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাঁকে গ্রেফতার করে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে। জাতির জনক পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোর রাতে ইংরেজি হিসাবে ৮ জানুয়ারি। এদিন বঙ্গবন্ধুকে বিমানে তুলে দেয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তিনি পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে। পরে ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিমানে করে পরের দিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন। দশ তারিখ সকালেই তিনি নামেন দিল্লিতে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র মন্ত্রিসভা, প্রধান নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অন্যান্য অতিথি ও সেদেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের জনক শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধু ভারতের নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের কাছে তাদের অকৃপণ সাহায্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা হিসেবে।’
বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য প্রাণবন্ত অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
মহানগর আওয়ামী লীগ : বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তণ দিবস পালন উপলক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচিতে রয়েছে সকাল ৬টায় দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা। কর্মসূচিকে সফল করে তোলার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের সকল কর্মকর্তা, থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন অনুরোধ জানিয়েছেন।
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ : বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, সংগঠন কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার, বিকেল ৪ টায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি থাকবনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। এতে সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম অনুরোধ জানিয়েছেন।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ : বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা আজ সকাল ১০টায় সংগঠনের আন্দরকিল্লাস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ। সভায় সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান অনুরোধ জানিয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজন : বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে আজ সন্ধ্যায় দোস্ত বিল্ডিং চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবীরা অংশগ্রহণ করবেন। সভায় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার মহিউদ্দিন রাশেদ, যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার মো. ইদ্রিছ, যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার ফজল আহমদ প্রমূখ মুক্তিযোদ্ধা।

x