৯০ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি

সোমবার , ১৯ আগস্ট, ২০১৯ at ৯:১১ পূর্বাহ্ণ
581

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে; যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সর্বশেষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সবমিলিয়ে ৯০ হাজার ২৮০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ পূর্তির কারণে আসল এবং সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪০ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। এ হিসেবে নিট বিক্রির পরিমাণ হচ্ছে ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
সরকার প্রতিবছর সঞ্চয়পত্রকে বাজেটের ঘাটতি অর্থায়ন পূরণের অন্যতম উপায় হিসেবে বিবেচনা করে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় পরে তা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু অর্থবছর শেষে দেখা যায়, সেই ধার গিয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে। খবর বিডিনিউজের। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। এবার সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের লক্ষ্য কম ধরা হয়েছে। তবে ব্যাংক থেকে ধার করার লক্ষ্যমাত্রা বেশ বাড়ানো হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ায় পরে সেই লক্ষ্য কমিয়ে ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। বর্তমানে ব্যাংক আমানতে সুদের হার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে। অন্যদিকে বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের সুদ হার ১১ থেকে ১২ শতাংশের মত। তবে বেশি সুদ পাওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে খুব বেশি আশার খবর না থাকায় সামপ্রতিক বছরগুলোতে সঞ্চয়পত্রই সাধারণ নাগরিকদের কাছে বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত বলেন, ব্যাংকে আমানতের সুদের হার কমায় এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দার কারণে সবাই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকেছেন। তবে মুনাফার ওপর করের হার বাড়ালেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি খুব একটা কমবে না বলে জানান তিনি।

x