অপরাধী যেই হোক, শাস্তি পেতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী

কর্মকর্তাদের অহেতুক বিদেশ সফরে বিরক্তি

বুধবার , ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ

মানবাধিকার রক্ষায় সরকার আইনের শাসন নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অপরাধী যেই হোক শাস্তি তাকে পেতেই হবে। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সব থেকে যেটা প্রয়োজন মানবাধিকার রক্ষা করার জন্য আইনের শাসন নিশ্চিত করা। যেই অপরাধী হোক, অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবেএটাই আমাদের সিদ্ধান্ত। আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। খবর বিডিনিউজের।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দিতে ১৯৭৫ সালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি বলেন, হত্যাকারীরা দম্ভ করে বলত তাদের কেউ বিচার করতে পারবে না। কারণ তাদের ‘ইনডেমনিটি’ (দায়মুক্তি) দেওয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমার মায়ের কি অপরাধ ছিল বা আমার দুই ভাই? তারা তো মুক্তিযোদ্ধা ছিল। তাদের নবপরিণীতা বধূদের কী অপরাধ ছিল? আমার ছোট্ট ভাইটি ১০ বছরে। কী অপরাধ ছিল রাসেলের? দায়মুক্তির পর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ভোট চুরি করে দুজন খুনিকে পার্লামেন্টে সংসদ সদস্য হিসেবে বসানো হয়েছিল। এক খুনিকে বিরোধীদলের নেতার চেয়ারে বসানো হয়েছিল। আরেক খুনিকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করা হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের পর ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফেরার পরও বিচার চেয়ে মামলা করতে পারেননি বলে কষ্টের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ফিরে এসে মামলা করতে গিয়েছি। বলেছে, আপনি মামলা করতে পারবেন না। কারণ তাদেরকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছিল। ঠিক এইভাবেই এই দেশে পরিবর্তন আনা হয়েছিল মানবাধিকার লংঘন করে। আমি অধিকার পাইনি আমার বাবামায়ের হত্যার বিচার চাইতে বা ভাইয়ের হত্যার বিচার চাইতে। আমার অপরাধটা কী ছিল? আমার মতো আরো যারা আপনজন হারিয়েছিল তাদের অপরাধটা কী ছিল?

তিনি বলেন, যারা এভাবে খুনিদের পুরস্কৃত করেছিল বা যারা লালনপালন করেছিল বা যারা খুনিদেরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছিল, তারাও কি একই অপরাধে অপরাধী ছিল না? অন্যায় অবিচার যারা প্রশ্রয় দেয় সেই দেশে বারবার মানবাধিকার লংঘন হবেএটা খুবই স্বাভাবিক। সেই অবস্থা থেকে দেশকে এবং জাতিকে সম্পূর্ণ ফিরিয়ে নিয়ে আসাআমরা সেই কঠিন কাজটাই করে যাচ্ছি। মাদকসন্ত্রাসজঙ্গিবাদদুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো সমাজকে ধ্বংস করে, নষ্ট করে। এ নিয়ে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, নিপীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরাতে আলোচনা চলছে।

কর্মকর্তাদের অহেতুক বিদেশ সফরে বিরক্তি

বাংলানিউজ জানায়, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তাদের অহেতুক বিদেশ সফরে বিরক্ত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইসলামাবাদে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেঙ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতি বিরক্ত প্রকাশ করেন।

গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে এর নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিরক্তি প্রকাশের কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। সভায় মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের আওতায় বার বার বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। অনেক প্রকল্পে বিদেশ সফর প্রয়োজন না, তবুও যাওয়া হচ্ছে। অনেক প্রকল্পে একই কাজে বারবার বিদেশ সফর করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এমন অহেতুক বিদেশ সফর চান না।

২০০৭ সালে ২৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্‌েরঙ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। এত বছর পর এই ভবন নির্মাণে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৭৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। মূল প্রকল্প থেকে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে ৫০ কোটি ছয় লাখ টাকা। এর পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা ও তা শক্তিশালী করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানে নিজস্ব ভবন মিশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এক যুগ পর প্রকল্পটি সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধিত ব্যয় ও সময় বাড়ানো হয় একনেক সভায়।

x