অভীক ওসমানের কবিতা

শুক্রবার , ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ at ৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ
50

কুয়াশাকণ্ঠ

এতদিন জ্যোৎস্নাকণ্ঠের কীর্তন শুনেছি
স্তবগান গেয়েছি। আজ তোমার কুয়াশাকণ্ঠে
একাত্তরের জননীর বিয়োগ ও বেদনার মর্সিয়া শুনে
পুনর্বার বিষাদকে ভালোবাসলাম।
পুর্ণেন্দু পত্রীর কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে-
‘তোমার বিষাদগুলি ওষ্ঠপুটে তুলে নিতে দাও
করতলে রাখি।’
অথবা শেক্সপিয়র-
্তুঙ ংড়াবৎবরমহ সরংঃৎবংং ড়ভ ঞৎঁব গবষধহপযড়ষু্থ

২.
শারদ সন্ধ্যায় শীত এসে গেছে,
নগর-গ্রামে কুয়াশার আস্তরন,
খর্জুর বৃক্ষে রাখালের গাছ কাটা,
পাখি চুষে নিচ্ছে চৌর্যবৃত্তির রস।

৩.
প্রেমিক হতে হলে বৃক্ষ হতে হবে,
কেন, সহন বহন দাঢ়্যতা, দখিনা ঝড় ধরার ক্ষমতা
কোন বৃক্ষ হবো বলো, শৈশবের নানা বাড়ির নমিত
কাঁঠাল চাপার গন্ধ, হাঁটুরে পথে ভয় ও ভালোবাসার বট,
বিটপীর অহংকার, অনার্স জীবনের কৃষ্ণচূড়া অ্যাভিনিউ,
রোদেলা সকালের ইউক্যালিপটাস অথবা
সাসটেইনেবল হুইপিং ট্রি।

৪.
বড় দেরি হয়ে গেলো এ দেখার মানবী জমিন
শত দেখার মাঝেও অদেখার কাঁকন বাজে রিনিঝিন
ওঃ্থং ঃড়ড় ষধঃব সু ঢ়ড়বঃৎু, রঃ্থং ঃড়ড় ষধঃব
ওঃ্থং ঃড়ড় ষধঃব সু পড়হাবৎংধঃরড়হ, রহ ুড়ঁৎ যবধৎঃ
বড় দেরি হয়ে গেলো তোমার শব্দে হৃদয় ছোঁয়ার
অপরূপ ছাঁচে আমার স্বপ্নের কবিতা বোনার।

উই নেভারস সে গুডবাই

জোবরার চাষীর জলময় বিল,
আমাদের রেড বিল্ডিং আলাওল হল
আজ শুক্রবার, জুম্মাবার, শুভ শুক্রবার
মরনের কালে তোমাকে মনে পড়ে বন্ধু

গলাকাটা ধর্ষণ গণপিটুনি
রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠে ধ্বনিতেছে ক্রন্দন
‘এ আমার এ তোমার পাপ’

‘মন ও মানসের এই কোটি মন্বতরে’
বন্ধুতা, প্রিয়তা সখ্যের কথকতা
আজ তোমাকে মনে পড়ে
আজ তোমাকে মনে পড়ে

রূপবান তুমি, কৃষ্ণ শ্মশ্রুতে সহাস্য হাসিতে
সহজে পরকে যে আপন করতে পারো
মরনের কালে তোমাকে মনে পড়ে বন্ধু

‘ওয়ান ফর সরো, টু ফর বয়
থ্রি ফর লেটার, ফোর ফর জয়’
ক্যাম্পাসে সবুজ বিকেলে
একই ভালবাসায় দুজনের যাতায়াত
প্রেমে ও অপ্রেমে নিখিল জীবনে তুমি জয়ী

তোমার তুলির আঁচড়, তোমার মুদ্রিত ব্রুসিয়ার
চাকসু নির্বাচনে আমাদের অংশগ্রহণ
আমাদের যৌথ পরাজয়,
শিল্পের বরপুত্র, নিখিল জীবনে তুমি জয়ী

এই ভর বরষায় মৃত্যুর মিছিলে তোমার সরব যাওয়া
কাঁদিতেছে ফেলে আসা ক্যাম্পাস
আর্ট কলেজ, নগরী, দরিয়ানগরের মানুষগণ
কাঁদিতেছে সতীর্থ সকল

আমাদের অন্তর্গত ক্রন্দন রক্তক্ষরণ
ধ্বনিতেছে একটি ধ্রুপদী সঙ্গীত
‘উই নেভার সে গুডবাই’
কাভি আল বিদা না ক্যাহানা
বিদায় বলো না

দ্য ভিঞ্চির হে উত্তরপুত্র
হে মহান বন্ধু
‘আমরা ভুলিব না কখনো ভুলিব না’

প্রস্থানের প্রস্তুতি

যেতে হবে যাবোই, যদি হেঁটে যেতে পারি
ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের মেঠো পথ ধরে,
অঘ্রাণের কৃষক ডাম্প করেছে ধান, গেরস্তের
লাল রাতা খুটে নিচ্ছে শস্যদানা
সাথে সহচরী মুরগী সকল।

যেতে হবে যাবোই তো, সবুজ শংখ গ্রাম
গেরুয়া যুবতী নদী। ভেসে আসা বাঁশে বাঁশী
বানাব বলে ক্ষীণাঙ্গ কিশোরের
সে কী দুরন্ত ব্যর্থ সন্তরণ।

ওপারে গবাদিদের ঘাস, সরষের সমারোহ
আমানত খানদের ময়না দ্বীপ বাড়ি,
দুরে, বহুদুরে পড়ইকোরার পাহাড়
যেখানে আসমান মিশেছে জমিনে।
রবীন্দ্রনাথের অমলের মতো বন্দী চোখ
ছিল নিখিল জীবন।

যদি দেখা দেয় একবার। আছরের নামাজের ঝিঙেফুল
পিংক প্লাস্টিকের স্যান্ডেলে পুকুরে যায়
রূপবতী মা মনছুরা খাতুন।
৭১ এ বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য পড়তো নফল নামাজ
ভালবাসতো ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
পাবো নাকো তুমি।’ গভীর রাতে
বের করে দেন তার অনতিতরুণ পুত্রধন
যাও দেশমাতৃকার মুক্তির পথে যাও।

গ্রীষ্মের তাপদহে বিদ্যা বিতরণে যাচ্ছেন
ক্যাম্বিসের জুতো, ছাতা হাতে
লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত সমাজের
সিংহ পুরুষ ফোরক মাস্টার
দাতা ত্রাতা তিনি। বাপজীর
সাথে একবার দেখা হয় যদি
তাহলে যাবো, এখনই যাবো।

যেতে হবে, যাবো, যদি ফিরে পাই বিদ্যুৎবিহীন
জ্যোৎস্না রাত। তিন বেটারির টর্চ হাতে বরকল
থেকে বেড়াতে আসছেন বড়বু ভাই সাহেব।
চন্দ্রালোকে প্লাবিত গ্রাম, তরুণ রাখালদের সাথে
অঘ্রাণের মাঠে ডাংগুলি, দাড়িয়াবান্ধা।
ভাউজদের সাথে উঠানে উঠানে
চোখ চেপে গোলাপ গোলাপ ক্রীড়া
এতটুকু উষ্ণতার জন্য যাবো।

নানাবাড়ি মামাবাড়ি যাব, মাঘের প্রথম
প্রহরে সাধু শুক্লাম্বর দীঘির মেলা,
বিশ্ব পুকুরে ষাঁড়ের লড়াই,
টিনের হাটে আমাদের বলী খেলা
সারা শৈশবের স্বপ্ন কিনবো বেলুন বাঁশী
মাটির খোয়া। তার জন্য যাবো
উপেন ডাক্তার বাড়ির কুয়াশা মাখা
শিউলী কুড়াতে যাবো।

x