অপহরণ দক্ষিণ আফ্রিকায় মুক্তিপণের টাকা দেশের ব্যাংকে

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
145

সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সহায়তায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী অপহৃত বাংলাদেশি যুবককে ১৪ দিন পর উদ্ধার করেছে দেশটির ন্যাশনাল কিডন্যাপিং টাস্ক টিম। এ সময় অপহরণে জড়িত এক বাংলাদেশি ও এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপহরণের শিকার আব্দুল্লাহ আল রেজা (২৪) নগরীর দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহরের নাছির উদ্দিনের ছেলে।
সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে আজাদীকে বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার এপুমালাঙ্গা টুইফনটেন শহরে খালাতো ভাই ফরহাদের দোকানে কর্মচারী হিসেবে দুই বছর ধরে চাকরি করতেন রেজা। গত ৩১ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে কৃষ্ণাঙ্গ চার সন্ত্রাসী দোকানে ঢুকে রেজাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে এবং সাথে মোবাইল ও নগদ অর্থ নিয়ে যায়। তারা ফরহাদকে বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে সেখানে ৫০ লাখ টাকা জমা দিতে বলে। ঘটনার পর দোকান মালিক মো. ফরহাদ দূতাবাসের মাধ্যমে সে দেশে একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের ক্রাইম ইন্টেলিজেন্সের ন্যাশনাল কিডন্যাপিং টাস্ক টিম। পাশাপাশি রেজার বাবা নাছির উদ্দিন ও ফরহাদের ভাই বিষয়টি আমাদের জানান।
তিনি বলেন, ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বরের সূত্র ধরে আমরা তদন্ত শুরু করি। দেখি বেসরকারি ব্যাংকটির হিসাবধারী ফেনীতে থাকেন। প্রথমে সেই একাউন্ট হোল্ডারকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত তার ছোট বোনের স্বামী আমিনুল হক তাকে বলেছেন, তার অ্যাকাউন্ট নম্বরটি তিনি একজনকে দিয়েছেন এবং সেখানে ১ লাখ টাকা জমা হবে। কিন্তু অপহরণের বিষয়টি তাকে ৯ম পৃষ্ঠার ৭ম কলাম
জানাননি আমিনুল। আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় আমিনুলের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করি। কয়েক দফা বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করি সাউথ আফ্রিকার ন্যাশনাল কিডন্যাপিং টাস্ক টিম এবং ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স হেড অফিসের সাথে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য সাউথ আফ্রিকার ন্যাশনাল কিডন্যাপিং টাস্ক টিমের কাছে পাঠাতে থাকি। ১১ নভেম্বর তারা অপহরণে জড়িত পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তি মতে ১৩ নভেম্বর টুইফনটেন শহরের একটি বাসা থেকে অপহৃত রেজাকে উদ্ধার করে এবং ১৪ নভেম্বর আমিনুল হককে গ্রেপ্তার করে।

x