সাদামাটা, নিরীহ এক গল্প

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী

শুক্রবার , ২ মার্চ, ২০১৮ at ৯:১০ পূর্বাহ্ণ
132

এক

সুপ্রিয়’র মাথায় এসেছে একটি গল্প লিখার চিন্তা। একটি গল্প লিখতে চায় সুপ্রিয়। সুপ্রিয় ভাবেরাজপুত্র রাজকন্যাকে দিয়ে কি শুরু করবে গল্প? আমাদের মিত্র মহাশয় তাঁর গল্পগুলোকে তো এভাবেই সাজাতেন। তাঁর গল্পগুলোকে নিয়ে ঠাকুর মহাশয় বলেছেন, ‘ঠাকুরমার ঝুলির মত এতবড় স্বদেশী জিনিস আমাদের দেশে আর কি আছে? কিন্তু হায় এ মোহন ঝুলিটিও ইদানীং মাঞ্চেস্টারের কল হইতে তৈরি হইয়া আসিতেছিল। এখনকার কালে বিলাতের ’এটধরহ কটফণ্র’ আমাদের ছেলেদের একমাত্র গতি হইয়া উঠিবার উপক্রম করিয়াছে। স্বদেশের দিদিমা কোম্পানি একেবারে দেউলে। তাঁদের ঝুলি ঝাড়া দিলে কোন কোন স্থলে মার্টিনের এথিক্‌স এবং বার্কের ফরাসী বিপ্লবের নোট বই বাহির হইয়া পড়িতে পারে কিন্তু কোথায় গেলরাজপুত্র পাত্তরের পুত্র, কোথায় বেঙ্গমা বেঙ্গমী, কোথায় সাত সমুদ্র তের নদী পারের সাত রাজার ধন মানিক !’ এসবই বা সুপ্রিয়’র ভাবনায় আসে কেন? সুপ্রিয় ভাবে বটে। সুপ্রিয় তাঁর দেখা চেনা দু’জন বাঙালি পুত্রের কথা ভাবে………………

দু’জনেরই বয়স প্রায় সমান হবে কি? দু’জনেরই মাথায় টাক পড়েছে প্রায়। দু’জনেই পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে বেড়ান। সভা সমিতিতে যান। প্রতিবেশি রাষ্ট্র’র বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তাঁদের আছে। ত্রিপুরা ভ্রমণ করেছেন দু’জনেই। শান্তিনিকেতনেও যাতায়াত আছে তাঁদের। তাঁরা কি বাংলা সাহিত্যের রাজপুত্র ভাবেন নিজেদের? সুপ্রিয় ভাবে।

সুপ্রিয়’র মাথায় আছে একটা গল্প লিখবার কথা। গল্পের প্রয়োজনেই তাঁদের নিয়ে ভাবছেন সুপ্রিয়। দু’জন বাঙালি পুত্রের একজন আরেকজনের সমালোচনায় মত্ত। আর তখন এ সব কথাগুলো লেখা হয়

দুই

একজন আলোচক যখন কোনো লেখার উপর অথবা সে লেখার লেখকের উপর নেতিবাচক মন্তব্য করেন তখন তাঁর কী করণীয় হওয়া উচিত? সে গ্রন্থটি বা লেখাটি অথবা লেখককে নিয়ে গভীর মনোযোগ বা মনোসংযোগ দাবি করে কি?

যে পাঠক খুব বুদ্ধিমান দাবি করেন নিজেকে, ওপর চালাকি থেকে যা খুশি বলে বসবেন এবং অপর পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইবেন প্রশ্ন তিনি নিজে কি মনোযোগ সহকারে বিষয়ে দৃষ্টিপাত করেছিলেন না কি খিস্তিখেউর করার মতো অথবা অশ্লীলতা আমদানির মোহ তাকে যেভাবে পেয়ে বসে; কোনো রুচিবান লেখক কিংবা পাঠক সব শব্দ লিখতেও পারেননা বলতেও পারেননা।

তবে এক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন উদাহরণ আসতেও পারে। ম্যান টু ম্যান ভেরি করে বটে।

এটা এমন কিছুই না’ বলে মন্তব্য করলেন সে ভদ্রলোক। যিনি এতক্ষণ একজন লেখকের আক্রমণের কেন্দ্রে ছিলেন। তাঁর বাবাকেও কথা শুনতে হয়েছে সে সমালোচকের। অথবা সে সমালোচক একজন কবির বাবাকেও তাঁর লেখায় আক্রমণ করে কথা বলেছেন। কবির সম্পর্কে কঠিন কঠিন সব মন্তব্য করেছেন অবশ্য এজন্য সে সমালোচকও কম সমালোচিত হননি। অনেকেই সমালোচক সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করেছে। সংযম, স্থানকালপাত্র জ্ঞান জরুরি বলেছেন অনেকে। আশ্চর্যের ব্যাপার এওই ভদ্রলোক মন্তব্য করলেন ‘এটা এমন কিছুই নয়। জীবনানন্দের ‘বোধ’ কবিতাকে সজনীকান্ত ‘গোদ’ বলেছেন। জীবনানন্দ কি হারিয়ে গেছেন?’

এ মুহূর্তের জন্যে জরুরি মানুষকে বড় করে দেখতে পারা। আমাদের জন্য বড় সম্পদ ‘মানুষ’সব মানুষ যদি তাঁকে চিনে জানে অনুশীলন করে মন নরম হবে। মানুষকে মান্য করবে। ভালোবাসবে। মানুষকে ভালোবাসতে পারা তার চেয়ে মৌলিক কোনো সত্য নেই। আর তখন হয়তো ‘যখন তুমি অন্যের কাছে ভালো হও তখন তুমি নিজের কাছে হও সবচেয়ে বড়।’ ভদ্রলোক বলতে লাগলেন মানবতাবাদী লোকদর্শন অনুশীলন করতে হবে। শুধুমাত্র জন্ম, জন্মস্থান, জন্মবর্ণ এবং জন্মকালের কারণে একটা মানুষ থেকে আরেকটা মানুষ আলাদা হতে পারে না। আমাদের মানুষ বারংবার মানুষকে ভজতে বলেছেন। মানুষের সাথে গাঁথা আছে মানুষ। মানুষকে ভক্তি ভালোবাসা না দিলে কোনো সাধনই সিদ্ধ হয়না। সহজ মানুষের মধ্যেই দয়াময় বসবাস করেন

মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।

মানুষ ছাড়া ব্যাপারে তুই মূল হারাবি॥

এ সব আসলে আমার একান্ত কল্পনা প্রসূত কথা। এই সবের সঙ্গে কোনো চরিত্রের মিল নাও থাকতে পারে। অথবা এমন হতে পারে সে ভদ্রলোক পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে কাঁধে ব্যাগ বা থলে নিয়ে চউক ভবন চত্ত্বর হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক (পুরনো) হয়ে লালদিঘী হয়ে চেরাগী পাহাড়ের চত্বরে হেঁটে বেড়ান। অমল তলায় বসে প্রিয় অমলদা সহ অনেকের সঙ্গে আড্ডা মারেন। আর তখন শিল্পী শুভময় তাঁর দুএকটা পোর্ট্রেটও করেন। সমালোচক বাবুর ইদানিং খুব নাম ডাক শোনা যায়। একের পর এক বই বের হতে চলেছে।

অথবা শরৎ বন্দনা করি যে মানুষ বিশাল এক শোক মিছিল। বিকাল ৩:১৫ মিনিট, অশ্বিনী দত্ত রোডের বাড়ি থেকে শরৎচন্দ্রকে শোক মিছিল করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেওড়াতলা শ্মশানে। মরদেহে অগ্নিসংযোগ করা হয় বিকাল ৫:৩০ মিনিটে। মহাকাল শরৎচন্দ্রকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি পাকিয়ে নিয়ে চলেছে……..। এটিও একটি এপিসোড বটে। এ সব কথায় কার কী এসে যায় !

কল্পনা’ বলে তো একটা কথা আছে। কল্পনায় আমি এসব কথা রচনা করতে পারি। মনের সুখে গান করতে পারি

ও মানুষ মানুষ রতন

আছে যার মনের মানুষ তোলা

অতি নির্জনে বসে বসে করছে খেলা………….’

আসলে হচ্ছেটা কী? এ প্রশ্ন আমি আপনি আমরা যে কেউ করতে পারি। এটা কি গল্পের মতো কিছু হচ্ছে? নাকি প্রবন্ধ? ……. একটি সংশ্লেষি ক্ষমতা কি দাবি করে এ লেখা? কবিতার মতো চরণও আছে বটে। কল্পকাহিনী? দর্শন? এটি নীতিবাক্যের মতো কিছু কি?

আমি সরলভাবে বলি যে, আমার একজন প্রতিবেশি লেখক, সম্পাদক, কবিকে নিয়ে অপর একজন লেখক যাঁকে কখনও কখনও আমি আবেগে ভালোবাসায় ‘……. ও দাদা’ সম্বোধন করি……। তিনি এমন কঠিনভাবে আমার প্রতিবেশিকে আক্রমণ করেছেন আমার কাছে বিষয়টা খারাপ লেগেছে সে খারাপ লাগার বিষয়টাকে আমি আঁকতে চেয়েছি।

সুপ্রিয় এও ভাবে আসলে লেখাটাকে বাস্তব ঘনিষ্ঠ করে সোজা সোজা কথায় প্রকাশ করলে কি হতো না? এখানে আক্রান্ত কবিকে একটা শিরোনাম দিয়ে তাঁর কবিতা কর্মকে আমরা উপস্থাপন করতে পারি কল্পনায় পাওয়া কবি ও কবিতা, কবি কুমারেশ দাশ’র কবিতা

সে একসময় খুব একটা যায়নি দূরে পাশের ঘরে ওই বন্ধ টিভিটার মতো চুপচাপ একশো আটটি

চ্যানেল এক মহাকাব্যিক পর্বাকারে অথবা কাঁচ ঢাকা ওয়াল বুকর‌্যাক;

হতে পারে আভেনও ! সুপ্ত কিংবা গুপ্ত অগ্নিযজ্ঞ।

আমাকে দেখায়, শোনায়, পোড়ায় নিয়ত নিবিড় সতত।’

কথায় কথায় রেগে যান কবি। কিন্তু কেন? প্রথম পাঠে তাঁর কবিতা পাঠককে নিরুৎসাহিত করতে পারে কি? এ গল্পে আমি সুপ্রিয়ও একটি ছায়া চরিত্র হয়ে বিরাজমান থাকতে চাই। আমি বলছি কবি আমার প্রতিবেশি। আমি ভাড়াটে তিনি বাড়িওয়ালা। কবি কি অহর্নিশ কবিতা যাপন করেন? আমি চাই কবি কুমারেশ দাশ খ্যাত হোন। অন্য কোন একটি লেখায় লিখেছিলাম তাঁকে নিয়ে – ‘কবিতাই হোক আপনার ধ্যানজ্ঞান।’

এবার সমালোচক সম্পর্কে আমার রয়েছে অন্যরকম ভালোবাসা। তিনিও একদা আমার প্রতিবেশি ছিলেন। তাঁর পরিবারে আমার অবাধ যাতায়াত ছিলো। তাঁর সন্তানের আমি শিক্ষকও ছিলাম। তাঁর একমাত্র পুত্রসন্তান। খুব মেধাবী বলবো। তাঁর একমাত্র মেয়ের বিয়েতে আমি কুমিল্লায়ও গিয়েছিলাম। তাঁরওতো একটা নাম হতে হয়। কল্পনা থেকে পাওয়া নাম অমরেশ শুক্ল দাশ। তাঁর রচনার কিছু অংশ কি উপস্থাপন করবো? অন্য সময় হবে।

কীভাবে লিখলে বা লিখতে পারলে আমাকে আমি আঁকতে পারবো! কীভাবে আমাকে প্রকাশ করতে পারবো! যাকে বলে সত্যিকারের প্রকাশ। যেখানে কোনো চালাকি থাকবে না। থাকবে শুধু নির্মল আনন্দ। যাকে বলে কেবলি ভালোবাসার প্রকাশ। আমি একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে পেরেছি কি? আমার দেখার মানুষেরা কবিতার মানুষেরা বা কবি হয়ে ওঠার শক্তিমত্তার ভেতর যে সৌন্দর্য তার ছটা থেকে যে ছবি যে ছবির ভেতর আমার একজন প্রিয় কবির অসামান্য সুন্দর চরণ কানে আসে

গভীর অন্ধকারের ঘুমের আস্বাদে

আমার আত্মা লালিত;

আমাকে কেন জাগাতে চাও?

হে সময়গ্রন্থি, হে সূর্য, হে মাঘনিশীতের কোকিল, হে স্মৃতি,

হে হিম হাওয়া

আমাকে জাগাতে চাও কেন।’ পৃথিবীর লেখকেরা মহাপ্রয়াণের আগে হলেও জেগে উঠবে এবং হয়তো ভাববে এবং ভাববে আমার লেখায় কি সুর আছে? স্বর আছে? আছে কি রস? ছন্দ? স্বকীয়তা? তাকিয়ে দেখার আনন্দ আছে কি?

আশি বৎসরের সন্তু কেন লিখলেন

রূপনারাণের কুলে

জেগে উঠিলাম

জানিলাম এ জগৎ

স্বপ্ন নয়।

রক্তের অক্ষরে দেখিলাম

আপনার রূপ

চিনিলাম আপনারে

আঘাতে আঘাতে

বেদনায় বেদনায়;

সত্য যে কঠিন,

কঠিনেরে ভালোবাসিলাম,

সে কখনো করেনা বঞ্চনা।

আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা এ জীবন,

সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে,

মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে।’

এখানে তো কোনো গল্প নেই। বিশেষ কোনো চরিত্রও নেই। গল্পের যে একটি প্লট দরকার। যে প্লটের উপর গল্প দাঁড়াবে……. আর তার কাছে গিয়ে অথবা লোকমুখে তার স্তুতি শোনা যাবে।

সুপ্রিয় বলছে, আমি যখন জার্নি করি মানুষের মুখের দিকে তাকায়, তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবি ভাবনার ভেতর দেশ আসে। আসে দেশের মানুষজন। মানুষজনের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে ‘অন্য মানুষ’। একজন গল্পকার তাঁর উপন্যাসের নাম দিয়েছেন ‘অন্যজন’; সেই অন্য মানুষ আমাকে বলে, একান্ত করে বলে তোর এই ‘সোনার বাংলাদেশ’ কতো সোনার মানুষের জন্ম দিয়েছে তাদেরকে গল্পের চরিত্র করে নিলেইতো হয়

তখন সুপ্রিয়’র একটি মেয়ের কথা মনে আসে মেয়েটি কে? কী পরিচয় মেয়েটির? মেয়েটির কথা লিখি কী করে? কী করেই বা মেয়েটির কথা বলি মেয়েটিকে কি আমি দেখেছিলাম? এ সময় আমার ভেতরের প্রেমিকটি জেগে উঠে এবং বলে তুই তো লক্ষ্মীছাড়া …….. তুই তো পারলিনা মেয়েটিকে তোর করে নিতে। অথচ তুই চাইলেই পারতিস মেয়েটির হাত ধরে দাঁড়াতে। আমার ভেতরের প্রেমিকটি তখন কবিতে রূপান্তরিত হন

তোমারে পেয়েছিনু যে, কখন হারানু অবহেলে,

কখন ঘুমাইনু হে, আঁধার হেরি আঁখি মেলে।

বিরহ জানাইব কায়, সান্ত্বনা কে দিবে হায়,

বরষ বরষ চলে যায়, হেরি নি প্রেমবয়ান

দরশন দাও হে, দাও হে দাও, কাঁদে হৃদয় ম্রিয়মান ॥’

আমার গল্পটিকে আমি এখানেও সমাপ্ত করতে পারি। কেউ কেউ বলবে আপনার গল্পতো এরকমই। গল্পে ঠিক মতো প্লট থাকে না। কী সব আপনি লিখে যান বটে…….

আর তখন ইতিহাসের মেয়েটি আমার সঙ্গে হাঁটে, হাঁটতে হাঁটতে আমার দিকে তাকায় আর কী সুন্দর তাঁর হাসি তাঁর দিকে তাকাতে তাকাতে আমি পাঠ করি – ‘বাংলার ঘরে ঘরে মায়ের জাতিও এবার যে শক্তির খেলায় মেতেছে সেই অধ্যায় আজও অলিখিত রয়ে গেছে। তোমার সাফল্যে বা তোমার আত্মদানে সে অধ্যায় রচিত হয়ে উঠুক এইই আমি চাই। ইংরেজ জানুক, বিশ্বজগৎ অবলোকন করুক যে, এ দেশের মেয়েরাও আজ আর পিছিয়ে নাই।’

আর চোখ জলে পূর্ণ হয়ে উঠে। ফোঁটা ফোঁটা জল কপোল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে আমার ! মেয়েটি তাঁর নরম হাত দিয়ে আমার চোখের পানি মুছে দেয়। আমি ভাববিহ্বল হয়ে তাঁর পানে তাকিয়ে থাকি আর কতোকাল পরে এ প্রেমিক চোখের পানিতে ভাসতে ভাসতে মেয়েটিকে নিয়ে ভাবছে – ‘যাকে নিজ হাতে বীর সাজে সাজিয়ে সমারঙ্গনে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম, নিশ্চিত মৃত্যুর কোলে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুমতি দিয়ে এসেছিলাম, তাঁর স্মৃতি যে পনের দিনের মধ্যে এক মুহূর্ত ভুলতে পারলাম না। সাজিয়ে দিয়ে যখন করুণভাবে বললাম, ‘তোকে এই শেষ সাজিয়ে দিলাম। তোর দাদাতো তোকে জীবনে আর কোনদিন সাজাবে না,’ তখন প্রতিমা একটু হেসেছিল। কি করুণ সেই হাসিটুকু। কত আনন্দের, কত বিপদের, কত অভিমানের কথা তার মধ্যে ছিল।

সে তো নিজ হাতে অম্রত পান করে অমর হয়ে গেছে। কিন্তু মরজগতে আমরা তার বিসর্জনের ব্যথা ভুলতে পারছি না। আজ বিজয়ার দিনে, সেদিনের বিজয়ার করুণ স্মৃতি যে মর্মে মর্মে কান্নার সুর তুলেছে। ”

আমি কী করছি এসব? গল্প কি এরকম হয়? কোন গল্প আমি লিখতে চাইছি ! এ গল্পের চরিত্রের নাম কী হবে? এ যে কথাগুলো কাকে নিয়ে কে বলছে? জীবন উৎসর্গকারী কোন বিপ্লবী কি বলেছে ! মেয়েটিই বা কে? ‘সে তো নিজ হাতে অমৃত পান করে অমর হয়ে গেছে।’ মেয়েটিকে নিয়ে আরো কথা লিখা যেতে পারে। আমার নাম সুপ্রিয় এ গল্পের একটি চরিত্র বটে………..

তিন

সুপ্রিয় এ গল্পের চরিত্র হয়ে কী করবে? সুপ্রিয় কি দুই বাঙালি পুত্রের ঝগড়া থামাতে পারবে? সুপ্রিয় কি দুই বিপ্লবীর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে পারবে? বিপ্লবীদের কার কী নাম হবে? একজনের নাম তবে ‘সূর্যপুত্র’, অপরজনের নাম হোক ‘স্নিগ্ধকন্যা’। স্নিগ্ধকন্যাকে নিয়ে সুপ্রিয় বলে, তোমার জন্যে শিল্পী শুভময় ছবি আঁকে। একটানে তোমাকে আঁকে। তুমিও কি ধলঘাটের মেয়ে? হে বীর চট্টগ্রামের মেয়ে জন্মান্তরের ভেতর দিয়ে এসেছো কি? বাংলাদেশে? সুপ্রিয় স্নিগ্ধকন্যাকে নিয়ে লিখে চলে

স্নিগ্ধকন্যা স্নিগ্ধকন্যা

তুমি হলে আনন্দের বন্যা

স্নিগ্ধকন্যা স্নিগ্ধকন্যা

সুন্দর তোমার মন

ভালেবাসায় পূর্ণ মন

স্নিগ্ধকন্যা লিখ তুমি কী সুন্দর

ভোরের শিশিরে ভাসে মন

সকালের রৌদ্রে ভাসে মন

মধ্যাহ্নের খরতাপেও হাসে মন

অপরাহ্নের গল্পবেলায় গল্পের নাও ভাসাও………

রাত্রির নীরবতায় কী সুন্দর তুমি জেগে থাকো……….

আমি সুপ্রিয় তোমাকে বলি, ‘প্রথম প্রেম’ তো তোমার প্রথম বই; দ্বিতীয় বইটির নাম ‘ধারা সরস্বতী’ নাকি ‘নীলাঙ্গুরীয়’ নাকি ‘মহাপ্রস্থানের পথে’ নাকি অন্যকোন নাম হবে………..। স্নিগ্ধ কন্যা কাতর স্বরে বলে উঠে হ্যাঁ বন্ধু, সূর্যপুত্রের কথা ভাবি আমি। তাঁর চেতনাকে নিয়ে যেতে চাই অনেক দূর……….

চার

আহারে গল্পে ‘ময়ূরপঙ্খী’ ‘সারারাত ছুটিয়া ছুটিয়া ভোরে রাঙ্গা নদীর জলে গিয়া পড়িল। রাঙ্গা নদীর চারিদিকে কূল নাই, কিনারা নাই, কেবল রাঙ্গা জল। সুপ্রিয় ভাবে আহা এ জলে কী ‘কর্ণফুলীর জল মিশে আছে! কর্ণফুলীর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বোয়ালখালী নাকি বোয়ালখালীর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কর্ণফুলী ! কর্ণফুলী হাসতে হাসতে বলে আমি তো তোর বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে চলি………. আমার বুকে কতো সাঁতার তুই কেটেছিলি………

পাঁচ

পৃথিবীর যেখানে যে আছ ভগবান

সুপ্রিয়’র তরে দিলাম এই দুর্বা ধান’

সুপ্রিয় লিখেতোমাদেরকে ভালোবাসি আমি। অমরেশ দাদা, কুমারেশ দাদা, সূর্যপুত্র, স্নিগ্ধকন্যা, শিল্পী শুভময়, আর ভালোবাসার অমল দাদা আর কর্ণফুলী পাড়ের মানুষজন, ভালোবাসি, ভালোবাসি আমি তোমাদের………..। তোমাদেরকে নিয়ে একটি সুন্দর গল্প কি আমি লিখতে পারবো ! কোনোদিন?

x