‘অ্যান্টি রেপ ডিভাইস’ দ্রুত সরবরাহ করা হোক

মাধপ দীপ

শনিবার , ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ at ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
35

সংবাদপত্রের পাতায় চোখ বুলালে কিংবা টেলিভিশন সেটের সামনে বসলেই বুঝতে পারি- নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। যৌতুকের কারণেও নির্যাতন বাড়ছে। বাড়ছে যৌন হয়রানি। নারী ও শিশু হত্যাকাণ্ডও বাড়ছে। এমনকি প্রায়শই সহিংসতার শিকার হয়ে কিংবা বাধ্য হয়ে নারী আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এককথায়, মিডিয়ায় গড়ে প্রতিদিন অসংখ্য নারী ও শিশু নির্যাতনের সংবাদ প্রচার ও প্রকাশিত হচ্ছে।
তবে এরই মাঝে আশা জাগানিয়া দারুণ একটি খবর দেখলাম একটি অনলাইন নিউজপোর্টালে। খবরটি হচ্ছে- গত ১৯ জানুয়ারি রোববারের। ওইদিন হাইকোর্ট প্রদত্ত একটি নির্দেশকে ঘিরে। সেই নির্দেশে- নারীদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষামূলক যন্ত্র ‘অ্যান্টি রেপ ডিভাইস’ সরবরাহের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে এই কমিটিতে একজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপককে রাখতে বলা হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে কমিটিকে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে (সূত্র: জাগো নিউজ টোয়েন্টিফোর.ডটকম)।
একইসঙ্গে- নারীদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে ওই দিন হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে ওই রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান, ব্যারিস্টার শারমিন শিউলী ও অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল।
এর আগে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে নারীদের ‘অ্যান্টি রেপ ডিভাইস’ সরবরাহের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ক্লাস্ট) ও সিসিবি ফাউন্ডেশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ওই রিটটি দায়ের করেন।
রিটে নারীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়। একইসঙ্গে বিদেশ থেকে ‘অ্যান্টি রেপ ডিভাইস’ আনতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রিটকারী আইনজীবীর বরাত দিয়ে অনলাইনটি জানায়, ‘অ্যান্টি রেপ ডিভাইস’ যদি কোনো নারী তার শরীরে বহন করে, ফলে তাকে কেউ যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯৯৯-এ কল চলে যাবে। এটা উন্নত দেশে ব্যবহার করা হয়।
আমরা ইতোমধ্যেই জানি যে- বর্তমানে যে কোনো মোবাইল সেট থেকে যে কোনো বিপদে যে কোনো স্থান থেকে ৯৯৯-এ ফোন করলেই যে কেউ পাচ্ছেন পুলিশের সেবা। ২৪/৭ মানে সপ্তাহের প্রতিটি মুহূর্তেই ওই সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের এই সেবা এখন অনেক জনপ্রিয়। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। গ্রামেও এই সেবার ব্যাপারে শক্তভাবে জানান দিতে হবে। যদি ‘অ্যান্টি রেপ ডিভাইসের’ মাধ্যমে আক্রান্ত কোনো নারীর কল পুলিশের কাছে চলে যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে তবে অবশ্যই সেটি ভালো ফল বয়ে আনবে। এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই। অবশ্য, এক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনকেও যুগপৎ ত্বরিৎ ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
আমি মনে করি, উদ্যোগটি ছোট হলেও এর সুফল অনেক বড় হবে। তাই আমি সেই আইনজীবী ইশরাত হাসানকে স্যালুট জানাই। ধন্যবাদ জানাই হাইকোর্টকেও। আশা করি, এই ব্যবস্থাটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য হাইকোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।