অবশেষে পিবিআইয়ের হাতে আটক ইয়াবার ‘গডফাদার’ শাহিন

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:০০ পূর্বাহ্ণ
176

আবুল কাশেম প্রকাশ শাহিন কক্সবাজারের রামু এলাকার একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ‘ইয়াবার গডফাদার’। সে ও তার পরিবার বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী হলেও তারা মূলত রোহিঙ্গা। ৪ দশক আগে কাশেমের পিতা মিয়ানমার থেকে এসে স্থানীয় এক নারীকে বিয়ে করে বাংলাদেশি বনে যায়। আবুল কাশেম প্রকাশ শাহিন ২০১৩ সালে কক্সবাজারে ঈদগড়-ঈদগাঁও-বাইশারী সড়কে হিল লাইন সার্ভিসে হেলপার হিসেবে চাকরি করত। বাসে হেলপারের চাকরির আড়ালে ডাকাত দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি করত। এছাড়াও যাত্রীদের অপহরণ করে আদায় করত মুক্তিপণ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে হেলপারের চাকরি ছেড়ে দিয়ে সরাসরি ডাকাতিতে যুক্ত হন আবুল কাশেম। একপর্যায়ে হত্যা-সন্ত্রাসেও জড়িয়ে পড়েন। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে নববিবাহিত স্ত্রীর সামনে ঈদগড় বড়বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নুরুচ্ছফাকে গুলি করে হত্যা করে। পরে সে বাসের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ইয়াবা ব্যবসায় যুক্ত হয়। মিয়ানমার থেকে সরাসরি ইয়াবা এনে বাংলাদেশে বিক্রি করতো। পরে সে ইয়াবার গডফাদারে পরিণত হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবা সরবরাহ করতো।
ফেব্রুয়ারিতে শাহ আমানত সেতু এলাকায় একটি পিকনিকের বাস থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা আটক করেছিল র‌্যাব। পরে র‌্যাব বাদি হয়ে ৮ জনকে এজাহারভুক্ত করে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। র‌্যাবের দায়ের করা মামলার ৭ নম্বর আসামি আবুল কাশেম। বাকলিয়া থানা ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দুই কর্মকর্তা তদন্ত শেষে কাশেম ও অপর আসামি রাজুর নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। কিন্তু আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে পুনরায় তদন্তের আদেশ দেন। পিবিআইয়ের তদন্তে আবুল কাশেম ও রাজুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর গত রোববার গভীর রাতে পিবিআইয়ের পাতা ফাঁদে ধরা পড়েন আবুল কাশেম। গতকাল সোমবার সকালে তাকে কঙবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম নিয়ে আসে পিবিআই। সোমবার দুপুরে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনা খুলে বলেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈনউদ্দিন।
মো. মঈনউদ্দিন বলেন, মামলার প্রথম দফা তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ার অজুহাতে ইয়াবা চালানের মূল সরবরাহকারী আবুল কাশেম শাহীনকে বাদ দেওয়ার আবেদন করেছিল সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তবে আদালতের নির্দেশে পুনঃতদন্তে নেমে পিবিআই কঙবাজার জেলার রামু উপজেলার ঈদগড় বাজার থেকে সেই ‘ইয়াবা গডফাদার’ শাহীনকে গ্রেপ্তার করেছে। শাহীন রামু উপজেলার কাটা জঙ্গল গ্রামের মৃত নবী হোসেনের ছেলে।
জানা যায়, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি যশোর থেকে যাওয়া একটি পিকনিকের বাস কঙবাজার থেকে ফেরার পথে নগরীর শাহ আমানত সেতু এলাকায় সেটিতে তল্লাশি চালায় র‌্যাব। পিকনিকের আয়োজক ছিলেন আতিয়ার নামে একজন। ঘটনাস্থল থেকে আতিয়ারসহ ৬ জনকে আটক করে র‌্যাব। পরে র‌্যাবের ডিএডি মো. শাহাদাত হোসেন বাদি হয়ে ৮জনের নাম উল্লেখ করে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মইন উদ্দিন এ মামলা তদন্ত করেন। পরে মামলাটি তদন্ত করেন সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেস বড়ুয়া। গত ৩০ জুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজেস বড়ুয়া আতিয়ার, গিয়াস উদ্দিন সিকদারসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এজাহারভুক্ত আসামি মাসুদ রানা, কাশেম ও রাজুকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়।

x