আইনি বাধায় খালেদার মুক্তি নিয়ে সংশয়

জামিন স্থগিত আবেদনের শুনানি আজ

ঢাকা ব্যুরো

বুধবার , ১৪ মার্চ, ২০১৮ at ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ
339

জামিন পেলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির পথে সংশয় কাটেনি। তার কারামুক্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বেশ কিছু আইনি প্রক্রিয়া। আর তাছাড়া নাশকতার আরেক মামলায় কুমিল্লার একটি আদালত তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন গ্রহণ করায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। ঐ মামলায় ২৮ মার্চ তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এরই মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, কুমিল্লার নাশকতা মামলায় জামিন না হলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন না। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। নিম্ন আদালত থেকে ওই মামলার নথি হাই কোর্টে আসার পর তা দেখে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার দুপুরে তার চার মাসের জামিন মঞ্জুর করে। তবে গতকাল বেগম জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে শুনানি হয়। তবে চেম্বার আদালত বেগম জিয়ার জামিন স্থগিত করেনি। আজ বুধবার এ বিষয়ে আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, তাদের নেত্রীকে ‘সাজানো মামলায়’ সাজা দেওয়ার পর ক্ষমতাসীনরা এখন নানা কৌশলে কারাগারে আটকে রাখার চেষ্টা করছে।

বিডিনিউজ বাংলানিউজসহ বিভিন্ন বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন স্থগিতের আবেদন দুটি করা হয়েছে। প্রথম আবেদনটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার সকালে দুদকের পক্ষ থেকে জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। দুদকের আবেদনের ঘণ্টাখানেক পর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দ্বিতীয় আবেদনটি করে রাষ্ট্রপক্ষ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম বলেন, আপিলে যাওয়ার জন্য এরইমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করছি। আমরা আপিলে হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চাইবো। আপিল বিভাগে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করা হলে খালেদা জিয়ার জামিনে কারামুক্তি ঠেকানো যাবে। খালেদা জিয়ার জামিনের কারামুক্তির বিষয়ে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান মনে করছেন, হাইকোর্টের আদেশ আপিলে বহাল থাকলে এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্য কোনও মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা না থাকলে তিনি মুক্তি (জামিনে) পেতে পারবেন। আর তা নাহলে তিনি মুক্তি পাবেন না।

সোমবার হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর এখন খালেদা জিয়ার জামিনে কারামুক্তির সাধারণ প্রক্রিয়া হলো, হাইকোর্টের এই জামিন আদেশটি লিখিতভাবে রায় প্রদানকারী আদালতে পৌঁছাবে। এরপর রায় প্রদানকারী আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে একটি বেইলবন্ড (জামিন নামা) দাখিল করা হবে। পরে ওই বেইলবন্ড জমা হলে বিচারিক আদালত কারাগার বরাবর একটি রিলিজ অর্ডার পাঠাবে। সেই অর্ডার হাতে পাওয়ার পর খালেদা জিয়া জামিনে কারামুক্ত হবেন। তবে এসব পদ্ধতি অনুসরণ করতে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে মনে করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেক্ষেত্রে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে কোন আদেশ দেওয়া হলে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি দীর্ঘায়িত হতে পারে।

x