অভিযোগ তদন্তে এবার মন্ত্রণালয়ের কমিটি

যমুনার তেল চুরির চেষ্টা

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
62

যমুনার তেল চুরির চেষ্টার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে এবার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপ-সচিব মো. ঈদতাজুল ইসলামকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে মো. ঈদতাজুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘যখন অফিস আদেশটি হয়েছে, তখন আমি দেশের বাইরে ছিলাম। যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রধান ডিপোতে তেল চুরির চেষ্টার অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। শীঘ্রই তদন্ত কাজ শুরু করবো।’
উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট যমুনা ডিপোর ডলফিন জেটিতে আসা মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ এমটি পামির থেকে গুপ্তখাল ডিপোতে খালাসের পর প্রায় ৬৫ হাজার লিটার তেল বেড়ে গেলে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, বেড়ে যাওয়া ফার্নেস অয়েল চোরাইভাবে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিল একটি চক্র। বিষয়টি ১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে ফাঁস হওয়ার পর বিপিসি ও যমুনা অয়েল আলাদা তদন্ত টিম গঠন করে। এ নিয়ে ১৭ আগস্ট দৈনিক আজাদীতে ‘৬৫ হাজার লিটার তেল চুরির চেষ্টা : যমুনা অয়েলের প্রধান ডিপোর ঘটনা, দুটি তদন্ত কমিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
বিপিসির প্রাথমিক তদন্ত কমিটি ২১ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে ৭৮ হাজার ৫৪৬ লিটার ফার্নেস অয়েল বেশি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ২২ আগস্ট যমুনার প্রধান ডিপোর টার্মিনাল ম্যানেজার ডিজিএম (অপারেশন) জসিম উদ্দিন এবং ডেপুটি ম্যানেজার (বাল্ক) এ এইচ এম মনজুর কাদেরকে প্রত্যাহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়া তেল অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি অধিকতর তদন্ত ও পর্যালোচনার জন্য বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. আবু হানিফকে আহ্বায়ক করে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন এন্ড প্লানিং) মো. আবু সালেহ ইকবাল, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (ডেপেলপমেন্ট এন্ড কন্ট্রোল) মো. আনোয়ার সাদাত এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) শেখ আবদুল মতলেবকে সদস্য করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিপিসি।
ওই কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। আজকালের মধ্যেই বিপিসির ওই কমিটি প্রতিবেদন দেয়ার কথা রয়েছে।
তবে বিপিসির ওই তদন্ত কমিটি গত ৩০ আগস্ট প্রধান ডিপোতে ‘এমটি এনএস প্যারেড’ থেকে খালাস নেওয়া তেল আইটিটি’র (ইন্টারনাল ট্যাংক ট্রান্সফার) মাধ্যমে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে। এর আগে আসা ‘এমটি পামির’ থেকে ৭৮ হাজার ৫৪৬ লিটার ফার্নেস অয়েল বেশি হওয়ার কথা বলা হলেও সম-পরিমাণ তেল নিয়ে আসা ‘এমটি এনএস প্যারেড’ থেকে খালাস নেয়ার পর ওইদিন আইটিটি করে মাত্র ২৮০ লিটারের মতো বেশি (গেইন) পাওয়া গেছে বলে দৈনিক আজাদীকে নিশ্চিত করেছেন ওই কমিটির কয়েক সদস্য।

x