অগ্নি নির্বাপণে হচ্ছে ফায়ার হাইড্রেন্ট

কোটি টাকায় সংস্কার হবে বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন

রতন বড়ুয়া

শুক্রবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:২০ পূর্বাহ্ণ

অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও আগুন নির্বাপণে ভূ-গর্ভস্থ জলাধার ও পাম্প হাউজ বসছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। পাম্প হাউজটি হবে দেড় লাখ গ্যালন (প্রায় ৭ লাখ লিটার) পানি ধারণ ক্ষমতার। হাসপাতালে একইসাথে স্থাপন করা হচ্ছে ফায়ার হাইড্রেন্ট। যা পানির মূল রিজার্ভার (পাম্প হাউজ) এর সাথে সংযুক্ত থাকবে। অগ্নিকাণ্ডে বা জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার হাইড্রেন্টের নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলোতে শুধু হুইস পাইপ লাগিয়ে পানি ব্যবহার করা যাবে। এতে করে ফায়ার সার্ভিসের পানির ট্যাঙ্ক ছাড়াই আগুন নির্বাপন বা নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।
অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও আগুন নির্বাপনে এই পাম্প হাউজ ও ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপনে ২ কোটি (১ কোটি ৯৯ লাখ) টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নির্মাণ অধিশাখার উপ-সচিব মুহাম্মদ শাহাদত খন্দকারের স্বাক্ষরে ২ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ভূ-গর্ভস্থ জলাধার ও পাম্প হাউজ স্থাপন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ-১। এর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৯৯ লাখ টাকা। আর ফায়ার ডিটেকশন ও প্রোটেকশন সিস্টেম প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ (ই/এম)-১। এই প্রকল্পের আওতায় ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক প্রতিরোধ মূলকব্যবস্থা নেয়া হবে। এর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক কোটি টাকা। সবমিলিয়ে ২ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন হবে অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও আগুন নির্বাপনে এই দুটি প্রকল্প।
অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ আজাদীকে বলেন, হাসপাতালে প্রায় সময় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা আমাদের তেমন নেই বললেই চলে। ফলে যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই হাসপাতালে অগ্নি প্রতিরোধ ও অগ্নি নির্বাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। এর প্রেক্ষিতে অর্থ বরাদ্দ পাওয়ায় প্রকল্পের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু করা সম্ভব হবে।
হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে- হাসপাতালের মূল ভবনে থাকা রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগটির পেছনের অংশের খালি জায়গায় পাম্প হাউজটি স্থাপন করা হবে।
অন্যদিকে, হাসপাতালের মূল ভবনের প্রতিটি ব্লকের প্রতিটি ফ্লোরে ফায়ার হাইড্রেন্টের একটি করে পয়েন্ট স্থাপনের প্রস্তাবনা ছিল বলে জানান গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক এন্ড মেইনটেনেন্স বিভাগ-১) এস এম ময়নুল হক। প্রত্যাশা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া যায়নি জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, তবে প্রাপ্ত বরাদ্দের অনুপাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এখন হয়তো ভবনের সবকয়টি ফ্লোর কভার করা সম্ভব হবে না। অবশ্য পরবর্তীতে আরো বরাদ্দ চাওয়ার সুযোগ থাকছে।
এস এম ময়নুল হক বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেড় থেকে দুই মাসেই কাজ শুরু করা যাবে।
ফায়ার সার্ভিস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফায়ার হাইড্রেন্ট হচ্ছে পানির একটি সংযোগ উৎস। যা পানির প্রধান উৎসের সঙ্গে যুক্ত থাকে। যে কোন জরুরি প্রয়োজনে এ উৎস থেকে পানি ব্যবহার করা যায়। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর সঙ্গে লম্বা পাইপ যুক্ত করে ইচ্ছে মতো যে কোন দূরত্বে পানি সরবরাহ করা যায়। অর্থাৎ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার আগেই এই ফায়ার হাইড্রেন্টের পয়েন্টে হুইস পাইপ লাগিয়ে পানি সরবরাহ করা যাবে। এটির মাধ্যমে দ্রুত সময়ে আগুন নির্বাপন ও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। অনেক সময় লম্বা পাইপ সংকটে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি থেকে আগুন স্থলে পানি পৌঁছানো সম্ভব হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে থাকা ট্যাঙ্কে বেশি পরিমাণ পানিও থাকে না। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ট্যাঙ্কের পানি শেষ হয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে ফায়ার হাইড্রেন্ট পানি সরবরাহের বিকল্প হিসেবে কাজ করে।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ফায়ার হাইড্রেন্ট ব্যবস্থা থাকলে আগুন দ্রুত নির্বাপন ও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। হাসপাতালে এই ফায়ার হাইড্রেন্ট ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য।
প্রসঙ্গত, সমপ্রতি বেশ কয়েক দফা অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে।
অবশ্য, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্কারেও অর্থ বরাদ্দ মিলেছে এবার। বিদ্যুতের সাব- স্টেশন থেকে হাসপাতালের সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদ্যুতিক লাইনের কিছু অংশও সংস্কার করা হবে এবার। এক কোটি টাকা ব্যয়ে এই সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম গণপূর্ত (ই/এম) বিভাগ-১।

x