‘আঁই ন ডরাই এই মনোভাব লই লামি পরন পড়িব’

মীর আসলাম, রাউজান

শুক্রবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি বাজারের দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের গণধোলাই দেয়ার আহ্বানের পরক্ষণে তিনি বলেন আমার ভুল হয়েছে। বলছিলাম মগজ ধোলাই দেয়ার কথা। তিনি চট্টগ্রামের ভাষায় বলেন, ‘তোঁয়ারা বাজরত নামো। তারারে শায়েস্তা কর, এ্যান মনোভাব দেখাও যেন আঁই ন ডরাই। দেখিবা সব ঠিক অই যাইবু।’
তিনি রসিকতা করে বলে উঠেন, ‘ফজল করিম হডে আঁর-লাই এক কেজি গুরা হচু লও। একমাত্র ফরমালিন ছাড়া আছে যে হিয়ান।’ রাষ্ট্রপতির মুখে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় এরকম রসাত্মক বক্তব্য শুনে গোটা প্যান্ডেলে হাস্যরসের জন্ম দেয়।
ক্যাম্পাসে সেলফি তোলার ধুম : সকাল থেকে চুয়েট ক্যামপাসে ভিড় ছিল সমাবর্তনে যোগ দিতে আসা নবীন প্রকৌশলীদের। মূল অনুষ্ঠানের আগে তারা সময় কাটিয়েছেন সহপাঠীদের সাথে সেলফি তোলে। চুয়েট অভ্যন্তরে ব্যস্ততম রাস্তায় জটলা করে এভাবে মোবাইল হাতে সেলফি তুলতে দেখে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন বয়স্ক নারীর একজন বলে উঠলেন, ‘আহা কী আনন্দ! এসব ছেলে মেয়েরা কর্মজীবনে গিয়ে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও এ যুগের সেলফিতেই ধরে রাখবে একে অপরের স্মৃতি।’
৫ কিলোমিটারে ২শ তোরণ :
চুয়েট অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি যোগ দিয়েছেন কাপ্তাই সড়ক পথে। রাউজানে রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ছিল রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যস্ততা। তারা ব্যস্ত ছিলেন সড়ক পথের দু’পাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযানে। গত দুদিন ছিল সড়ক পথে তোরণ নির্মাণ কাজ। গতকাল দেখা যায়, মদুনাঘাট থেকে চুয়েট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক পথে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে দুইশটি।
‘সৌভাগ্যবান’ স্কুল শিক্ষার্থী হিমাদ্রি :
নোয়াপাড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী হিমাদ্রি ধর ২০১৮ সালে সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী হিসেবে গৌরব অর্জন করে। এসময় সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে সনদ ও পদক গ্রহণ করেছিল। এবারও হিমাদ্রি রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদের কাছ থেকে টিফিন বক্স গ্রহণ করে। এসময় আশেপাশে উপস্থিত অনেককে বলতে শোনা যায়, মেয়েটি খুব ভাগ্যবতী। সব সময় জাতীয় ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে সে পুরস্কার গ্রহণ করে। একই সাথে গতকাল ওই স্কুলের দুই শিক্ষার্থী শ্রেয়ান দে ও আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ইব্রাহিমও রাষ্ট্রপতির হাত থেকে টিফিন বক্স নেয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে।

x