৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পৌরকর আদায় চসিকের

মোরশেদ তালুকদার

সোমবার , ১ জুলাই, ২০১৯ at ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
67

বিদায়ী অর্থ বছরে (২০১৮-২০১৯) লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৪০ শতাংশ পৌরকর আদায় করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। যা সর্বশেষ সাত অর্থ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অবশ্য বিগত ২৪টি অর্থ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ (৪৬ দশমিক ২৮ শতাংশ) পৌরকর আদায় হয়েছিল ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে।
চসিকের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী অর্থ বছরে আদায় হওয়া পৌরকরের পরিমাণ ১৩৩ কোটি ৫৪ লাখ ৩৩ হাজার ১৬১ টাকা। এর মধ্যে সরকারি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ৬৯ কোটি ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৮ টাকা এবং বেসরকারি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬৪ কোটি ৩৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫২৩ টাকা। বিদায়ী অর্থ বছরে আদায় হওয়া পৌরকর তার পূর্বের (২০১৭-২০১৮) অর্থ বছরের তুলনায় ১৫ কোটি ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪২ টাকা বেশি। ওই অর্থ বছরে আদায় হয়েছিল ১১৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪১ টাকা।
নগরীতে সরকারি-বেসরকারি হোল্ডিং আছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৫৩৯টি। এর মধ্যে সরকারি এক হাজার ৫১৫টি এবং বেসরকারি হোল্ডিং সংখ্যা এক লাখ ৮৪ হাজার ২৪টি। সরকারি-বেসরকারি হোল্ডিংগুলোর বিপরীতে বিদায়ী অর্থ বছরে পৌরকর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩৬ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৪৪৬ টাকা। এরমধ্যে সরকারি খাতে ২০১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৩ হাজার ৬১৮ টাকা এবং বেসরকারি খাতে ১৩৪ কোটি ৪৩ লাখ ২৬ হাজার ৮২৮ টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল।
এদিকে বিদায়ী অর্থ বছরে তার আগের অর্থ বছরের (২০১৭-২০১৮) তুলনায় বেশি পৌরকর আদায় হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম। তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘বিভিন্ন কর্মকৌশল নির্ধারণ করে সেটা বাস্তবায়ন করেছি। এতে আগের বছরের তুলনায় বেশি পৌরকর আদায় হয়েছে। ট্যাক্স কালেক্টরদের সরাসরি মনিটরিং করেছি, সার্কেল অফিসারদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে কর্মকৌশল ঠিক করে সেটা পূরণে কাজ করেছি। বড় বড় খেলাপি যারা ছিলেন তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগসহ নানা কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে চেষ্টা ছিল আদায়ের হার বাড়ানো।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চসিকের নিজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান খাত পৌরকর আদায়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ উন্নয়ন কাজে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ম্যাচিং ফান্ডের যোগান দিতে হয় চসিককে। এই অর্থের সংস্থানে রাজস্ব আদায়ের উপর নির্ভর করতে হয়। ফলে পৌরকর আদায়ে বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল চসিক। সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ‘হোল্ডিং ট্যাঙ আদায় পক্ষ’ উদ্‌যাপন করা হয়। এছাড়া গত সপ্তাহে সরকারি ছুটির দিনেও পৌরকর আদায়ে খোলা ছিল সার্কেল অফিস। এর আগে সরকারি খাতের পৌরকর আদায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশন অ্যাক্ট ২০০৯ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে চসিক মোট ১৭ শতাংশ পৌরকর আদায় করে থাকে। তার মধ্যে ৭ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাঙ (গৃহকর), ৩ শতাংশ বিদ্যুতায়ন রেইট এবং ৭ শতাংশ আর্বজনা অপসারণ রেইট রয়েছে। অবশ্য ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি জারিকৃত সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৭ শতাংশ গৃহকরের পাশাপাশি ৭ শতাংশ আর্বজনা রেইট, ৫ শতাংশ বিদ্যুতায়ন বা সড়কবাতি রেইট এবং ৮ শতাংশ স্বাস্থ্য রেইট আদায়ের ক্ষমতা আছে প্রতিষ্ঠানটির।

x