৭১’ এর রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের মুখে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে উদ্বেলিত তারা

মনজুর আলম, : বোয়ালখালী

সোমবার , ৭ অক্টোবর, ২০১৯ at ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ
18

ওরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, বড়দের মুখে শুনে ও বই পড়ে অল্প-বিস্তর জেনেছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা। আগ্রহ থাকলেও সেভাবে জানার সুযোগ হয়নি কখনো। তাই আজ রণাঙ্গনের একজন বীর কুশীলবকে সরাসরি কাছে পেয়ে খুবই উদ্বেলিত তারা।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর বোয়ালখালী উপজেলাার ঐতিহ্যবাহী ইকবাল পার্ক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি নাড়া দিয়েছে সবাইকে। ডায়াচে বসে আছেন ৭১’এর রণাঙ্গনের স্বপ্নদ্রষ্টা বীরযোদ্ধারা তাদের মুখোমুখি হয়ে বসছেন আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ স্বপ্নবাজ এক ঝাঁক কিশোরী শিক্ষার্থী।
পুরো মিলনায়তন জুড়ে পিনপতন নীরবতা। অন্যদিনের মতই তাদের মাঝে নেই কোন হৈ-চৈ, নেই কোন উল্লাস। বীরমুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম সেলিম শিক্ষার্থীদের সামনে একের পর এক বলে যাচ্ছেন- এক সময় আমরা বিজাতীয় শাসন-শোষণে অতিষ্ঠ ছিলাম, আমরা এর থেকে মুক্তি চাইলাম,আমরা ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রতিবাদ করলাম। আমাদের হাতে উঠে আসলো অস্ত্র।আমরা জীবন দিলাম-জীবন নিলাম,লক্ষ-কোটি প্রাণের বিনিময়ে পেলাম লাল সবুজের একটি “পতাকা” সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা একটি দেশ “বাংলাদেশ” এ ছাড়াও তিনি জাতির জনকের ডাকে সাড়া দিয়ে সেদিন কিভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেন তার কাহিনী তুলে ধরলেন শিক্ষার্থীদের সামনে। এ সময় তিনি বলেন-৭১ এ তোমাদের মত স্কুলের ছাত্র ছিলাম আমি। ড. বি বি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ ম শ্রেণিতে অধ্যায়নের সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ মাতৃকার টানে অল্প বয়সেই অস্ত্র হাতে সেদিন রণাঙ্গনে ছুটে গিয়েছিলাম। জীবনবাজি রেখেই শত্রু মোকাবেলা করে ছিনিয়ে এনেছিলাম স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশ বাংলাদেশ। শিক্ষার্থীরা খুবই তন্ময় হয়ে শুনল তাঁর কথা, মুক্তিযুদ্ধের কথা, সেদিনের বাঙালির সবচেয়ে গৌরবের দিনগুলোর কথা। পরিশেষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ টি এম নাজেমুল হক তাঁর বক্তৃতায় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানার মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীরা সর্বদা ন্যায় ও সত্যের পথে থাকবে এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সদা সচেষ্ট থাকবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে লালন ও ধারণ করে নিজেকে দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলবে । দেশকে ভালোবাসবে। কাজে-কর্মে, চিন্তা ও চেতনায় দেশপ্রেমকে প্রাধান্য দেবে।
এ সময় স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ জাকের, প্রবীণ শিক্ষক দিপুল কুমার নাহা,সিনিয়র শিক্ষক বাদল কান্তি দাশ, পূর্নিমা ঘোষ, মাওলানা নাছির উদ্দিন, তনিমা বড়ুয়া, কোহিনুর আকতার, গোলাম মোস্তফা, জোবাইদা বেগম ও মোঃ করিম সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় শিক্ষকরা জানান মাউশির এ কর্মসূচির ফলে একজন শিক্ষার্থী মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে সরাসরি শুনতে পেরেছে। এতে করে ওই শিক্ষার্থী এর দ্বারা অনুপ্রাণিত হবে। তারা এ গল্প অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেবে। এভাবে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কাছে জীবন্ত হয়ে উঠবে। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি জানালেন এভাবে বড়দের কাছে এতদিন মুক্তিযুদ্ধের ছোটখাটো কিছু ঘটনা শুনলেও কোন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে সামনাসামনি পাইনি কোনদিন। তাঁদের কথা শুনে অনেক ভালো লেগেছে। এগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনে অনেক কাজ দেবে।

x