অসন্তোষে বন্ধ হতে পারে শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র

৬০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ফিরতে চান শ্রমিক-কর্মচারীরা

শফিউল আজম, পটিয়া

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
21

কর্ণফুলীর শিকলবাহায় ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিক-কর্মচারীদের চরম অসন্তোষে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত শিকলবাহা ৬০ মেগাওয়াট গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখনো ৪৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। এ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ইউনিট প্রতি দুই টাকারও কম। সরকার ব্যক্তি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনলেও, কারস্বার্থে এ কেন্দ্রটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে তা কারো বোধগম্য নয়। ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের পুরনো কর্মস্থল তথা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফিরে আসতে চায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রেই ধরে রাখতে চায় এমন অভিযোগ শ্রমিক-কর্মচারীদের। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকরা বর্তমানে ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতেও উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
জানা গেছে, ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ২০১৭ সালের মে মাসে এটি হস্তান্তর করা হয়। সে থেকে এখনো পর্যন্ত ওই কেন্দ্র পরিচালনার জন্য পুরোপুরি জনবল নিয়োগ দেয়া হয় নি। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রায় ১৫০ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে তাৎক্ষণিক ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রের পরিচালনার জন্য স্থানান্তর করা হয়। জনবল নিয়োগের পর এসব কর্মচারীকে ৬০ মেগাওয়াটে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। কিন্তু গত দুই বছরেও জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি এবং ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচলে নানা তালবাহানা শুরু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে কর্মরত ৬০ মেগাওয়াটের সকল কর্মচারী কর্মবিরতির হুমকি দেয়। শ্রমিকদের দাবি তাদের সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি মানা হয়নি। এদিকে ৬০ মেগাওয়াট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে সক্ষম হলেও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ শ্রমিক-কর্মচারীদের। জনবলের অভাবে এ দুই বছর ধরে বন্ধ আছে ৬০ মেগাওয়াট এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
সিবিএ এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন জানান, আন্তরিকতা থাকলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এসব কর্মচারীকে বসিয়ে বেতন না দিয়ে ২২৫ ও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র সমন্বয় করে পরিচালনা করা যায়। কিন্তু শুধুমাত্র আন্তরিকতার অভাবে এ কেন্দ্রটি উৎপাদন সক্ষম হলেও পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত জনবল রয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে যথাযথ তথ্য দেয়া হচ্ছে না এবং এ কেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ৬০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের কর্মচারীরা ২২৫ মেগাওয়াটে আর কাজ করতে রাজি নয়। তারা যেকোন সময় ওই কেন্দ্র থেকে একযোগে ফিরে আসতে পারে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী (উৎপাদন) ভূবন বিজয় দত্ত বলেন, ৬০ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীকে ২২৫ মেগাওয়াটে নেয়ার ঘটনা সত্য। তবে এখনো প্রয়োজনীয় জনবল না পাওয়ায় ৬০ মেগাওয়াটের শ্রমিকদের ফেরানো যায় নি। এ কারণে সক্ষমতা সত্ত্বেও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু ও উৎপাদন করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এরই মাঝে দু’বার কেন্দ্রটি চালু করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় একবার মিঠা পানি সমস্যা ও অন্যবার সামান্য ত্রুটি দেখা দেয়ায় তা আর চালু করা যায় নি। এরপর এ কেন্দ্রের প্রতি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নেতিবাচক ধারণার জন্ম হয়। তারাও কেন্দ্রটি চালুর ব্যাপারে উৎসাহ না দেখানোয় সেটি ওইভাবেই পড়ে আছে। এখন সেটি চালু করা হলে ৪০ মেগাওয়াটের উপরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত এবং খরচ তেল নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চেয়ে অনেক কম হতো।

x