জিয়াউর রহমান প্রথম মুক্তিযোদ্ধা, দাবি খসরুর

‘বিএনপি থাকলে অর্থনীতির গতি আরো বেড়ে যেত’

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ৩০ মে, ২০২২ at ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ

 

 

 

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ‘প্রথম মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কে ছিলেন তা জানতে হবে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক নম্বর মুক্তিযোদ্ধা। প্রথম মুুক্তিযোদ্ধা। যিনি পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করে পাকিস্তানিদের হত্যা করেন এবং কালুরঘাট রেডিও স্টেশনে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। পাকিস্তানির হাত থেকে বাংলাদেশের বিশাল অংশ মুক্ত করেছেন।’ জিয়াউর রহমানের ৪১ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে নগর বিএনপি’র উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল বিকেলে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নগর বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মো. নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।

আমীর খসরু আরো বলেন, স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে একটি দর্শন দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। একটি ভাবনা দিয়েছেন। একটি চিন্তা দিয়েছেন। যার প্রথম পদক্ষেপ ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন তার আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছিল তখন তৎকালীন নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব বাঙালি জাতীয়তাবাদের ঘোষণা দেন এবং তার বাইরে যারা আছে তাদের বাঙালি হয়ে যাওয়ার জন্য বলেছিলেন। যেটা বাংলাদেশের সাস্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর সবচেয়ে বড় আঘাত এনেছিল। সেখান থেকে বের করার জন্য জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দেন। অর্থাৎ এই সীমানার মধ্যে যারা আছে সবাই বাংলাদেশি। চাকমা, মারমা, হিন্দু, খ্রিস্টানসবাইকে একতাবদ্ধ করার জন্য জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়াতাবাদের প্রবর্তন করেন। তিনি দেশের উন্নয়নের ভাবনা দিয়েছেন, একদলীয় থেকে বহুদলীয় শাসনের দর্শন চালু করেন তিনি।

খসরু বলেন, জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সমান সুযোগ রেখেছিলেন। কারণ এর আগে ছিল রাষ্ট্র পরিচালিত অর্থনীতি। অর্থাৎ আওয়ামী পরিচালিত অর্থনীতি। বাকশাল পরিচালিত অর্থনীতি থেকে বের হয়ে সবাই যাতে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে, সেই দর্শন তিনি প্রণয়ন করেন। আজকে স্বৈরসরকার থাকার পরও অর্থনীতির একটি অবস্থান আছে। তার কারণ জিয়াউর রহমান। বিএনপি থাকলে অর্থনীতির গতি আরো বেড়ে যেত। বর্তমানে কিছু লোকের হাতে অর্থনীতি চলে গেছে। এই অর্থনীতিকে ফিরিয়ে আনতে হলে জিয়াউর রহমানের অর্থনীতি দর্শন নিয়ে আসতে হবে।

মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, তারেক রহমান দেশে আসলে বিপ্লব হয়ে যাবে। বেগম খালেদা জিয়াকে একবার জন সম্মুখে আসতে দেন, দেখেন দেশে কী হয়। পুলিশের সাবেক আইজি শহিদুল হক বলেছেনআওয়ামী লীগের জন্য ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। তাদের অত্যাচারে কাজ করা যায় না। পুলিশ ভাইদের বলব, এখনই সময় জনগণের সঙ্গে থাকার। বিপদে পড়লে এরা আপনাদের সাহায্য করবে না।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। বিশ্ব নেতারা বলেছেন, জিয়াউর রহমানের মতো দেশপ্রেমিক মানুষ হয় না। তারেক রহমান তার যোগ্য উত্তরসূরী।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের একটি বড় স্তম্ভ। এই স্থানের গুরুত্ব দেশের মানুষের কাছে অনেক বেশি। কারণ শহীদ জিয়াউর রহমান এখান থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের আধুনিক রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর শাসনামল ছিল বাংলাদেশের স্বর্ণযুগ। কৃষি থেকে শুরু করে রেমিটেন্সসহ অর্থনীতির চাকা সচল হয়েছিল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে।

সভায় বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবু সফিয়ান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. ছিদ্দিক আহম্মেদ চৌধুরী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুনুর রশীদ, চট্টগ্রাম জেলা ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দীন আহম্মেদ মানিক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএলো, দেখলো, জয় করলো
পরবর্তী নিবন্ধবিএনপির সমাবেশ শেষে ‘পিপার স্প্রে’ নিক্ষেপ