৭৫ বছর পর দেখা

শুক্রবার , ১৪ জুন, ২০১৯ at ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ
40

১৯৪৪ সালে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কেটি রবিন্স পূর্ব ফ্রান্সের ব্রায়িতে একটি রেজিমেন্টে নিযুক্ত ছিলেন। জার্মানির দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সে সময় জোট বেঁধে লড়াই করছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। ফ্রান্সের সেই ঘাঁটিতে থাকাকালীন তরুণ রবিন্স ১৮ বছর বয়সী ফরাসি মেয়ে জেনেই পিয়ারসন নি গেনেইয়ের প্রেমে পড়েন।
তবে তাদের দেখা হওয়ার দুই মাসের মধ্যে পূর্ব ফ্রন্টের উদ্দেশ্যে কেটি রবিন্সকে তাড়াহুড়া করে গ্রাম ছেড়ে যেতে হয়। একজন আরেকজনের থেকে আলাদা হওয়ার সময় তারা ভাবছিলেন তাদের আবার দেখা হবে কিনা। কেটি রবিন্স পরে জেনেইয়ের একটি ছবি তার কাছে রেখে দেন।
তারপর দীর্ঘ ৭৫ বছর পেরিয়ে যায়। তাদের দেখা হয়নি ঠিকই, কিন্তু জেনেইয়ের শেষ স্মৃতি হাতছাড়া করেননি রবিন্স। এরপর একদিন ফ্রান্সের একদল সাংবাদিক বিশেষ প্রতিবেদনের কাজে রবিন্সের সাক্ষাৎকার নিতে আসেন। সে সময় ফ্রান্সের সাংবাদিকরা যুক্তরাষ্ট্রের ভেটেরান অর্থাৎ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন। তাদের সঙ্গে দেখা হতেই ফ্রান্সের প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স-টু এর সাংবাদিকদের জেনেইয়ের সেই ছবিটি দেখান রবিন্স। বলেন, তিনি ফ্রান্সে ফিরে গিয়ে জেনেইকে না হলে তার পরিবারকে খুঁজে বের করতে চান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে এই সাক্ষাতের কয়ে়ক সপ্তাহ পরেই রবিন্স ডি-ডে ল্যান্ডিং অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া নরম্যান্ডি ল্যান্ডিংয়ের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফ্রান্সে যান। তিনি ভাবতেও পারেননি তার জন্য কত বড় বিস্ময় অপেক্ষা করছে।
রবিন্সকে চমকে দিতে ফ্রান্সের ওই সাংবাদিকরা আগে থেকেই সেই নারীকে খুঁজে বের করেন। এরপর মুখোমুখি করেন দুজনকে। রবিন্সকে সাংবাদিকরা নিয়ে যান সেই রিটায়ার হোমে। সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন গেনেই। দীর্ঘ ৭৫ বছর পর দেখা হতেই তারা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করেন। সেই সময় রবিন্সের পরনে ছিল সামরিক পোশাক আর জেনেই কালো পোশাকে নিজেকে সাজিয়েছিলেন পরিপাটি করে।
পরে গেনেই সাংবাদিকদের বলেন, তিনি সবসময় রবিন্সের কথা মনে করতেন। আশা করতেন, একদিন রবিন্স নিশ্চয়ই ফিরে আসবে। নিজেদের আলাদা হওয়ার মুহূর্তটি নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে স্মৃতিচারণ করেন তিনি। তিনি বলেন, রবিন্স যখন ট্রাকে করে ফিরে যাচ্ছিল, আমার মন এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে, আমি ভীষণ কাঁদছিলাম। আমি আশা করেছিলাম যুদ্ধ শেষে সে হয়ত আর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবে না। তবে বাস্তবে এই দীর্ঘ সময়ে তাদের একবারের জন্যও দেখা হয়নি। এ নিয়ে আক্ষেপের কথাও জানান গেনেই। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, রবিন্স এতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কেন ছিল? আমার কাছে আরও আগে কেন ফিরে আসেনি? আমি ভাবি, যদি সে আরও আগে ফিরত।
জেনেই পরে বিয়ে করেন। সেই সংসারে তার পাঁচ সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে রবিন্সও বিয়ে করেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। তাদের দুজনই এখন নিজেদের সঙ্গীকে হারিয়েছেন। তারা আশা করেন একদিন তাদের আবারও দেখা হবে। বিদায়ী চুম্বনে এমনটাই আশা করছিলেন দুজন।

x