অনিঃশেষ চেতনার বাতিঘর

দিলীপ কুমার বড়ুয়া

শুক্রবার , ৩১ আগস্ট, ২০১৮ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
92

পৃথিবীতে কিছু কিছু মনীষী জন্মেছেন প্রেরণার উৎস হয়ে। নিজস্ব প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে সন্ধান করেছেন আলোর ভুবন। নিজেদের সৃজনশীল কর্মসপৃহা দিয়ে গড়েছেন অনন্য ইতিহাস। তেমনই একজন সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠা দুখু মিয়া খ্যাত কাজী নজরুল ইসলাম। যিনি পৃথিবীতে জন্ম নিয়েই অভাবঅনটন, দুঃখ দুর্দশা আর চরম দারিদ্র্যতার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির কোলে স্বাভাবিক নিয়মেই বেড়ে উঠেছিলেন। সেখানে চাঁদ, সূর্য, আকাশ, বাতাস, মাটি, বৃক্ষলতাসহ অবারিত প্রকৃতিকে নিজের করে পেয়েছেন। সরাসরি প্রকৃতির কাছ থেকেই জীবনের প্রথম পাঠ কাজী নজরুলের। অস্থিরতা তাঁর বৈচিত্র্য ভাবনার সহচর। আর চাঞ্চল্য তাঁর অদম্য প্রাণশক্তির প্রকাশ। শৈশব থেকেই জীবনযুদ্ধে নিজেকে টিকিয়ে রাখার মানসে একাধারে রুটির দোকানের শ্রমিক, লেটুর দলের অভিনেতা, মসজিদের মুয়াজ্জিন, মাজারের খাদেম, ক্রিস্টান গার্ডের খানসামা, ব্রিটিশ আর্মির সৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন। দুর্নিবার প্রচেষ্টায় নজরুল প্রগাঢ় আস্থার মধ্য দিয়েই জীবনের এক সংগ্রামমুখর কঠিন অধ্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। নিজ কর্মগুণে বাঙালির অনিঃশেষ চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলাম হয়েছেন মহীয়ান। বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতের প্রায় সবক্ষেত্রে বহুমাত্রিক প্রতিভার সপর্শে যুক্ত করেছেন যুগমাত্রা। সৃষ্টির ক্ষেত্রে ছিলেন আজীবন গভীর নিমগ্ন এক স্রষ্টা। তাঁর কবিতা, গান, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাসসহ সকল সৃষ্টিকর্মে আছে দ্রোহ, আছে দেশপ্রেম, আছে মানবপ্রেম, মানবিকতা ও অসামপ্রদায়িকতা। সৃষ্টিশীলতায় তাঁর দৃপ্ত পদচারণা সাহিত্য সংস্কৃতির অঙ্গনে। তাঁর ক্ষুরধার লেখনির মূল বিষয়বস্তু মানুষ ও মানবতার জয়গান, স্বাধীনতা ও মুক্তির চেতনা । মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করেননি তিনি। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারঅনাচার মানেননি। শোষিতের ওপর শাসকের শোষণনিপীড়ন সহ্য করেননি। সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে ছিলেন সোচ্চার। ন্যায় ও সাম্যের আবাহনে তিনি ছিলেন অক্লান্তঅবিরাম। তাঁর সৃষ্টিকর্ম এবং চিন্তাচেতনা বাঙালি জাতি তথা পরাধীন ভারতবাসীকে প্রবলভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ব্রিটিশ ভারতের স্বাধীনতা প্রিয় জনগণের মনন ও মানসে তাঁর অজর বিদ্রোহের বাণী ও সুর অনুরণিত হয়েছে প্রতিনিয়ত। অবহেলিতঅপমানিত, নির্যাতিতবঞ্চিত মানুষ তাঁর দ্রোহের অনির্বান শিখায় জ্বলে উঠেছে বজ্রশপথে। অনাচার ও অত্যাচার প্রতিরোধে উৎপীড়িতের চিরদিনের প্রেরণা তিনি।

কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সময়কে ভেদ করে এগিয়েছেন। ব্যক্তি জীবনে যেটুকু কাব্য ও সাহিত্য চর্চার সময় তিনি পেয়েছেন; সৃষ্টি করেছেন কাব্য, উপন্যাস, গল্প, শিশুতোষ রচনা সত্য সুন্দরের ধ্যানে। অমানবিক শোষণ, বঞ্চনা, নিপীড়ন, নির্যাতন ,পরাধীনতা, সামপ্রদায়িকতা,পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে নজরুল বিদ্রোহ করেছেন । গভীর মানবতাবোধই ছিল যার অন্তর্গত দায়বদ্ধতা ও অনুপ্রেরণার উৎস। স্বদেশের পরাধীন মানুষকে গভীরভাবে ভালোবেসে ছিলেন বলে ইংরেজ শাসক এর অমানবিক জুলুমনির্যাতন, অত্যাচারে ব্যথিত হয়ে ডাক দিয়েছেন স্বাধীনতার,প্রবল বিদ্রোহে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নজরুলই প্রথম কবি, যিনি গণমানুষের পক্ষে এবং শাসক শ্রেণির বিরুদ্ধে লেখার জন্য কারাবরণ করেছেন। তাঁর গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত হয়েছে, পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে। বিদেশি শাসনশোষণের বিরুদ্ধে তাঁর দ্রোহ ছিল বুকের গহীন থেকে উৎসারিত। কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমহিমায় বাংলা সাহিত্যে চির ভাস্বর হয়ে আছেন।

তাঁর অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশী, ঘুমভাঙার গান, ফণিমনসা, সর্বহারা, জিঞ্জির, সন্ধ্যা, প্রলয়শিখা, সাম্যবাদী ইত্যাদি কাব্যের মাধ্যমে তিনি জাগরণের গান শুনিয়েছেন মানুষকে। নিঃসন্দেহে কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বিদ্রোহী কবিতার জন্যই তিনি আজ সর্বত্র বিদ্রোহী কবি হিসাবে সমাদৃত। ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থার নানাবিদ অসংগতির বিরুদ্ধে নজরুল তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতা বিদ্রোহী তে তাঁর মানসজাত ভাবনার প্রকাশ করেছেন এভাবে মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত/যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, /অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবে না/বিদ্রোহী রণক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত!

চিরকালের এক তারুণ্য চেতনা প্রতিভাত হয়েছে নজরুল কাব্যে, সাহিত্যে, প্রবন্ধে। দেশ কাল ও স্থানকে ছাড়িয়ে নজরুল রচনায় মূর্ত হয়ে উঠেছে তারুণ্যের বন্দনা। চির তরুণ এই কবির বাণী আজও উদ্দীপ্ত করে, অনুপ্রাণিত করে হাজারো তরুণকে। তারুণ্যের মুখে উচ্চারিত হয় কবির সেই দৃপ্ত শপথবাণীআমি দুর্বার/আমি ভেঙে করি সব চুরমার।/আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল। চিরতারুণ্যের, চিরযৌবনের আজীবন জয়গান গেয়েছেন কবি নজরুল। জীবনযুদ্ধে বারংবার দারিদ্র্যের কশাঘাতে নিষেপষিত নজরুল হার মানেননি অন্যায়ের কাছে। আপোস করেননি মিথ্যার সঙ্গে। শাসকের বিরুদ্ধে বারংবার উচ্চারণ করেছেন বিদ্রোহের বাণী। বন্দনা করেছেন তারুণ্যের, যৌবনের। শৃঙ্খল ভেঙে এগিয়ে চলার আহ্বান করেছেন সেই যৌবনকে, তারুণ্যকে। বয়সের ফ্রেমে নিজকে আটকে না রেখে আলিঙ্গন করতে বলেছেন চিরতারুণ্যকে। নিজ জীবনে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তিনি তাঁর সাহিত্যকে করেছেন সীমাহীন, বন্ধনহীন । কবি গেয়েছেন সাম্যের গান, গেয়েছেন মানবতার গান। তাঁর জীবনবাদী, মানবতাবাদী দর্শন বিশ্বের সকল তরুণের কাছে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। নজরুল ছিলেন অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ। তাঁর কবিতা ও গানে সত্য ও সুন্দরের বাণী এবং সুরের প্রতিফলন ঘটেছে সব সময়। অগ্নিবীণা হাতে তাঁর প্রবেশ, ধুমকেতু হয়ে প্রকাশ। সৃষ্টিকর্ম ও জীবনাচরণসর্বত্রই দ্রোহের আগুন। প্রকাশ করেছেন বিদ্রোহীর মতো অতুলনীয় কবিতা ও ভাঙার গানের মতো বিখ্যাত কাব্য, ধুমকেতুর মতো জ্বালাময়ী সাময়িকী। ব্রিটিশ শাসকের কারাবন্দি হয়ে লিখেছেন রাজবন্দির জবানবন্দির মতো নির্ভিক ও সাহসী সাহিত্যকর্ম। তার সৃষ্টিকর্মে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ছিল যেমন প্রবল, তেমনি পরাধীন ভারতবাসীর স্বাধীনতা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ছিল দুর্বার।

নজরুল সমাজে সাম্যের বাণী প্রচার করতে গিয়ে অসাম্যের কদর্য রূপটি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। তিনি তাঁর সকল সাধনা দিয়ে সমাজের বিদ্যমান অসাম্য দূর করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর সেই পথচলায় সৃষ্টিসুখের উল্লাসে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন আমাদের বাংলা সাহিত্য। নজরুলের সাম্যবাদ চাপিয়ে দেয়া কোন বিষয় নয়। তিনি ভেবেছেন সমাজবদ্ধ সকল মানুষের সবকিছুর মধ্যে সমঅধিকার রয়েছে । আর এটিই সাম্যের মূলমন্ত্র। নজরুলের কবিতায় নিজের ভাবনার কথামালা এভাবেই প্রকাশ করেছেনরবি শশী তারা প্রভাতসন্ধ্যা তোমার আদেশ কহে/এই দিবা রাতি আকাশ বাতাস নহে একা কারো নহে।/এই ধরণীর যাহা সম্বল/ বাসেভরা ফুল, রসে ভরা ফল, /স্নিগ্ধ মাটি, সুধাসম জল, পাখির কণ্ঠে গান, / সকলের এতে সমঅধিকার, এই তাঁর ফরমান!

সামাজিক ভেদ বৈষম্যের অর্গল ভাঙার জন্য বিপুল জনগোষ্ঠীকে তিনি শত শতাব্দীর ঘুম ভেঙে সম্মুখে এগিয়ে যাবার স্বপ্নসাহস দেখিয়েছেন। অধিকারহারা মানবগোষ্ঠীকে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছেন, তাদের দৃপ্ত উচ্চারণেতোমার দেওয়া এ বিপুল পৃথ্বী সকলে করিব ভোগ, /এই পৃথিবীর নাড়ী সাথে আছে সৃজনদিনের যোগ।/তাজা ফুলে ফলে অঞ্জলি পুরে/বেড়ায় ধরণী প্রতি ঘরে ঘুরে, /কে আছে এমন ডাকু যে হরিবে আমার গোলার ধান? /আমার ক্ষুধার অন্নে পেয়েছি আমার প্রাণের ঘ্রাণ/এতদিনে ভগবান!

সৃষ্টির আলোয় নজরুল ধারণ করেছিলেন প্রেম ও মানবতাকে । মানবসৃষ্ট অসাম্যের সকল প্রাচীর ভেঙে নজরুল সাম্যের গান শুনিয়েছেন। সাম্যের বার্তা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। ফলে তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে সাম্যের সুললিত বাণী গাহি সাম্যের গান-/যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধাব্যবধান, /যেখানে মিশেছে হিন্দুবৌদ্ধমুসলিম ক্রীশ্চান।/ …গাহি সাম্যের গান/মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।/নাই দেশকাল পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি, /সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।

সমাজ ধনীগরিবের প্রকট বৈষম্য, হিন্দু মুসলিম দ্বন্দ্বসংঘাত, মানুষে মানুষে হানাহানি, লোভাতুরের নির্মম থাবা ইত্যাদি দেখেছেন এবং উপলব্ধি করেছেন হৃদয় দিয়ে । তিনি অবস্থান নিয়েছিলেন মানবতা ও সত্যসুন্দরের পক্ষে। সকল অনাচারঅবিচারের মূলোৎপাটনের চেষ্টায় সৃষ্টি করেছেন অনবদ্য সাহিত্য। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল এর প্রতিটি সৃষ্টিকর্মে ছড়িয়ে আছে তাঁর বিপ্লব আর সাম্যের বোধ। তাঁর দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার উচ্চকিত আহ্বান অনন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে তাঁর সৃষ্টিসমগ্রে প্রকাশ পেয়েছে।

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ । যার মাঝে স্বয়ং স্রষ্টার বহিঃপ্রকাশ । কিন্তু মানুষ আপন স্রষ্টাকে আপনার মাঝে না খুঁজে অন্যত্র খুঁজে বেড়ায়। তাই স্রষ্টাকে খুঁজতে হবে নিজের মধ্যে। নজরুল স্রষ্টা এবং সৃষ্টির মাঝে সহজাত সমপর্কটি তাঁর ঈশ্বর কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন এভাবেকে তুমি খুঁজিছ জগদীশে ভাই আকাশপাতাল জুড়ে? /কে তুমি ফিরিছ বনেজঙ্গলে, কে তুমি পাহাড়চূড়ে? /হায় ঋষিদরবেশ, /বুকের মানিকে বুকে ধরে তুমি খোঁজ তারে দেশদেশ! /সৃষ্টি রয়েছে তোমা পানে চেয়ে তুমি আছ চোখ বুঁজে, /স্রষ্টারে খোঁজোআপনারে তুমি আপনি ফিরিছ খুঁজে! / তিনি প্রতিটি মানুষের মাঝেই স্রষ্টাকে প্রত্যক্ষ করেছেন। মানবহৃদয় হল স্রষ্টাকে পাবার আসল স্থান। তিনি উদ্ধৃত করেছেনএই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির কাবা নাই কিংবা কারো মনে তুমি দিও না আঘাত/ সে আঘাত লাগে কাবার ঘরে/ মানুষেরে তুমি যত কর ঘৃণা/ খোদা যান তত দূরে সরে। কুসংস্কার আর সংকীর্ণ মানসিকতায় আচ্ছন্ন উগ্রপন্থী সামপ্রদায়িকরা তাঁকে তাঁর সৃষ্টির পথকে রুদ্ধ করেছে বার বার । দৃঢ়চেতা কবি নজরুল তখনও থেকেছেন আপোসহীন, প্রবল প্রতিবাদী। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া তাঁর ভাষণে প্রকাশ করেছেন তাঁর অসামপ্রদায়িক চেতনাআমার বাণী যবন, কেউ বলেন কাফের। আমি বলি ও দুটো কিছুই নয়। আমি মাত্র হিন্দুমুসলমানকে এক জায়গায় ধরে এনে হ্যান্ডশেক করাবার চেষ্টা করেছি। গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি। নজরুলের অসামপ্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, মানবপ্রেম , গণতান্ত্রিক জীবনব্যবস্থার জন্য তাঁর আকাঙ্ক্ষা, তাঁর ধর্মনিরপেক্ষ জীবনবোধ আমাদের চেতনাকে প্রতিনিয়ত শাণিত করে ।

সত্যসুন্দর আর অগ্রগমনের কবি নজরুল সত্যঅন্বেষার কথামালা বলছেন অকপটে। সভ্যতার অগ্রগতির আলোয় এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় ও যেন অনুরণিত হয় আজিকার দিনে নজরুলের সেই ক্ষমাপ্রার্থনা ও শান্তি ভিক্ষাশান্তি দাও, শান্তি দাও হে ক্ষমাময়, ক্ষমা কর/হে অভেদ! এই ভেদ ভুলাইয়া উদার বক্ষে ধর।/ বাংলার এই হিংসালীলা ঢেকে দাও, ভেঙ্গে দাও! চির সুন্দর! ক্ষমা প্রসন্ন নয়নে আবার দাও। নজরুলের এই আকুতি আজ এই ক্রান্তিকালে বড়ই প্রাসঙ্গিক। অখণ্ড জীবনধারায় অস্তিত্ববাদী ও মানবতাবাদী চিন্তার নিঃশঙ্ক প্রকাশে নজরুল ছিলেন অকুতোভয় যোদ্ধা। যাবতীয় নেতিবাচকতা ও অশুভের বিপরীত বোধে কবি নজরুল বাঙালির অস্তিত্বে, সাহিত্যের ভুবনে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন অনন্তকাল । জন্মমৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি লিখেছিলেনযেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে/অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে/বুঝবে সেদিন বুঝবে।/…..ফিরবে মরু কানন গিরি/সাগর আকাশ বাতাস চিরি/সেদিন আমায় খুঁজবে/বুঝবে সেদিন বুঝবে। তাঁর অভিমানের ছন্দময় কবিতার পঙক্তি আমাদের হৃদয় বিদীর্ণ করে । মৃত্যুর মাঝে তিনি নিঃশেষ হলেও সৃজনের বহুমাত্রিক ঔজ্জ্বল্যে আলো ছড়াবেন আমাদের মননে। কবির প্রয়াণ বার্ষিকীতে শ্রদ্ধার অঞ্জলি সহ প্রণতি।

x