আখের বাম্পার ফলনে লাভবান সীতাকুণ্ডের অর্ধশতাধিক কৃষক

লিটন কুমার চৌধুরী : সীতাকুণ্ড

সোমবার , ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ at ৪:০২ পূর্বাহ্ণ
25

আশানুরূপ ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ায় এবার আখ চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন সীতাকুণ্ডের অর্ধশতাধিক কৃষক। গতবারের তুলনায় এবার রোগবালাই কম হওয়ায় ও সঠিক সময়ে পানি সেচের ব্যবস্থার কারণে আখের দ্বিগুণ ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি বাম্পার ফলনের কারনে সীতাকুণ্ডের সর্বত্র আখের চাহিদামত সরবরাহ থাকায় সমান তালে আখ কিনছেন ক্রেতারা।
জানা যায়, আখের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হলো কার্ত্তিক ও অগ্রাহায়নের মাঝামাঝিতে। আখের চারা রোপণের আগে প্রথমে জমির আগাছা উত্তমরূপে পরিষ্কার করতে হয়। প্রতি তিন হাত পরপর মাটি কেটে উঁচু করে জমিতে আটি তৈরি করতে হয়। আটি তৈরীর কয়েকদিন পর সার, পটাশ, ফসফেট, বাসুডিন ও গোবর সার একত্রে মিশিয়ে আটিতে পরিমান মত ছিটিয়ে দিতে হয়। এরপর মাটিকে কোদাল দিয়ে আলতো করে কুপিয়ে ঝুরঝুরে করে পানি প্রয়োগের পর প্রতি এক হাত অন্তর একটি করে আখের চারা লাগানো হয়। একমাস পর আগাছা পরিস্কার করে পূণরায় মাটিতে ঝুরঝুরে করতে হয় এবং প্রতি তিনমাস পর পুনরায় আগাছা পরিষ্কার করে আখের আটিকে উত্তমরূপে মাটি দিতে হয়। এরপর প্রতিমাসে এক থেকে দু’বার করে শুকিয়ে যাওয়া পাতা পরিষ্কার করতে হয়। এছাড়া ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আখ সুরক্ষিত রাখতে চার হাত পরপর বাশের কঞ্চি পুতে আখগুলোকে শক্তভাবে বেঁধে দেওয়া হয়। প্রায় ১০ মাস পর শ্রাবণের শেষের দিকে জমি থেকে উৎপাদিত আখ তুলে বাজারে বিক্রয় করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার সীতাকুণ্ডের পৌরসভা এলাকা, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন, মরাদপুর ইউনিয়ন ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে অর্ধশতাধিক কৃষক আখের চাষাবাদ করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশী পরিমানে আখের চাষ হয়েছে বাড়বকুণ্ডের হাতিলোটা গ্রামে। মনির হোসেন, সাইফুল, নুর সোলেমান,হাসান উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, কেরামত আলী ও আলমগীরসহ ২০জন কৃষক প্রায় চার হেক্টর জমিতে আখের চাষাবাদ করেছে। কৃষি কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর কারিগরী সহযোগিতায় রোগবালাই দমনে সঠিক সময়ে কীটনাশক প্রয়োগসহ করনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ফলন হয়েছে আশানুরূপ। এতে ১০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন আখ উৎপাদিত হয়েছে বলেও জানান তারা।
হাতিলোটা গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলাম জানান, এবার ২০ শতক জমিতে তিনি আখের চাষ করেছেন। আখের চারা রোপণ, বাঁশ, কীটনাশক ও শ্রমিকের বেতন বাবদ তার ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সঠিক সময়ে রোগবালাই দমন করায় তার জমি থেকে তিন হাজার পিচ আখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এতে তার খরচ বাদে ৩৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।
এলাকার অপর কৃষক মোশারফ হোসেন বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিনি ২৫ শতক জমিতে আখের চাষ করেছেন। বীজতলা তৈরি, সার, কীটনাশক ও বাঁশের কঞ্চিতে তার ৩০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু আখের আটির ক্ষতিসাধিত হলেও তিনি পাইকারী বাজারে ৬৫ হাজার টাকার আখ বিক্রি করেছেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাফকাত রিয়াদ জানান, সীতাকুণ্ডের পৌরসভাসহ তিনটি ইউনিয়নে এবার ১০ হেক্টর জমিতে ৬০মেট্রিক টন আখের আবাদ হয়েছে। রোগবালাই দমনে কৃষি অফিসের কারিগরী সহযোগিতায় আশানুরূপ ফলনে লাভবান হয়েছে কৃষক। পাশাপাশি লোকসানের ঝুঁকি কম থাকায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ধীরে ধীরে বাড়ছে আখের চাষাবাদ।

x