আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন নূরুচ্ছাফা তালুকদার

স্মরণসভায় কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ
187

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সুন্দর সমাজ গঠনে কাজ করে গেছেন অ্যাডভোকেট নূরুচ্ছাফা তালুকদার। তিনি স্বৈরাচার আমলেও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে বাংলাদেশ গঠনেও তার অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে। তার পথেই আইনজীবীদের চলতে হবে। কথাগুলো বলেছেন কৃষি মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক।
তিনি আরো বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহম্মদ ও সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনরা আইনজীবী হলেও তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার শত্রু। তারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছিলেন, কাজ করেছেন। এমন আইনজীবী আমরা বাংলাদেশে দেখতে চাই না। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অডিটরিয়ামে মরহুম অ্যাডভোকেট নূরুচছাফা তালুকদারের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।
বাবার স্মরণসভায় নূরুচছাফা তালুকদারের বড় ছেলে তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৫ বছর বয়সে ছাত্রলীগের সদস্য হই। ১৯৭৮ সালে মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। বাবার বড় ছেলে হওয়ায় আমাকে রাজনীতিতে আসতে দিতে চাননি। গত ১০ বছর ধরে যারা আামদের দল করছেন তারা তা বুঝতে পারবেন না। প্রথমে বাবা বাধা দিলেও পরে উৎসাহ দিতেন। ১৯৮৭ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে গ্রেফতার হলে কোতোয়ালী থানায় আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন বাসায় খবর দিলে বাবা ভারতে রাজবন্দিদের নিয়ে লেখা দুটি বই পাঠান হাজতখানায়। বাবা যদি সেই দিন সরকারি কর্মকর্তা হতেন তাহলে আমি রাজনীতি করতে পারতাম না। বাবাকে সৎভাবে জীবনযাপন করতে দেখেছি। কিশোরকাল থেকেই বাবা ছিল আমার আদর্শ। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুলের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সদস্য অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোক্তার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মো. জিয়াউদ্দিন, ড. হাছান মাহমুদের মা অ্যাডভোকটে কামরুন নাহার বেগম, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট একিউএম সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ, আইয়ুব খান, অশোক কুমার দাশ, মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী, জেলা পিপি নাজমুল আহসান খান ও বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।
বাবা সর্ম্পকে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেন, এখন সবাই না, অনেক আইনজীবী আছেন যারা পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি) হওয়ার জন্য দৌঁড়াদৌঁড়ি করেন। কিন্তু আমার বাবা ১৯৮৩ সালে ঘরে বসেই পিপি হয়েছিলেন। পিপি হওয়ার পর বাবার আয় কমে যায়। আয় কমে যাওয়ার পরও কেন পিপি হয়েছেন- বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাবার কাছে জানতে চাইলে বাবা বলেন- এটি সম্মানের পদ তাই হয়েছি। কিন্তু এরশাদ যখনই বাবাকে জাতীয় পার্টিতে যোগদানের কথা বলেন- তখনই বাবা পিপি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাবা আইনের উপর সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথমে ঢাকায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরে এক বছরের মাথায় চট্টগ্রামে চলে আসেন।
আইনজীবীদের উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম আদালতে কর্মরত ছিলেন এমন অনেক আইনজীবী আছেন যারা মন্ত্রীও হয়েছেন। চট্টগ্রামে এক সময় হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ ছিল। চট্টগ্রামে সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের দাবির সাথে আমি ব্যক্তিগতভাবে একমত। কিন্তু হাইকোর্টের আইনজীবীরা চট্টগ্রামে সার্কিট বেঞ্চ স্থাপন হউক তা চান না। সম্প্রতি এক মিটিং এ প্রধান বিচারপতিকে আমি বিষয়টি বলেছি। চট্টগ্রামের আইনজীবীদের দাবি জোরালো হলে এটি স্থাপন সহজ হবে।
জেলা জজদের আর্থিক ক্ষমতা কম থাকার কথা উল্লেখ করে তথ্য মন্ত্রী বলেন, এখন জেলা জজদের মাত্র পাঁচ লাখ টাকা খরচ করার আর্থিক ক্ষমতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষমতা ৫ কোটি পর্যন্ত করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টের এক আইনজীবী একটি রিট করে এটি আটকে রেখেছেন। হাইকোর্টে কিছু আইনজীবী আছেন- যাদের কাজই হলো কিছু হলে রিট করা। তাদের ব্যক্তিগত মামলা কম থাকায় তারা রিট করে আয় বাড়াতে চান। এ রিট সমাধানে আইনমন্ত্রী পদক্ষেপ নেবেন বলে এক সভায় জানিয়েছেন। জেলা জজদের আর্থিক ক্ষমতা আনলিমিটেড থাকা উচিত।
ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার পরও বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনের পর তাকে এনে আইনমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তিনি সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম। বঙ্গবন্ধু নিজের আসন থেকে তাকে দুইবার সংসদ সদস্যও বানিয়েছেন। সেই ব্যক্তি এখন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ষড়যন্ত্র করছেন। জ্বালাও-পোড়াও করে ১৫০ জন মানুষের হত্যাকারী বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। আমরা আপনার কাছ থেকে এসব কর্মকান্ড আশা করি না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে সংযুক্ত। এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে রায় দিতে হবে।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ২০০৪ সালে যখন বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী তখন তার সরকারের পৃষ্টপোষকতায় এবং তার পুত্রের তত্ত্বাবধানে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। আর বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে সাজা ভোগ করছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি জিঘাংসার রাজনীতি করতেন তাহলে তিনি এখন কারাগারেই থাকতেন। তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্বদ্যিালয়ে হাসপাতালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকতেন না।