(অন্যরকম বরষা)

শাহানা ইয়াসমিন

রবিবার , ৪ আগস্ট, ২০১৯ at ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ
55

: অবনী হাঁটছে। মধ্যদুপুর। মাথার উপড় সূর্যটা মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়েছে। কিছুটা আঁধার, কিছুটা আলোয়ে মাখামাখি চারপাশ। বৃষ্টি অবনীর ভীষণ প্রিয়। তবুও ও চাচ্ছে না মেঘগুলো ঝড়ুক। কারণ গায়ে হালকা জ্বর। অসুস্থতা নিয়েও অবনী বের হয়েছে। টিউশনীতে যাচ্ছে। ব্যাগের কোণায় শিক ভাঙা একটা ছাতা লুকিয়ে আছে। অবনী জানে এতে তার শেষ রক্ষা হবে না। অসুস্থ হয়ে অবণী হলের বিছানায় পড়ে থাকতে চায় না। জোরে পা চালাচ্ছে। দারোয়ান বলল,”ছাত্রী ম্যাডামের সাথে বেড়াতে গেছে।“ আজ মাসের ১৩ তারিখ। ভাবছিল বেতনের টাকাটা পাবে। কিন্তু হতাশা নিয়ে ফিরতি পথে পা বাড়াল। আকাশ চমকে, ডেকে উঠল। নাহ আর বুঝি শেষ রক্ষা হল না। দ্রুত চায়ের একটা স্টলে ঢুকে সুবিধাজনক জায়গায় বসল। এখন শুধুই অপেক্ষা,অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির জন্যে। মনটা ছুটে গেল আঁটপৌড়ে গাঁয়ে।
যেখানে অবনীর বেড়ে ওঠা। বরষায় পুকুরের গরম পানিতে ডুব দেয়া, নরম মাটিতে পা আটকে গেলে হাসির দমকে ফেটে পড়া। বৃষ্টির ফোঁটার সাথে প্রাণপণে ছুটে লুকোচুরি খেলা।আবার কখনো মায়ের শাসনে আটকে থাকা বন্দী জানালায় উদ্দাম বরষাকে ছুঁতে চাওয়া। এসব ভাবতে ভাবতেই অবনীর বুকের মধ্যে একটা চিৎকার। চিরচেনা বরষায় অবনী কেমন যেন অচেনা। অজান্তেই অবনীর নিজেকে প্রচন্ড একা আর নিঃসঙ্গ মনে হতে লাগল। শূন্যতায় হাহাকার থাকে, থাকে কষ্ট। চোখের কোণ ছাপিয়ে প্রকৃতির বরষায় অবনী একাত্বতায় মগ্ন। হঠাৎ বাড়ানো হাতে ধোঁয়া ওঠানো এক কাপ চা। অবাক হয়ে স্মীত হাসিতে দু’টো চোখে অনেক কথা। বাকহীন অবনী হাত বাড়িয়ে চায়ের কাপটি হাতে নিল। শান্ত, কিন্তু যার স্বভাবে নামের ছিটেফোটাও নেই। যার কন্ঠে প্রচণ্ড একটা মাদকতায় ভরা আপনত্বের কাঁপন। অবশেষে একাকিত্বের অবসানে স্টলের টিনের চালে ঝমঝম আর বৃষ্টির হালকা ছাটে বেশ লাগছে অবনীর। অবশেষে ফেলে আসা বরষাকে ছাপিয়ে নতুন এক ভাললাগার অনুভূতিতে আর অনুভবের ছোঁয়ায় কেবলই হারিয়ে যাওয়া।এ এক অন্যরকম বরষা।

x