অবশেষে দেখছে আলোর মুখ

৮৮ প্লটের মধ্যে ৮২টি বরাদ্দ ।। মীরসরাইয়ে বিসিক শিল্পনগরী

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

বুধবার , ২২ জানুয়ারি, ২০২০ at ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ

দশ বছর পর অবশেষে আলোর মুখ দেখছে মীরসরাইয়ের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী। দেশের ৭৫তম এ প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ৮৮টি প্লটের মধ্যে ৮২ শিল্প উদ্যোক্তাকে প্লট বরাদ্দ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ২০০৯ সালের দিকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ূয়া মীরসরাইয়ে বিসিক শিল্পনগরী বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। এরপর মীরসরাই পৌরসভার পূর্ব মঘাদিয়া মৌজায় তালবাড়িয়া রেলস্টেশন এলাকায় জায়গা নির্ধারণ করে ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ১৫ দশমিক ৩২ একর জমির অধিগ্রহণ করে মাটি ভরাট কাজও শুরু হয়। প্রথম অবস্থায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। পরে তা বাড়িয়ে ২৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের মে মাসে তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সুপারিশক্রমে একনেকের বৈঠকে অধিগ্রহণ করা জমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। বাড়ানো হয় প্রকল্পের মেয়াদ। ২০১৭ সালের জুনে শিল্পনগরীর কাজ শেষ হয়। এরপর প্লট বরাদ্দ নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। শিল্পায়নের জন্য গত নভেম্বর মাসে শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রকল্পটির প্রবেশ মুখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর একটি ও প্রকল্পের উত্তর পাশে রেলস্টেশন সড়কে একটি ফটক তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পের ভেতরে সড়ক কার্পেটিং, ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিল্পায়নের জন্য ৮৮টি প্লটের সীমানা নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। খুঁটি লাগিয়ে টানানো হয়েছে বিদ্যুতের তার। তবে সংযোগ স্থাপনের জন্য খুঁটিতে বসানো হয়নি কোনো ট্রান্সফরমার। প্রশাসনিক ভবনটি সম্পূর্ণ তৈরি।
বিসিক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও যোগ্য শিল্পোদ্যোক্তা না পাওয়ায় প্লট বরাদ্দ দিতে বিলম্ব হয়। এরপর গত দুই বছরে ৮৮টি প্লটের বিপরীতে ১১৪টি আবেদন জমা পড়ে। বিসিক চট্টগ্রাম জেলা প্লট বরাদ্দ কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে গত নভেম্বর মাসে প্রকৌশল খাতে ১৯টি, তৈরি পোশাক ১৬টি, খাদ্য ও খাদ্যজাত ১৯টি,
কেমিক্যাল অ্যান্ড অ্যালাইড ১০টি, বন ও বনজাত ৩টি, প্যাকেজিং ৮টি, সিরামিকস ও নন মেটালিক ৩টি, রাবার-লেদার অ্যান্ড অ্যালাইড খাতে ৪টিসহ মোট ৮২টি প্লট বরাদ্দ দেয়।
বিসিক চট্টগ্রামের উপ-ব্যবস্থাপক আহম্মেদ জামাল নাসের চৌধুরী জানান, বিভিন্ন জটিলতার কারণে মীরসরাই বিসিক শিল্পনগরীর কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। অবশেষে আমরা সফল হয়েছি। আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে মীরসরাই বিসিক শিল্পনগরী। ইতোমধ্যে ৮৮টি প্লটের মধ্যে ৮২টি বরাদ্দ হয়েছে। সবক’টি প্লট বরাদ্দ হলে এ শিল্পনগরীতে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।