অস্ত্র ও মাদক মামলার আসামির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন

দুই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা তলব

সবুর শুভ

শুক্রবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ
143

কিরিচ বাবুলের ছেলে অস্ত্র ও মাদক মামলার আসামি মোহাম্মদ সায়মন হক প্রকাশ শাহ নেওয়াজকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠল পুলিশ হেফাজতে। বাকলিয়ার থানার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আদালতের কাছে দেয়া আইনজীবীর একটি আবেদনের সূত্র ধরে এ নির্যাতনের বিষয়টি উঠে আসে। আসামির আইনজীবী এডভোকেট আবদুল আউয়াল খানের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে হাজতখানা থেকে আসামিকে বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। তার দুই চোখে জখম, দুই হাতের কনুই থেতলানো, হাঁটুতে জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের আলামত থাকার বিষয়টি আদালত প্রত্যক্ষ করার পর আসামিকে চিকিৎসা
প্রদান করতে আদেশ দেন। একইসাথে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও এক এসআইয়ের কাছ থেকে এ সংক্রান্তে ব্যাখ্যা তলব করেন।
এদিকে থানা থেকে আসামিকে আদালতে পাঠানোর সময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন কোথা থেকে এলো তার কোন ব্যাখ্যা দেয়নি পুলিশ। এ নিয়ে আদালতে দেয়া আবেদনের শুনানি শেষে নগরীর বাকলিয়া থানা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ নেজাম ও এসআই করিম্মাজ্জামানের কাছ থেকে ব্যাখ্যা তলব করেন আদালত। আসামিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ারও নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম খায়রুল আমীনে এর আদালত।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেজামের বক্তব্য হচ্ছে, আসামি সায়মন হককে গ্রেপ্তার করতে গেলে সে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে পড়ে আহত হন। তাকে আদালতে পাঠানোর সময় ভুলে এসব তথ্য নথিতে তুলে ধরা হয়নি। আসামির আইনজীবী আবদুল আউয়াল খান জানান, আমার মক্কেল সায়মনের চোখ, মুখ, হাত, পা সবর্ত্র জখমের আলামত রয়েছে। আদালত আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের চিত্র প্রত্যক্ষ করে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নিয়েছেন। শরীরের বিভিন্ন অংশে থাকা যখমের ছবিও সংরক্ষণ করেছেন আদালত।
আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী দিদারুল আলম কাজেমী ওরফে কিরিচ বাবুলের ছেলে একাধিক মামলার আসামি মোহাম্মদ সায়মন হক প্রকাশ শাহ নেওয়াজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নগরীর বাকলিয়া মাস্টাপুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি এলজি, দুইটি ছুরি, একটি কিরিচ ও ২০০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী সায়মনকে আসামি করে একটি অস্ত্র ও একটি মাদকসহ দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাকলিয়া থানা থেকে আসামিকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। ওই দিন আসামি সায়মনকে আদালতে তোলা হলে আসামি অসুস্থবোধ করেন। এ অবস্থায় আসামির আইনজীবী চমেক হাসপাতালে ভর্তি করে আসামিকে চিকিৎসা দেয়ার আদেশ প্রার্থনা করেন আদালতের কাছে। তারপর আদালত আসামির বক্তব্য শুনেন। আদালতে আসামির শরীরে থাকা জখমগুলো তাজা থাকায় আসামির বক্তব্য আমলে নেন। আসামির শরীরে জখম থাকার কারণ থানা থেকে আদালতে পাঠানো নথিতে দেখতে চান। কোর্ট পুলিশ তা দেখাতে পারেননি। কোর্ট পুলিশ ও আসামিপক্ষের মধ্যে শুনানি শেষে আদালত নগরীর বাকলিয়া থানার ওসি ও এসআই এর কাছ থেকে এ সংক্রান্তে ব্যাখ্যা তলব করেন। আসামিকে নির্যাতনের ব্যাখ্যা দিতে বলেন। একই আদেশে সায়মনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দেয় আদালত। আসামির শরীরে থাকা জখমের বিষয়ে মেডিকেল প্রতিবেদন দিতে আদেশ দেয়া হয় চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
এদিকে আদালত গত ৬ নভেম্বর দেয়া আদেশে উল্লেখ করেন, আসামির শরীরের দুই চোখে জখম, দুই হাতের কনুইয়ে থেতলানো জখম, দুই হাটুর থেতলানো জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে থাকা জখম তাজা। অন্যদিকে ১৩ মামলার আসামি সায়মন জামিন আবেদন করলেও তা মঞ্জুর করেননি আদালত। উল্লেখ্য, বাকলিয়ার ত্রাস নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী দিদারুল আলম কাজেমী ওরফে কিরিচ বাবুলের ছেলে আসামি সামিউল হক প্রকাশ শাহ নেওয়াজের বিরুদ্ধেও হত্যা, হত্যাচেস্টা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রসহ মোট ১৩টি মামলা আছে।

x