৭ উপজেলায় পাওয়া গেছে জমি বাকি উপজেলায়ও খোঁজা হচ্ছে

‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণ ।। জমি সংক্রান্ত তথ্য ঢাকায় পাঠিয়েছে ডিসি অফিস

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৮ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ
456

‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার মধ্যে ৭টিতে জমি মিলেছে। ৭ উপজেলায় জমি পাওয়ার তথ্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। দুই দফায় পাঠানো প্রস্তাবের মধ্যে প্রথম দফায় ৫টি ও দ্বিতীয় দফায় গতকাল মঙ্গলবার ২টি উপজেলার জমির প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিটি স্টেডিয়াম ৩ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ফটিকছড়ি, সীতাকুন্ড, সন্দ্বীপ, হাটহাজারি, চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া ও আনোয়ারা উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম করার জন্য জমি পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন অফিসের এ সংক্রান্ত চিঠি ঢাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ মঙ্গলবার পাঠানো হয়েছে রাঙ্গুনিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার জমির প্রস্তাব। বাকি ৭ উপজেলায়ও জমি খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। একই ধরনের নকশার প্রতিটি স্টেডিয়ামে থাকবে খেলোয়াড়দের একটি ড্রেসিং রুম, অন্যটি অফিস কক্ষ। মাঠের এক পাশে থাকবে একটি একতলা ভবন। সেখানে দুটি ড্রেসিং রুম, একটি অফিস রুম এবং নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা ৩টি করে ৬টি টয়লেট থাকবে। ভবনের সামনে ৩৫টি আরসিসি বেঞ্চ থাকবে। বাকিটা খোলা। স্টেডিয়ামগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রেমীরা বলেছেন, নগরায়নসহ বিভিন্ন কারনে প্রতিনিয়ত যে হারে খেলার মাঠ কমছে, তাতে আগামীতে শিশু কিশোররা ‘খেলার মাঠ’ নামটিও ভুলে যেতে পারে। তাই সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।
প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩১টি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৪৯০টি উপজেলায় নির্মাণ করা হবে স্টেডিয়াম। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সংস্কৃতি চর্চায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করে এসব স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই প্রকল্প বাস্তবায়নে জমির ব্যবস্থা করার জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি আসে। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ১৪ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় জমির তফসিলসহ তথ্য দিতে চিঠি পাঠান। গত ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, হাটহাজারী ও চন্দনাইশ উপজেলায় ৩ একর করে জায়গা নির্ধারণ করে তথ্য পাঠান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে। গতকাল আনোয়ারা ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার জমির তথ্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, ১৪ উপজেলায় একটি করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর আলোকে ইতোমধ্যে পাওয়া সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোর জমির তথ্য আমরা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, হাটহাজারী উপজেলায় ডাক ও তার বিভাগের পরিত্যক্ত একটি জায়গার তথ্য পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসন অফিসে।
তথ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়ি উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সেখানে ৩ একর জমি পাওয়ার কথা অবহিত করে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখাকে। এছাড়া সীতাকুন্ডে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ৬ দশমিক ৩২ একর, হাটহাজারিতে ২ একর, চন্দনাইশে ২ দশমিক ৯৫ একর, সন্দ্বীপে ৪ দশমিক ৭০ একর, রাঙ্গুনিয়ায় ৪ দশমিক ৬৯ একর ও আনোয়ারায় ৫ দশমিক ২৯ একর জায়গার প্রস্তাব পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। এসব প্রস্তাব জেলা প্রশাসন অফিস থেকে আবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
হাটহাজারি উপজেলায় স্টেডিয়াম স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত জায়গা ডাক ও তার বিভাগের এবং রাঙ্গুনিয়ার জমি বিদ্যুৎ বিভাগ দিয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি উপজেলাগুলোতে পাওয়া জায়গাগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন। এ কারনে এসব জমি যথানিয়মে অধিগ্রহণ করা হবে বলে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মুহাম্মদ শুকুর আলী জানান, স্টেডিয়াম নির্মাণের ক্ষেত্রে একনেকের অনুশাসন মতে এ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির জন্য স্কুল-কলেজের মাঠ নির্বাচন করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাস জমি নির্বাচন করতে বলা হয়। তবে প্রয়োজনীয় খাস জমি পাওয়া না গেলে ক্ষেত্র বিশেষে কিছু জমি অধিগ্রহণ করা বা ব্যক্তি মালিকানাধীন দানকৃত জমিতে স্টেডিয়াম নির্মাণ করার নির্দেশনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জমি দাতার নাম নামফলকে ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ নামের নীচে উল্লেখ করা যাবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

x