অস্থির চিনির বাজার

রমজানের আগেই নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ

জাহেদুল কবির

সোমবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
285

রমজানের দুই মাস আগে অস্থির হতে শুরু করেছে চিনির বাজার। গত দুদিনের ব্যবধানে প্রতি মণ চিনির দাম বেড়েছে ৩৫০ টাকা। তবে গতকাল দাম ১০০ টাকা কমেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজান ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে চিনি নিয়ে কারসাজিতে লিপ্ত থাকে একটি ব্যবসায়ী চক্র। চিনির বাজারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতে নেয়ার জন্যই বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে। আবার চিনির বাজারে প্রশাসনের নজরদারিরও ঘাটতি রয়েছে। গতকাল রোববার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইকারিতে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। তার আগের দিন বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের কয়েকজন চিনির আড়তদার জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। অনেক প্রথা আবার আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ। চিনি কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই স্লিপটি বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও কিনে নেয়। যে দরে ডিও কেনা হয় তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্যটি ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করেন।
আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যই আসেনি, কিন্তু ডিও কিনে রেখেছেন অনেক বেশি। এর ফলে কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এক্ষেত্রে তেল ও চিনির ডিও বেচাকেনা বেশি হয়। বলা যায়, ডিও কারসাজির কারণে চিনির দাম প্রতি রমজানেই আকাশচুম্বী হয়। এই সুযোগে কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। খাতুনগঞ্জের আলতাফ ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আলতাফ গাফফার দৈনিক আজাদীকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। তাই মিল মালিকরা চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া টিসিবির ডিলারের দর বাড়ানো হয়েছে কেজিতে ৫ টাকা। বর্তমানে ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। মিলগেটে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা। তবে বর্তমানে খাতুনগঞ্জে চিনির কেজিতে দাম পড়ছে ৬৩ টাকা। চিনির দাম আরো বাড়তে পারে। যদিও একদিনের ব্যবধানে মণে ১০০ টাকার মতো কমেছে। চিনির দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মিল মালিকদের সাথেই সরকারকে আলোচনা করতে হবে। তবে এখন যে হারে দাম বাড়ছে সামনের রমজান আসতে আসতে দাম ৯০-১০০ গেলেও আশ্চর্যের কিছু থাকবে না।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন আজাদীকে বলেন, প্রতি বছর রমজান আসার আগে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধি করেন। এটি নতুন কিছু নয়। তবে যেভাবে নজরদারি হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছেন। চিনির বাজারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। যখন প্রশাসন অভিযানে যাবে, দেখা যাবে তার আগেই চিনির দাম ১০০ টাকা হয়ে গেছে। সরকারের উচিত চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে এখন থেকেই কাজ করে যাওয়া।