অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দূর করতে হবে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা

শুক্রবার , ১ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ
27

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের চেয়ে পরের ছয় মাসে এই আস্থা বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায়ীদের গড়ে তোলা গবেষণা সংস্থা বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) প্রকাশিত ব্যবসার আস্থা সূচকে এমন তথ্য উঠে এসেছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ব্যবসায়ীদের ব্যবসার আস্থা সূচক ছিল ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ, তা জুলাই-ডিসেম্বরে এসে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা কর্মসংস্থানের অবস্থা, দ্রুত লাইসেন্স প্রাপ্তি, টার্নওভার করের সীমা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলায় এসব সূচকে উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার, অনৈতিক লেনদেন, পরিবহন খরচ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতি ও নীতির ধারাবাহিকতা না থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসব বন্ধ না হলে আগামী বছরের প্রথমার্ধে ব্যবসার আস্থা সূচকে অবনতি ঘটবে বলে আশঙ্কা করেন ব্যবসায়ীরা।
গত কয়েক বছরে আর্থ সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেমন অনেক এগিয়ে গেছে, তেমনি অনেক মূল্যবান সুযোগও হারিয়েছে। এর কারণ বেশ কয়েকটি। যেমন, কাঠামোগত সংস্কারের মন্থরগতি, আইন-শৃঙ্খলাজনিত কতিপয় গুরুতর প্রশ্নের অবতারণা, সংঘাত মোকাবেলার ও প্রায়শ সহিংসতার রাজনীতি এবং শাসনজনিত তীব্র ধরনের সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অর্থনীতির সব রকমের দুরবস্থা প্রায় সুনিশ্চিতভাবেই দুর্নীতি সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুশাসন বা প্রশাসনের জন্য মান বা প্রমিতির যে স্থান ক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই নিরিখে বাংলাদেশের অবস্থান খুব নিচু স্তরে ছিল। আইনের শাসন, দুর্নীতির প্রসার ও সরকার ব্যবস্থার কার্যকারিতার বিচারে চীন ও ভারতের মতো প্রতিযোগীদের তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি উল্লেখ করার মতো ভালো নয়। অদক্ষতা, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ও স্বচ্ছতার অভাবে অর্থনীতির ঘাড়ে এক বিরাট বোমা হয়ে এর গতিকে এতটা দুর্বল ও মন্থর করে তুলেছে যে সাধারণ নাগরিকদের কল্যাণ ও উন্নতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)-এর ব্যবসার আস্থা সূচকে পরিবেশ ও অবকাঠামো ছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, ব্যবসা সহায়ক আইন-কানুন, সহায়ক কর ব্যবস্থা, ঋণপ্রাপ্তি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসা সূচকে অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যবসার পরিবেশ সূচকের অবস্থান ছিল ১০ দশমিক ৮০ শতাংশে। জুলাই-ডিসেম্বরে এসে তা কমে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কারণ হিসেবে জরিপে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা চোরাকারবারি, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও নীতি সহায়তার ধারাবাহিকতার অভাবের কথা বলেছেন। তাঁরা বলছেন, এসব জায়গায় উন্নতি না হলে আগামী বছর ব্যবসার পরিবেশ আরো খারাপ হবে। অন্যদিকে, অবকাঠামো সূচকে অবস্থান ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ থেকে নেমে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়া, ব্যয় বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এ সূচকে অবনতি হয়েছে।
যতগুলো সমস্যার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে, আশা করি তার সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ব্যবসায়ীদের মতো আমরাও আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে এ পরিবেশ আরো উন্নতি হবে। বাংলাদেশকে নানা ক্ষেত্রে তার শক্তি সামর্থ্য গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে, তার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও শক্তিশালী উদার নিরপেক্ষ সুশীল সমাজ গড়ে তুলতে হবে। কেননা আমরা জানি, বাংলাদেশের নাগরিক অধিকার তথা স্বাধীনতার স্থর তুলনামূলকভাবে উন্নত। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যে বুনিয়াদ রচনা করেছে, তার ওপর যদি সে তার শক্তির সৌধ আরো গড়ে তোলে, তাহলে দেশ নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতও সে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উক্ত অনুষ্ঠানে। তিনি বলেছেন, ‘আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানের মতো একইভাবে এগিয়ে যাবে’। এই অগ্রযাত্রার জন্য যা কিছু করা দরকার, সবকিছু করার উদ্যোগ আমাদের নিতে হবে। দূর করতে হবে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা।

x