৮৮ ভাগই শহরের, পার্বত্য অঞ্চলে যেন সোনার হরিণ!

জিপিএ-৫

রতন বড়ুয়া

শনিবার , ২১ জুলাই, ২০১৮ at ৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ
68

এবারের (২০১৮ সালের) এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে জিপিএ৫ অর্জন করেছে মোট ১ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২০ জনই মহানগরের। যা মোট জিপিএ৫ ধারীর ৮৮ শতাংশ! আর ৫ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে জিপিএ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৯৩ জন। অর্থাৎ মহানগরীর বাইরে জিপিএ৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীর হার মাত্র ১২ শতাংশ। গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়মহানগরীর বাইরে শুধু চট্টগ্রাম জেলায় জিপিএ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩৯ জন। এছাড়া কঙবাজার জেলায় ৩৮ জন, বান্দরবান জেলায় ১১ জন, খাগড়াছড়ি জেলায় ৪ জন ও রাঙামাটি জেলায় মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ৫ পেয়েছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়জিপিএ৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে করুণ চিত্র তিন পার্বত্য জেলায় (বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি)। এই তিন জেলায় সব মিলিয়ে মাত্র ১৬ জন শিক্ষার্থী এবার জিপিএ৫ পেয়েছে। যা মোট জিপিএ৫ ধারীর ১ শতাংশও নয় (মাত্র ০.৯৮ শতাংশ)। শুধু এবছরই নয়, জিপিএ৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পার্বত্য অঞ্চলের এই চিত্র যেন বরাবরই ধারাবাহিক। গতবার (২০১৭ সালে) মোট ১ হাজার ৩৯১ জন জিপিএ৫ ধারীর মধ্যে এই তিন জেলায় জিপিএ৫ পায় মাত্র ১৮ জন। যা মোট জিপিএ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মাত্র ১.৩১ শতাংশ।

আইসিটি ও ইংরেজির পাশাপাশি বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকাসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও সংকটের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বরাবরই পিছিয়ে থাকছে বলে মনে করেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। আর এসব সীমাবদ্ধতার কারণেই প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর শিক্ষার্থীদের জিপিএ৫ পাওয়াটা অনেক কঠিন বলেও মন্তব্য করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

একই মত শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলামেরও। তিনি মনে করেনশহরে শিক্ষকের ছড়াছড়ি। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের চিত্র ঠিক এর বিপরীত। খুব নাজুক বলা যায়। আর পার্বত্য অঞ্চলে তো কথাই নেই। ইংরেজি, আইসিটি এবং বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে দক্ষ বা যোগ্য শিক্ষক গ্রামাঞ্চলে খুঁজে পাওয়াই তো কঠিন। আর ভালো শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীরা শিখবে কোথা থেকে। তাই জিপিএ৫ প্রাপ্তির কথা বাদ দিয়ে এসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাসের হারই খুব শোচনীয়। যারা পাস করে, তারা কোন রকমে পাস করছে। এমন শোচনীয় পরিস্থিতি থেকে উত্তারণে এসব অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন সংকটের আশু সমাধান জরুরি। তাছাড়া ছেলেমেয়ের পড়ালেখাসহ সব বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম।

শিক্ষাবোর্ডের তথ্য মতেগতবার মোট ১ হাজার ৩৯১ জন জিপিএ৫ ধারীর মধ্যে ১ হাজার ২০৪ জনই মহানগরীর। শতকরা হিসেবে যা ৮৬.৫৫ শতাংশ। হিসেবে মহানগরীর বাইরে জিপিএ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর হার মাত্র ১৩.৪৫ শতাংশ। মহানগরীর বাইরে শুধু চট্টগ্রাম জেলায় গতবার জিপিএ৫ পায় ১৩১ জন। এছাড়া কঙবাজার জেলায় ৩৮ জন, খাগড়াছড়ি জেলায় ১০ জন, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলায় ৪ জন করে শিক্ষার্থী জিপিএ৫ পায়।

x