অবৈধ ভলগেট দিয়ে চলছে পাথর খালাস

পাওনা পরিশোধে গড়িমসি

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ
92

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে অবস্থানরত একটি মাদার ভ্যাসেল থেকে অবৈধ ভলগেট দিয়ে পাথর খালাস করা হচ্ছে। প্রতিদিনই চোরাই পথে খালাস করা হচ্ছে এসব পাথর। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তালিকাভুক্ত একটি স্টিভিডোরিং প্রতিষ্ঠান এই অবৈধ ভলগেটে পাথর খালাসের কার্যক্রম মনিটরিং করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এমভি এশিয়ান সামিট নামের একটি মাদার ভ্যাসেল গত ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। জাহাজটিতে পাথর রয়েছে। ভাই ভাই ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই পাথর আমদানি করেছে। উক্ত ট্রেডার্সের কাছে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের অনুমোদিত এজেন্ট চট্টগ্রামের মেসার্স সমতা শিপিং এন্ড ট্রেডিং এজেন্সিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন জাহাজের ভাড়া এবং ডেমারেজ বাবদ সর্বমোট ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ২১০ টাকা পাওনা রয়েছে। ভাই ভাই ট্রেডার্স এই টাকা পরিশোধ না করায় সমতা শিপিং ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলকে টাকা পরিশোধ করতে পারছে না বলে লিখিতভাবে জানায়। এতে বিভিন্ন লাইটারেজ জাহাজ মালিকের পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল। ফলে জাহাজ মালিকদের চাপের মুখে পড়ে যায় ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল এবং সমতা শিপিং। এই অবস্থায় ভাই ভাই ট্রেডার্স নতুন এক জাহাজ পাথর আমদানি করে আবারো লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ চাইলে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল তাদের জাহাজ বরাদ্দ প্রদান স্থগিত করে। সমতা শিপিং তথা ডব্লিউটিসিরি পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ভাই ভাই ট্রেডার্সের পক্ষে এমভি এশিয়ান সামিট জাহাজের পাথর খালাসের জন্য লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ স্থগিত রাখা হয়। জাহাজ না পেয়ে ভাই ভাই ট্রেডার্স পণ্য খালাস করতে ব্যর্থ হয়। তারা উচ্চ আদালত থেকে ডব্লিউটিসি যাতে এমভি এশিয়ান সামিট জাহাজে লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেয় সে নির্দেশনা নিয়ে আসে। হাইকোর্টের উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে উচ্চ আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন এবং চার সপ্তাহের মধ্যে পাওনাদারের টাকা পরিশোধ করে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করার নির্দেশ প্রদান করেন।

কিন্তু এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে এশিয়ান সামিট জাহাজ থেকে নিষিদ্ধ বাহন ভলগেট দিয়ে চোরাই পথে পাথর খালাস করছে। প্রতিদিনই জাহাজটি থেকে পাথর খালাস করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে গতকাল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা জানান, পাথর নিয়ে আসা জাহাজটি লেনদেনের কারণে আটকা পড়েছে বলে জানি। ভাই ভাই ট্রেডার্স লাইটারেজ জাহাজের টাকা পাওনার ব্যাপারটি মিটমাট করে নিলে সংকটের সুরাহা হতো। তারা তা না করায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের একজন কর্মকর্তা বলেন, এশিয়ান সামিট জাহাজ থেকে পাথর খালাস করা হচ্ছে ভলগেট দিয়ে। ভলগেট চট্টগ্রামে অবৈধ। এই বাহন নদী এবং খালে বিলে বালি টানে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাহন দিয়ে বহির্নোঙরে পাথর খালাস করা হচ্ছে। দফায় দফায় বৈঠক করেছি। তারা টাকা দেবে বলে বৈঠকে জানায় কিন্তু তা আর দেয় না। আমরা অনেক চেষ্টা করেও টাকা উদ্ধার করতে পারছি না। এই ব্যাপারে আদালতের আদেশ অমান্যের মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে, জানান ওই কর্মকর্তা।

সমতা শিপিং এর স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ আজিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিদিনই অবৈধ ভলগেট দিয়ে পাথর খালাস করা হচ্ছে। অথচ এই পাথর খালাসের উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারা আমাদের পাওনা পরিশোধ না করায় জাহাজ মালিকদের প্রায় দুই কোটি টাকা আটকে রয়েছে। তারা কোনো কিছুকেই পাত্তা দিচ্ছে না।

এই ব্যাপারে ভাই ভাই ট্রেডার্সের অন্যতম স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার টেলিফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে কোম্পানির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আসলে হিসেবের গোলমালের কারণে টাকাগুলো দেয়া হয়নি। পাঁচ দফা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু হিসেব সেটেলড হয়নি। ভলগেট দিয়ে পাথর খালাসের বিষয়টি জানা নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের মালিকরা দেখেন। জাহাজ আটকে থাকার কথা স্বীকার করে ওই কর্মকর্তা বলেন, এতে আমরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। প্রতিদিনই ১২/১৩ হাজার ডলার করে ক্ষতিপূরণ গুণতে হচ্ছে।

x