অপপ্রচার আর নানামুখী সংকটে পোলট্রি শিল্প

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

শুক্রবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ
19

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্লাস্টিকের ডিম, মুরগির মাংসে ব্যাকটেরিয়া, ট্যানারির বর্জ্য থেকে পোলট্রির খাবার তৈরিসহ নানা অপপ্রচার হচ্ছে। অপপ্রচারে সংকটের মুখে পড়েছে পোলট্রি শিল্প। প্লাস্টিকের ডিম তৈরিসহ রয়েছে নানা ধরনের অপপ্রচার। কোথাও বলা হচ্ছে মুরগির মাংসে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া। আর পোলট্রির খাবার পুরোটাই তৈরি হচ্ছে ট্যানারির বর্জ্য থেকে। অথচ সারাদেশের পাশাপাশি মীরসরাই উপজেলায় ও অনেকগুলো পোল্ট্রি শিল্প যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ফিড মিল ও হ্যাচারী। অনেক ছোট খামার গড়ে ওঠায় ও বেকারত্বের অভিশাপ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ রহস্যজনক কারণে এমন সব অপপ্রচার করে এই শিল্পকে হুমকির মুখে পতিত করছে বার বার এমন অভিযোগ ছোট থেকে বড় খামারী সকলেরই। এই অপপ্রচারে দেশের পোল্ট্রি শিল্পের পাশাপাশি মীরসরাই উপজেলার অন্তঃত শতাধিক ক্ষুদ্র খামারি ও হুমকির মুখে।
মীরসরাই বাজারের খুদে পোল্ট্রি বিক্রেতা সালাউদ্দিন বলেন ,অপপ্রচারের কারণে বাজারে মুরগির দাম নিত্য উঠানামা করছে। অনেক সময় প্রতি মুরগিতে ২০০টাকা খরচ পড়ে গেলে কখনো তা ৫০ টাকা লোকসান দিয়ে ১৫০ টাকা বিক্রয় করতে হচ্ছে।
কখনো ১০টাকা লাভ করতে কষ্ট হচ্ছে । আবার যখন ৫০টাকাই লোকসানে পড়ে যাই তখন পুঁজি সংকটেই পড়ে যেতে হয়। ঠিক একই দশা উপজেলার করেরহাট, বারইয়াহাট, শান্তিরহাট, জোরারগঞ্জ, আবুতোরাব, বড়তাকিয়াসহ বিভিন্ন হাটবাজার কেন্দ্রিক ক্ষুদে ও বড় সকল ব্যবসায়ীর।
মীরসরাই উপজেলার একটি পোল্ট্রী খামারের ব্যবস্থাপক বলেন, ফেসবুকে নকল ডিম নিয়ে যে প্রচারণা তা ভিত্তিহীন। এ পর্যন্ত নকল ডিমের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সন্ধান দিতে পারলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া জেলায় জনৈক পোল্ট্রি খামারি লোকসানের কারণ ওই সময়ে গণমাধ্যমে ভেজাল ফিড নিয়ে খবর প্রচার করে । এতে দেশের এক স্থানে কেউ অপপ্রচার করলে অন্য স্থানে এসে গুজবের রূপ পাল্টে অনেকরকম গল্প তৈরী হয় । বলা হয় ব্রয়লার মুরগিতে প্রচুর কোলস্টেরল থাকে এবং মাংস খেলে ক্যান্সার হবে। এই বিষয়ে মীরসরাইয়ের প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল কান্তি পোদ্দার বলেন ব্রয়লার মুরগি খেলে ক্যান্সার বা অন্য কোনো রোগ হওয়ার আশঙ্কা বিন্দুমাত্র নেই যা বলছেন আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে শুরু করে দেশের পুষ্টি বিজ্ঞানীরাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েক বছর আগের তথ্যগুলোও রহস্যজনকভাবে ঘুরেফিরে আসছে। বিপিআইসিসির হিসাব মতে, ২০২১ সালের চাহিদা মেটাতে বছরে প্রায় ১ হাজার ৮১৯ কোটি ডিম, ৩৩-৩৫ লাখ টন মুরগির মাংস উৎপাদন করতে হবে।
এ চাহিদা পূরণে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন। কিন্তু এ ধরনের অপপ্রচার, অস্থিতিশীল বাজারের কারণে অনেকেই বিনিয়োগে আগ্রহী হয় না। বর্তমান এ খাতে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। কর্মরত আছে ৬০ লাখ মানুষ। ২০২৫-৩০ সালের চাহিদা পূরণ করতে হলে বিনিয়োগ প্রায় দ্বিগুণ করতে হবে।

x