অনির্দিষ্টকালের পণ্য পরিবহন ধর্মঘট আজ থেকে

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২০ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:০২ পূর্বাহ্ণ
290

নতুন সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ সংশোধনের দাবিতে পরিবহন মালিক শ্রমিক সংগঠনগুলো একে একে আন্দোলনে নামছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট চলছে। আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক রুস্তম আলী খান বিষয়টি নিশ্চিত করে আজাদীকে বলেন, ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। তিনি জানান, এ উপলক্ষে তেজগাঁওস্থ আমাদের সংগঠনের অফিসে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সদস্য সচিব তাজুল ইসলামসহ মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের পণ্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু হলে এর প্রভাব পড়বে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে। আমদানি পণ্য খালাসে ধস নামবে। স্বাভাবিকের তুলনায় ট্রাক, কাভার্ডভ্যান কমে গেলে এর প্রভাব পড়বে নিত্য পণ্যের বাজারেও। পণ্য চালানও কমে যাবে। ধর্মঘট দীর্ঘস্থায়ী হলে পণ্যজট বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া পরিবহন ধর্মঘটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে আমদানি-রপ্তানিকারকদের।
ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম বলেন, নতুন আইনে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চালকরা গাড়ি চালাবেন না। কিছু হলেই জরিমানা করা হবে ২৫ হাজার টাকা। আছে মামলা। আবার চালকের লাইসেন্সের ওপর পয়েন্ট কাটা হবে। এসব কারণে চালকরা আর গাড়ি চালাবেন না।
তিনি আরো বলেন, যে আইনটা হয়েছে তা বাংলাদেশে চলে না। কারণ এই আইন করার আগে তো আপনাকে সব ধরনের অবকাঠামো ঠিক করা উচিত ছিল। রাস্তাঘাট ঠিক নাই, আপনি আইন করলে তো সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। লাইট লাইসেন্স দিয়ে অধিকাংশ চালক বড় গাড়ি চালাচ্ছে। সেই লাইসেন্স নিয়ে একজন ড্রাইভার রাস্তায় নামবে আর জরিমানা করা হবে ২৫ হাজার টাকা। একজন চালক এই বাজারে অত টাকা বেতন পায়? তাহলে সেই চালক কীভাবে ওই জরিমানা দেবে?
প্রসঙ্গত, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত মাসে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-র ধারা ১-এর উপ-ধারা (২) এ দেয়া ক্ষমতাবলে সরকার ১ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর করে। গত বছরের ৮ অক্টোবরে আইনটির গেজেট জারি করা হলেও তার কার্যকারিতা ঝুলে থাকায় এ নিয়ে আদালতে রিট আবেদনও হয়েছিল।
আইন অনুযায়ী, মোটরযান চালনাজনিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতর আহত বা নিহত হলে এ সংক্রান্ত অপরাধ দণ্ডবিধি-১৮৬০-এর এ সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে দণ্ডবিধির ৩০৪-বি ধারাতে যাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে সংঘটিত কোনো দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত বা নিহত হলে চালক সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। আইনের ১১৪ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল ইত্যাদির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি (১৮৯৮) প্রযোজ্য হবে।
আইনটি প্রণয়নের পর থেকে এর প্রবল বিরোধিতা করে আসছিল পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনার মামলায় নতুন আইনে শাস্তির মাত্রা অনেক বেশি। একই দাবিতে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে পরিবহন শ্রমিকরা যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছে।
চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সমর্থন
নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করার দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ। পরিবহন সেক্টরে জড়িত অভিজ্ঞ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে আইনটি সংশোধন করা হলে পরিবহনের মালিক-শ্রমিক তথা যাত্রীরা উপকৃত হবে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি আজ থেকে আহূত ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ধর্মঘটে সমর্থন জানানো হয়।
গতকাল সন্ধ্যায় মুরাদপুরে রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সহ-সভাপতি মাহবুবুল হক মিয়া। বক্তব্য দেন সৈয়দ হোসেন, আব্দুর রহমান, আহসান উল্লাহ হাসান, নুরুল ইসলাম, জাফর উদ্দিন চৌধুরী, অহিদুন নুর কাদেরী, মো. কলিমুল্লাহ, মো. শাহজাহান, মোবারক হোসেন, হাবিবুর রহমান চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম সমু, তরুণ দাশগুপ্ত ভানু, সিরাজউদ্দৌলা নিপু, আকবর হোসেন, মনসুর উদ্দিন চৌধুরী, নুরুল ইসলাম, রিয়াজ উদ্দিন প্রমুখ।

x