‘অনিয়মিত’ থাকছে না জেএসসিতে

এ বছর থেকে একই সিলেবাসে পরীক্ষা

রতন বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার , ৭ মার্চ, ২০১৯ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ
196

এবছর (২০১৯ সাল) থেকে একই সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়া হবে জেএসসি (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষায়। নিয়মিত এবং অনিয়মিতদের আলাদা সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণের নিয়ম আর থাকছে না। সব পরীক্ষার্থীই একই সিলেবাসে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবেই পরীক্ষায় অংশ নেবে। এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জুনিয়র পর্যায়ে ‘অনিয়মিত’ বলতে কোন শিক্ষার্থী আর থাকছে না বলেও জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক। আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতির ভাষ্য- জেএসসি পরীক্ষাটি পাবলিক পরীক্ষা নয়। এটি সমাপনী পরীক্ষা। আর সমাপনী পরীক্ষায় কেউ ফেল করলে তাকে পুনরায় একই শ্রেণিতে ভর্তি হতে হয় এবং নতুন সিলেবাসেই পাঠ্যক্রমে অংশ নিতে হয়। তার জন্য পুরনো সিলেবাসে পাঠদান করানো হয় না। তাই জেএসসিতে এবছর থেকে একই সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিজ্ঞপ্তি আকারে সকল শিক্ষাবোর্ড ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক।
কমিটির সভাপতি প্রফেসর মু. জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ‘আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় সকল পরীক্ষার্থীকে ২০১৯ সালের সিলেবাস অনুয়ায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জেএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পুনরায় ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হতে হবে এবং নিয়মিত সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এক থেকে তিন বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীরা শুধু অকৃতকার্য বিষয়ে অথবা সকল বিষয়ে ২০১৯ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে আংশিক বিষয়ের (এক বা একাধিক বিষয়ে) পরীক্ষার্থীদের পুনরায় ৮ম শ্রেণিতে ভর্তির বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয়।’
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম।
বোর্ডের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি সিদ্ধান্তটি ইতোমধ্যে পত্রিকায়ও বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
এদিকে, ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশনের আওতায় থাকায় আগের বছরের পরীক্ষার্থীদের নিয়ে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে- বর্তমানে ৮ম শ্রেণির শুরুতেই শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকে দুই বছর। তবে দুই বছরেও পাস করতে না পারলে অতিরিক্ত আরো এক বছর নবায়নের সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। রেজিস্ট্রেশনের প্রথম বছর নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। তবে কোন শিক্ষার্থী প্রথমবার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে অনিয়মিত হিসেবে পরবর্তী বছরে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। দ্বিতীয়বারও অকৃতকার্য হলে রেজিস্ট্রেশন নবায়নের মাধ্যমে শেষ সুযোগ হিসেবে আরো একবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী। অর্থাৎ ৮ম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী পরপর তিনবার জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। অবশ্য, প্রথমবারের পর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবেই অংশ নিতে হয় পরীক্ষায়। আর অনিয়মিত ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া হয় পুরনো সিলেবাসেই।
এখন নতুন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবু তাহের। যদিও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও জানান বিদ্যালয় পরিদর্শক।
এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি প্রফেসর মু. জিয়াউল হক গতকাল আজাদীকে বলেন, ফেল করা শিক্ষার্থীরা চাইলে আগের রেজিস্ট্রেশন দিয়েই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। অথবা পুনরায় নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করবে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে (নতুন সিলেবাসেই) পরীক্ষায় অংশ নেবে। এ নিয়ে জটিলতার কিছু নেই।
উল্লেখ্য, এবারের (২০১৮ সালের) এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণ নিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়। অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র এবং কোথাও কোথাও নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র সরবরাহের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। যদিও এ ঘটানয় শিক্ষার্থীরা কোন ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে আশ্বাস দিয়ে রেখেছে মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ডগুলো।

x