অভিমান ভুলে সরে দাঁড়ালেন নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী ড. আনসারুল করিম 

কক্সবাজার-২ আসনে নতুন নাটকীয়তা

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

শুক্রবার , ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৭:৩১ অপরাহ্ণ
960
শেষ সময়ে এসে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন কক্সবাজার ২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের গণফ্রন্টের প্রার্থী ড. আনসারুল করিম।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ড. আনসারুল করিমকে সকল মান-অভিমান ভুলে নৌকার প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিককে জয়ী করতে কাজ করতে বলেন। তিনি নেত্রীর কথায় একমত হন।
এই সময় মহেশখালীর আওয়ামী লীগ নেতা সরওয়ার আজম, ছাত্রলীগ নেতা মিফতাউল করিম বাবু ড. আনসারুল করিমের সাথে ছিলেন।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে নবম সংসদ নির্বাচনে মহাজোট মনোনীত নৌকার প্রার্থী ড. আনছারুল করিম একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে গণফ্রন্টের প্রার্থী হিসাবে ‘মাছ’ প্রতীক নিয়ে নৌকা ঠেকানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকের পর সব অভিমান ভুলে এখন তিনি নৌকাকেই জেতানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন।
জাতীয় সংসদে আসন নং ২৯৫, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) থেকে নবম সংসদে মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আনছারুল করিম। তিনি পান ৮৬ হাজার ৯৪৪ ভোট এবং বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ পান ১ লাখ ৩ হাজার ৯৭১ ভোট।
দশম সংসদে ড. আনসারুল করিমের পরিবর্তে বর্তমান এমপি আশেকউল্লাহ রফিককে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। আশেকউল্লাহ রফিক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। তাকে এবারও দলীয় মনোনয়ন দিয়ে নৌকার প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. আনসারুল করিম দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে চরম ক্ষুব্দ হন। এসময় ড. আনসারুল করিম তার এ প্রতিদ্বন্দ্বিতার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে দলের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহর রফিক মহেশখালী-কুতুবদিয়ার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতন করেছেন। তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন শহীদ পরিবারসহ দলের অনেক ত্যাগী  নেতাকর্মী। জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন বর্তমান সাংসদের কোনো সহযোগিতা না পেয়ে তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ। এ কারণে নির্যাতিত ও ক্ষুব্ধ এসব মানুষ তাকে আর ভোট দেবে না।’
নির্বাচনী প্রচারণাকালে তার কর্মীদের ওপর নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের হামলা এবং কর্মীদের পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারের অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর সব অভিমান ভুলে যান তিনি।
ড. আনসারুল করিম বলেন, ‘আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত এবং আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ একজন কর্মী। তাই তার ডাকে আমি সাড়া দিয়েছি এবং নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। এখন আমার লক্ষ্য, নৌকাকে বিজয়ী করে আবারও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনা।’
উল্লেখ্য, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সাংসদ আশেকউল্লাহ রফিক (নৌকা), সদ্য সরে দাঁড়ানো গণফ্রন্টের প্রার্থী ড. আনসারুল করিম (মাছ), ২৩ দলীয় জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ (আপেল), আওয়ামী লীগ প্রার্থীর আপন চাচা বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ (ধানের শীষ), জাপা প্রার্থী মোহাম্মদ মোহিবুল্লাহ (লাঙ্গল), ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী আবু ইউসুফ মুহাম্মদ মনজুর আহমদ (মোমবাতি), বিকল্প ধারার প্রার্থী মেজর (অব.) শাহেদ সরওয়ার (কুলা), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী জসীম উদ্দিন (হাতপাখা), এনডিএম’র প্রার্থী মো. শহিদুল্লাহ (হারিকেন) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউর রহমান (চেয়ার)।
মহেশখালী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন এবং কুতুবদিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়েই কক্সবাজার-২ আসনটি গঠিত। এখানে মোট ভোটার ২ লাখ ৯৬ হাজার ৮১ জন। ভোটকেন্দ্র ১০৫টি। এরমধ্যে কুতুবদিয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৩৭টি কেন্দ্রের বিপরীতে ৪৪ হাজার ২৩ জন পুরুষ ও ৪০ হাজার ৪৪২ জন নারী মিলিয়ে মোট ভোটার রয়েছেন ৮৪ হাজার ৪৬৫ জন। আর মহেশখালী উপজেলার ৬৮ ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৯ জন পুরুষ ও ১ লাখ ১ হাজার ৬৬৭ নারী মিলিয়ে মোট ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ৬১৬ জন।
x