অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা রোধ করতে হবে

মঙ্গলবার , ২২ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:০০ পূর্বাহ্ণ
37

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। ভোলার বোরহানউদ্দিনে গত রোববারের দুপুরের সংঘাতময় ঘটনাটি দেখিয়ে রাতে ঢাকায় গণভবনে যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তাঁর বক্তব্যে এই সতর্কবার্তা দেন তিনি। উল্লেখ্য, বোরহানউদ্দিনে এক হিন্দু তরুণের ফেসবুক আইডি ‘হ্যাক করে ‘অবমাননাকর’ বক্তব্য ছড়ানোর পর ‘মুসলিম তাওহিদী জনতা’র ব্যানারে সমাবেশ থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে নিহত হন চারজন, পুলিশসহ শতাধিক আহত হন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো যে আইডিটা হ্যাক হল আর তারপরে এই ধরনের ঘটনা ঘটাল, আর সেটাকে কেন্দ্র করে যারা.. কী উদ্দেশ্য নিয়ে সমবেত হল, আর পুলিশের ওপর আক্রমণ করল। তাদের উদ্দেশ্যটা কী ছিল, সেটাই বড় কথা। এর পরবর্তীতে দেখা যায়, ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার সব জায়গায় ছড়ানো হচ্ছে, অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।
আসলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। মহলটি মানুষের মধ্যে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করতে চাইছে। তারা দেশে-বিদেশে বাংলাদেশ ও সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ন করতে চাইছে। মনে হচ্ছে,এসব স্বার্থান্বেষী মহল সরকারের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ পছন্দ করে না। তারা লক্ষ্য অর্জনের জন্য দুঃখজনকভাবে ধর্মকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার সামপ্রতিক সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে ত্বরিৎ পদক্ষেপ নিয়েছে।
এখন আমরা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করছি। সন্ত্রাসবাদ এখন বিশ্বের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। প্রায় প্রতিদিনই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সন্ত্রাসী তৎপরতার খবর আমরা পাচ্ছি। সন্ত্রাসবাদের অভিশাপ থেকে কোনো দেশই মুক্ত নয়। সরকার সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের চক্র ভেঙে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিটি ঘটনার নেপথ্যের হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় জঙ্গিরা আন্তর্জাতিক কোনো সন্ত্রাসবাদী গ্রুপ থেকে নির্দেশনা পাচ্ছে কি-না তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। সকলেই জানেন, দেশটা একটু ভালোভাবে চলছে, অগ্রগতি হচ্ছে। তখনই একটা শ্রেণি আছে, নানাভাবে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। কাজেই এটা যেন তারা না করতে পারে, আমি এজন্য সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই।
এ কথা আজ গৌরবের সঙ্গে বলা যায়, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। ‘স্বল্পোন্নত’ দেশের সীমা পেরিয়ে দেশ এখন ‘উন্নয়নশীল’-এর কাতারে। মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের চেহারাই পাল্টে যাবে। আগামী পাঁচ বছর আমাদের জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পাঁচ বছরের মধ্যে পদ্মাসেতু চালু হবে। ঢাকায় মেট্রোরেল, পায়রা সমুদ্র বন্দর, মংলাসহ একাধিক বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রাম কর্ণফুলির তলদেশ দিয়ে সুড়ঙ্গ পথ (টানেল) এবং গভীর সমুদ্র বন্দর প্রভৃতি চালু হলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় তার ইতিবাচক প্রভাব, বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নশীল’ হতে ‘উন্নত’ দেশের সোপানে পৌঁছে দেবে। আশা করা যায়, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখানে এক বিশেষ মহল তথা বাংলাদেশ-বিরোধী শক্তি আছে, যারা বাংলাদেশের অগ্রগতি বা উন্নতি দেখতে চায় না। তারা যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ঠেকাতে চায়। গুজব ছড়িয়ে সেই পক্ষ তিলকে তাল বানানোর চেষ্টা করছে। মহলটি নানান সময়ে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করে জনগণকে বিষিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু তাতে তারা সফল হয়নি। জনগণের সমর্থন না পেয়ে গুজব ছড়িয়ে দেশে যতবারই অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে, ততবারই ব্যর্থ হয়েছে। আমরা মনে করি এবারও তারা সফল হবে না। এজন্য আমাদেরকে আরো সচেতন হতে হবে। সরকার কঠোর হাতে এসব অপশক্তিকে ইতিপূর্বে প্রতিরোধ করেছে। মানুষের জীবনে শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করেছে। এবারও ষড়যন্ত্রের বিছানো জাল ছিন্ন করে দেশকে এগিয়ে নিতে সচেষ্ট হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

x