অনন্য খাস্তগীরের ৬ অনন্যা!

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
219

মম চিত্তে নিতি নৃত্যে, কে যে নাচে তাতা থৈ থৈ/তাতা থৈ থৈ, তাতা থৈ থৈ।’ কবিগুরুর এই গানে একই সুরে কণ্ঠ ছাড়ছিলেন চারজন। আর গানের সুরে নাচের তালে মঞ্চ কাপাচ্ছিলেন অপর দুই জন। সুর ও নৃত্যের তালে গোটা অনুষ্ঠানস্থল যেন মোহবিষ্ট। অনুষ্ঠানস্থল ছাড়িয়ে গোটা ক্যাম্পাস জুড়েই যেন পিনপতন নিরবতা। কয়েক হাজার উপস্থিতি যেন বিমুগ্ধ দর্শক ও শ্রোতা। চার জনের কণ্ঠে পরপর আরো দুটি গানমোরা নাচি, ফুলে ফুলে/ দুলে দুলে, আহা কি আনন্দ/আকাশে বাতাসে। সাথে দুই জনের মঞ্চ কাঁপানো নৃত্য।

নাচেগানে বিমুগ্ধতায় হাজারো উপস্থিতিকে নিপুণভাবে ভুলিয়ে রাখার এই পরিবেশনা ৬ বোনের! তাঁদের সুরছন্দ ও নৃত্যে যেন উধাও হাড় কাঁপানো শীতও। ৬ বোনই ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী। প্রিয় প্রতিষ্ঠানের ১১১ তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে (গতকাল) এমন পরিবেশনায় সবাইকে বিমোহিত করেছেন এই ৬ বোন। যেন অনন্য খাস্তগীরের ৬ অনন্যা! (উল্লেখ্যএবার স্কুলটির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের োগান ছিল ‘অনন্য খাস্তগীর’)। এই ৬ অনন্যা হলেনউর্মিলা চৌধুরী (১৯৮৯ ব্যাচ), ডা. শর্মিলা বড়ুয়া (১৯৯৪ ব্যাচ), রুমিলা বড়ুয়া (১৯৯৬ ব্যাচ), অনুলা বড়ুয়া (২০০০ ব্যাচ), মিথিলা বড়ুয়া (২০১২ ব্যাচ) ও মনোহরা বড়ুয়া (২০১৭ ব্যাচ)। ৬ জনের মধ্যে মাইক্রোফোন হাতে মঞ্চে সুরের বন্যা বইয়েছেন রেডিয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজের সহকারি শিক্ষিকা উর্মিলা চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট ডা. শর্মিলা বড়ুয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত মিথিলা বড়ুয়া ও সরকারি মহসিন কলেজের উচ্চমাধ্যমিকে অধ্যয়নরত মনোহরা বড়ুয়া।

আর চার বোনের গানের সুরেমন মাতানো নৃত্যে মেতেছিলেন সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত বাগমনিরাম আব্দুর রশিদ বয়েজ হাই স্কুলের সহকারি শিক্ষিকা রুমিলা বড়ুয়া ও হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন প্রভাষক অনুলা বড়ুয়া।

জানা যায়এডভোকেট প্রভৃতি রনজন বড়ুয়া ও প্রণতি বড়ুয়া দম্পতি ও পরিবারের মেয়ে এই ৬ অনন্যা। গ্রামের বাড়ি চন্দনাইশের ফতেনগরে হলেও বর্তমানে আবাস গড়েছেন শহরেই।

৬ বোন অংশ নিলেও পরী ার কারণে আরো এক বোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেনি বলে আফসোস করলেন শিক্ষিকা রুমিলা বড়ুয়া। অনুভূতি জানাতে গিয়ে রুমিলা বড়ুয়া বলেন, আমরা সব বোন এই অনন্য প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রী ছিলাম, ভাবতেই একটা শিহরণ জাগে। আমাদের পরম সৌভাগ্যও বলা যায়। আর অনুষ্ঠানে একই সাথে সব বোনের পরিবেশনাটাও আজীবন মনে রাখার মতো। এমন আনন্দে আমরা উচ্ছ্বাস প্রকাশের যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।

তবে ছোট বোন (২০০৫ সালের ব্যাচ) প্রতিভা বড়ুয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিলে আরো বেশি আনন্দ হতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা ওই বোনটি পরীক্ষার কারণে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেনি বলে জানান বড় বোন রুমিলা।

প্রসঙ্গত, নগরীর জামালখানের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের ১১১ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় দুদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের। গতকাল ছিল অনুষ্ঠানের শেষ দিন। দুদিনের অনুষ্ঠান ঘিরে শৈত্যপ্রবাহের তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাজারো প্রাক্তন ছাত্রীর মিলন মেলায় রুপ নেয় খাস্তগীর অঙ্গণ। পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু করে সদ্য প্রাক্তন, সকলেই ছুটে এসেছেন প্রিয় বিদ্যাপীঠে। খোপায় পছন্দের ফুল গুজে নবীনের পাশাপাশি প্রবীণরাও সেজেছিলেন পুষ্পকুমারীর সাজে। মিলন মেলা পরিণত হয় প্রাণের উৎসবে।

চমেক হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধান ডা. শাহানারা চৌধুরীও এই বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন ছাত্রী। তিনি বলছিলেনএই বিদ্যাপীঠ থেকে বেরিয়ে আজ অনেকেই উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন। এই স্কুলের মেয়েরা এখন একেকজন অনন্যা। শুধু চট্টগ্রামে নয়, দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও খ্যাতি ছড়িয়েছেন। তাই প্রানের স্কুলটিকে তাঁরা ‘অনন্য খাস্তগীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বলেও জানান খাস্তগীরের এই অনন্যা।

x