অহিংসা পরম ধর্ম-এই বাণী মিয়ানমারের জেনারেলরা ভুলে গেছে : চরমোনাই পীর

সোমবার , ১ জানুয়ারি, ২০১৮ at ২:৪২ অপরাহ্ণ
160

লা ইলাহা ইল্লাহ’র জিকির, নফল ইবাদত, শেষ রাতের তাহাজ্জুদ, সকালসন্ধ্যা দু’বেলা ইজতিমায়ী জিকির, ওজুগোসলনামাজের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ, নামাজের জন্য সূরা মশক, মুসলমানদের জন্য জরুরি মসআলার শিক্ষাসহ দেশের বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও পীরমাশায়েখের গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজনসীহত, সুধী, শ্রমিক ও ছাত্র সমাবেশসহ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পলোগ্রান্ড ময়দানে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির। মাহফিলের শেষদিনের বয়ানে হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) ভক্তমুরীদদের উদ্দেশ্যে বিশেষ নসীহত করেন। এতে তিনি বলেন, ‘ইসলাম পরিপূর্ণ, জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের আলোকে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিপরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সবকিছুকে আল্লাহর নির্দেশ ও প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। মানুষের হক, ধনসম্পদ আত্মসাত, সরকারি কর্মচারি হলে দুর্নীতি, চাকরির দায়িত্বে অবহেলা এবং ব্যবসায় ও বেচাবিক্রিতে ভেজাল, ওজনে কম দেয়া থেকে সতর্ক করে দিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আল্লাহর হক কান্নাকাটি আর আল্লাহর কাছে মা চাওয়ার দ্বারা মাফ পাওয়া যাবে, কিন্তু বান্দার হকে কোনো ক্ষমা নেই। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে মনুষ্যত্ব শেখাচ্ছে না। শিক্ষার দিক থেকে আমরা কতটা অধঃপতনে পৌঁছে গেছি তা শিক্ষামন্ত্রীর কথা থেকে প্রমাণিত। শিক্ষামন্ত্রী সহনশীল পর্যায়ে ঘুষ খেতে বলেছেন, কিন্তু ইসলামি শিক্ষা বলে ঘুষ মোটেও খাওয়া যাবে না, এটা পরিস্কার হারাম। পীর সাহেব চরমোনাই মিয়ানমারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, বার্মার নেত্রী অং সাং সুচি ও মিয়ানমারের জেনারেলরা সকলেই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। ওদের ধর্ম বৌদ্ধ, বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা হচ্ছে অহিংসা পরম ধর্ম। ধর্মের এই বাণী মিয়ানমারের জেনারেলরা ভুলে গেছে, আধুনিক শিক্ষিত হয়ে অস্ত্রশস্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার করেই আজকে রোহিঙ্গা মাবোন, নারীশিশুদেরকে আগুনে পুড়িয়ে ধর্ষণ করে মানব ইতিহাসের জঘন্যতম নজির সৃষ্টি করছে।’ ইসলামকে শান্তিঅহিংসার প্রকৃত ধর্ম উল্লেখ করে পীর সাহেব বলেন, ‘বাংলাদেশ ৯২ পার্সেন্ট মুসলমানের দেশ। মিয়ানমারের মুসলিম হত্যার প্রতিক্রিয়া যদি এ দেশের মুসলমান দেখাতো তা হলে বাংলাদেশে বৌদ্ধ সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বই থাকতো না। কিন্তু ইসলাম সেই শিক্ষা দেয় না, আর আমরা ইসলামের এ মহান শিক্ষা ভুলিনি।

x