আইসিসির সব আয়োজনে বিড করবে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার , ২১ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বর্ণিল উদ্বোধনীর মাধ্যমে পর্দা ওঠেছিল ২০১১ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (আইসিসি) ইভেন্ট আয়োজন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ২০২৩ সাল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত যে ইভেন্টগুলো হবে সেগুলো বিডিংয়ের মাধ্যমে হবে। এতে শুধু আয়োজক দেশ নয়, আইসিসির সব সদস্য দেশ লাভবান হবে। আর এই বিডিংয়ে অংশ নেবে বাংলাদেশও। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মানু সোহনির সাক্ষাতের ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিসিবি সভাপতি।
পাপন বলেন, ইভেন্ট আয়োজনে নতুন প্রস্তাব নিয়ে এসেছে আইসিসি। আইসিসির ইভেন্টগুলো আগে যেভাবে বণ্টন করা হতো, এর সাথে এবারের প্রস্তাবে একটা বিরাট পার্থক্য রয়েছে। এবার তারা নতুন একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছে যে, ২০২৩ সাল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত যে ইভেন্টগুলো হবে- ছেলেদের আটটি, মেয়েদের আটটি এবং অনূর্ধ্ব-১৯ এর আটটি। এই ২৪টি ইভেন্ট অ্যাওয়ার্ড করা হবে নতুন পদ্ধতিতে। তিনি ইভেন্ট আয়োজনে আগে যেটা হতো অনেক সময় ঘুরে ঘুরে হতো। মহাদেশ অনুযায়ী হতো। সদস্য বিবেচনায় হতো। বোর্ডের সঙ্গে কথাবার্তার মাধ্যমে হতো। কিন্তু এবার আইসিসি যে পদ্ধতিটা করেছে তা হচ্ছে বিডিং। এটা হচ্ছে ফিফার আয়োজনে এবং অলিম্পিকে যেটা করা হয় সাধারণত দেশ বিড করে। আইসিসিও এ পদ্ধতিতে যাচ্ছে। এটা শুধু ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা এখন ওপেন।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কী সম্পর্ক জানতে চাইলে বিসিবি প্রধান বলেন, প্রথমে সিকিউরিটির বিষয়টা তো একটা গুরুত্বপূর্ণ। ইভেন্ট আয়োজনে কয়েকটা জায়গা আছে। যেখানে মানুষ একটু ইতঃস্তত করে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নিরাপত্তা। নিরাপত্তা ইস্যুতে সবচেয়ে ভালো অবশ্য বাংলাদেশ। সেদিক দিয়ে অনেক ভালো আছি আমরা। ভারত হলে তাদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় আসবে। কারণ রেটিং যখন করবে তখন নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হবে। সুতরাং সেদিক দিয়ে যদি চিন্তা করতে হয় তাহলে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে। আর সেজন্য আইসিসির উচ্চপর্যায়ের কর্তারা এসেছে। আরও অন্যান্য জায়গায় যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তারা সাক্ষাৎ করবে। ২০২৩ সাল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ইভেন্টগুলোর মধ্যে বিশ্বকাপ আছে কি-না জানতে চাইলে পাপন বলেন, ‘অল ওয়ার্ল্ডকাপ, অল আইসিসি ইভেন্ট, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি- সবকিছু এতে আছে।
সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিড করবে কি-না জানতে চাইলে পাপন বলেন, অবশ্যই করবে। কারণ আমাদের একটা সুবিধা যে, অন্য নতুন কোনো দেশ যদি বিড করতে যায় তারাও পারবে। কিন্তু তাদের অবকাঠামো উন্নয়ন করতে প্রচুর টাকা লাগবে। নতুন কোনো দেশ ওয়ার্ল্ড কাপ আয়োজন করতে চাইলে তাদের মিনিমাম আটটা মাঠ প্রয়োজন হবে। আমাদের সুবিধা হচ্ছে আমরা যারা টেস্ট প্লেয়িং কান্ট্রি, আমাদের অবকাঠামো উন্নয়নে তেমন কোনো ইনভেস্ট লাগছে না। সুতরাং সেজন্য আমরা একটু প্লাস পয়েন্টে থাকবো। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে আইসিসি সব দেশেই যাচ্ছে। তারা মালয়েশিয়ায়ও মিটিং করে এসেছে। তারা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রসহ যারা আগ্রহী সব জায়গাতেই যাচ্ছে। সব জায়গায় যাওয়ার পর এ প্রসেসটা যখন শুরু হবে তখন কারও যদি কোনো প্রশ্ন থাকে কিবা এ প্রসেসটার নিয়ম-কানুন কী, সেটা জানাতেই এসেছে তারা।
এটাতো মনে হয় আইসিসির আয় বাড়ানোর উদ্যোগ। এমন প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন, এটা অবশ্যই আয় বৃদ্ধির চেষ্টা। তবে শুধু ওদের নয়, সদস্য সব দেশেরও হবে।