অধ্যক্ষের বদলি আদেশ প্রত্যাহার চায় চমেক শিক্ষার্থীরা

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ
104

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের বদলির আদেশ প্রত্যাহার ও তাকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে চমেকের শিক্ষার্র্থীরা। এই দাবিতে গতকাল (বুধবার) সকাল দশটার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসের মুক্ত মঞ্চে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। ক্লাস বর্জন করে ওই সময় আয়োজিত এক সমাবেশে যোগ দেয় শিক্ষার্থীরা। কলেজ ছাত্রসংসদ এবং ছাত্রলীগও কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করে।
চমেক ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান দাবি করেন, দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরানোর আন্দোলন চলছে। কিন্তু আমরা (চমেকের শিক্ষার্থীরা) আমাদের অধ্যক্ষ স্যারের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে স্বপদে বহালের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছি। তিনি কলেজের জনপ্রিয় একজন শিক্ষক।
পরে দল বেঁধে অধ্যক্ষের কক্ষে যায় শিক্ষার্থীরা। সেখানে গিয়ে অধ্যক্ষকে দায়িত্ব না ছাড়তে অনুরোধ জানায় তাঁরা। তবে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে ক্লাসে ফেরত পাঠান অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
এর আগে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে চমেক অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে অধ্যক্ষের পদ থেকে অবমুক্ত করে ফার্মাকোলজির অধ্যাপক পদে পদায়ন করা হয়। আর নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ডা. শামীম হাসানকে। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পার-১ অধিশাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে
এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকরের কথা বলা হয়।
এদিকে, অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের হঠাৎ বদলি আদেশের খবরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার নেতারাও। অধ্যক্ষের বদলির এ আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে স্বপদে পুর্নবহালের দাবি জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী।
এব্যাপারে ফয়সল ইকবাল চৌধুরী গতকাল আজাদীকে বলেন, অধ্যক্ষের চাকরির বয়স আছে আর মাত্র এক বছর। তিনি ৯ বছর ধরে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু অবসরে যাওয়ার এক বছর আগে হঠাৎ বদলি করাটা তাঁর জন্য অসম্মানজনক বলে আমরা (বিএমএ) মনে করি। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অধ্যক্ষ থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের দুর্নীতি ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার দিন চট্টগ্রামের একটি ভেন্যুতে অংশ নেয়া ১০/১২ জন পরীক্ষার্থীর একটি সিগনেচার শীট ভুলে ঢাকায় পাঠানো হয়নি। পরে মন্ত্রণালয় থেকে খোঁজ নিলে রাতে এটি ঢাকায় পাঠানো হয়।
এছাড়া পরীক্ষার উত্তরপত্র (ওএমআর অংশ বাদ দিয়ে) ভাঁজ করে পাঠানোয় নাখোশ হন অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে মুঠোফোনে অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তবে উত্তরপত্র ভাঁজ করা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কোন লিখিত বা মৌখিক নির্দেশনা না থাকায় শিক্ষকরা তা ভাঁজ করে পাঠান বলে জানান অধ্যক্ষ।
এনিয়ে অসন্তুষ্টি থেকে চমেক অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে বদলি করা হতে পারে বলে ধারণা করছেন শিক্ষক ও বিএমএ নেতৃবৃন্দের একটি অংশ। যদিও এ ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে অধ্যক্ষের দায় দেখছেন না তাঁরা।

x